1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. fatama.ruma007@gmail.com : Fatama Rahman Ruma : Fatama Rahman Ruma
  3. anikbd@germanbangla24.com : Editor : Editor
  4. rafid@germanbangla24.com : rafid :
  5. SaminRahman@germanbangla24.com : Samin Rahman : Samin Rahman

স্লোভেনিয়ার করোনা মহামারি জয়ের উপাখ্যান!

রাকিব হাসান রাফি , স্লোভেনিয়া
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২০ মে, ২০২০
Check for details

মধ্য ইউরোপে অবস্থিত ৭,৮২৭.৪ বর্গমাইলের ছোটো দেশ স্লোভেনিয়া। সর্বশেষ ২০১৮ সালের জনগণনা অনুযায়ী দেশটিতে সব মিলিয়ে প্রায় একুশ লক্ষ লোকের বসবাস। সুউচ্চ আল্পস পর্বতমালা, বিভিন্ন ধরণের হৃদ, ব্রাউন বিয়ার ও স্কি রিসোর্টের জন্য দেশটি পর্যটকদের কাছে এক জনপ্রিয় গন্তব্যস্থল হিসেবে পরিচিত। করোনার ছোবল থেকে নিষ্কৃতি পায় নি ইউরোপের ছোটো ও সুন্দর এ দেশটি তবে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ইতালি কিংবা ইউরোপের অন্যান্য দেশ যেমনঃ স্পেন, ফ্রান্স, বেলজিয়ামের তুলনায় স্লোভেনিয়াতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হার বরাবরই কম। এমনকি মৃত্যুর হার বিবেচনায়ও ইউরোপের অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় স্লোভেনিয়া ছিলো সবচেয়ে নিম্ন অবস্থানে। তবে “স্লোভেনিয়া” এ দেশটি আসলে তেমনভাবে আমাদের দেশের মানুষের কাছে পরিচিত না হওয়ায় আমাদের দেশের গণমাধ্যমগুলোতে স্লোভেনিয়া নিয়ে সে অর্থে তেমন আলোচনা হয় না বললেই চলে।

গত ১৫ই মে, ২০২০ ইউরোপের প্রথম কোনও দেশ হিসেবে করোনা ভাইরাসের এ মহামারি অবস্থার পরিসমাপ্তির ঘোষণা দেয় স্লোভেনিয়া। স্লোভেনিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইয়ানেজ ইনশার পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়, একই সাথে ইউরোপের প্রথম কোনও দেশ হিসেবে মঙ্গলবার ১২ই মে, ২০২০ ইউরোপের প্রথম কোনও রাষ্ট্র হিসেবে সকল ধরণের ফ্লাইট চলাচলের ওপর নিষেধাক্কা প্রত্যাহার করে নেয় স্লোভেনিয়া। এছাড়াও গত ১১ মে থেকে দেশটিতে বাস, ট্রেনসহ সকল ধরণের গণপরিবহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে এবং গত সপ্তাহের সোমবার থেকেই সকল ধরণের রেস্টুরেন্ট, বার, কফিশপকে পুনরায় খুলে দেওয়ার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। স্লোভেনিয়ার অভ্যন্তরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতেও এখন আর কোনও বাধা নেই। আগামী সোমবার ১৮ই মে, ২০২০ থেকে বেশ কিছু শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলে দেওয়া হচ্ছে এবং একই সাথে ২৩ মে, ২০২০ থেকে মাঠে গড়াচ্ছে সকল ধরণের ফুটবল ম্যাচ। মে মাসের শেষের দিকে যথাসময়ে স্টেস্ট মাতুরা এক্সাম অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। স্টেট মাতুরা এক্সামকে আমাদের দেশের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার সাথে তুলনা করা যেতে পারে। worldometers.info কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী গত চব্বিশ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে কেউই এ প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হন নি কিংবা এ চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে এ ভাইরাসের প্রভাবে কোনও ধরণের প্রাণহানিও ঘটে নি। পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসায় প্রতিবেশি দেশগুলোর সাথেও স্লোভেনিয়া সরকার পুনরায় সীমান্ত সংযোগ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় বলা হয়েছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য নয় এমন কোনও দেশের নাগরিক যদি স্লোভেনিয়াতে প্রবেশ করে তাহলে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে ১৪ দিনের কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে তবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের ক্ষেত্রে এ ধরণের বাধ্যবাধকতা রাখা হয় নি।

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে ইউরোপে সবচেয়ে নাজুক অবস্থানে থাকা দেশটি ছিলো ইতালি অথচ এ ইতালির প্রতিবেশি রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে স্লোভেনিয়া সফলভাবে এ প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের মোকাবেলা করলো? কেনোই বা ইউরোপ এমনকি পৃথিবীর অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় স্লোভেনিয়াতে সে অর্থে করোনা ভাইরাসের বিস্তৃতি ঘটে নি? এ সকল প্রশ্নেরই আজ উত্তর খুঁজে বের করার চেষ্টা করবো।

প্রথমত সম্পূর্ণ স্লোভেনিয়া ডিসেন্ট্রালাইজড, পৃথিবীর অনেক দেশের ক্ষেত্রে আমরা যেটা লক্ষ্য করি যে দেশটির অভ্যন্তরে বসবাস করা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা একটি নির্দিষ্ট শহর কেন্দ্রিক। হতে পারে সেটি দেশটির রাজধানী শহর, আবার হতে পারে সেটি দেশটির বৃহত্তম কোনও একটি নগরী। উদাহরণস্বরূপ আমরা আমাদের বাংলাদেশের কথা বলতে পারি। প্রায় সতেরো কোটি মানুষের বসবাস আমাদের বাংলাদেশে যাদের মধ্যে দেড় কোটির উপরে মানুষ বসবাস করে রাজধানী ঢাকায়। আমাদের দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা থেকে আরম্ভ করে যাবতীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যকলাপ সব কিছুই ঢাকাকে ঘিরে। আমাদের দেশের সচেতন যে সকল নাগরিক রয়েছেন বিশেষ করে আমাদের প্রজন্মের লোকজন যারা সবাই একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর ঢাকাতে এসেই স্থায়ী হতে চায়। আবার দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। আয়তনে পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম এ দেশটির জনসংখ্যা প্রায় তেইশ কোটির মতো। ব্রাসিলিয়া দেশটির রাজধানী হওয়া সত্ত্বেও দেশটির মানুষের জীবনযাত্রা অনেকটা সাও পাওলো এবং রিও ডি জেনিরোকে ঘিরে। তাই জনবসতির বিবেচনায় ব্রাজিলের এ দুইটি শহর দেশটির অন্যান্য শহরগুলোর তুলনায় অত্যাধিক ঘনত্ববিশিষ্ট। স্লোভেনিয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি এ রকম নয়, স্লোভেনিয়ার রাজধানীর নাম লুবলিয়ানা যা একই সাথে দেশটির বৃহত্তম নগরী। তবে স্লোভেনিয়ার সাধারণ মানুষের জীবন শুধুমাত্র লুবলিয়ানাকেন্দ্রিক নয়। স্লোভেনিয়ার প্রায় সর্বত্র জনবসতির বণ্টন রয়েছে এবং সমগ্র স্লোভেনিয়া সুউচ্চ আল্পস এবং ডিনারাইডস পর্বতমালা দ্বারা আচ্ছাদিত থাকায় স্লোভেনিয়াতে জনবসতির এ বণ্টন অনেকটা ছড়ানো ছিটানো। স্লোভেনিয়ার প্রত্যেকটি মিউনিসিপ্যালিটি স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং খুব বেশি প্রয়োজন না হলে কারও আসলে এক মিউনিসিপ্যালিটি থেকে অন্য মিউনিসিপ্যালিটিতে যাতায়াতের তেমন প্রয়োজন পড়ে না। এমনকি স্লোভেনিয়াতে আমার বসবাস ভিপাভাতে এবং আক্ষরিক অর্থে ভিপাভা একটি নিভৃত পল্লী অথচ ছোটো এ এলাকাতেই আমার জীবনের সকল প্রয়োজনীয় চাহিদা ভালোভাবে পূরণ করা সম্ভব। করোনা ভাইরসের মহামারি বিস্তার প্রতিরোধে স্লোভেনিয়ার সরকার গত ১৭ মার্চ থেকে সম্পূর্ণ স্লোভেনিয়াকে জরুরি অবস্থায় নিয়ে আসে যার প্রেক্ষিতে বিশেষ অনুমতি ব্যতিরেকে এক মিউনিসিপ্যালিটি থেকে অন্য মিউনিসিপ্যালিটিতে যাতায়ত নিষিদ্ধ করা হলেও ডিসেন্ট্রালাইজড ব্যবস্থার কারণে মানুষের খুব বেশি দেশটির অভ্যন্তরে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে বিশেষ করে লুবলিয়ানা, মারিবোর, ছেলইয়ে, ক্রানিয়ের মতো বড় শহরগুলোতে যাতায়াতের তেমন প্রয়োজন পড়ে নি।

স্লোভেনিয়া উত্তর দিক থেকে অস্ট্রিয়া, উত্তর-পূর্বে -হাঙ্গেরি, দক্ষিণ-পূর্বে ক্রোয়েশিয়া, পশ্চিমে ইতালি এবং দক্ষিণে ভূ-মধ্যসাগরের শাখা আড্রিয়াটিক সাগরের সাথে সংযুক্ত। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে গোটা ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থানে ছিলো ইতালি আর স্পেন এবং এ হিসেবে ইতালির সীমান্তবর্তী স্লোভেনিয় অংশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় থাকার কথা ছিলো অথচ স্লোভেনিয়ার এ অংশে অর্থাৎ পশ্চিম স্লোভেনিয়াতে দেখা যায় যে দেশটির অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় করোনা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে কম। সমগ্র স্লোভেনিয়াতে যখন করোনা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ছুঁই ছুঁই তখনও স্লোভেনিয়ার এ অংশে করোনা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা পঞ্চাশেরও কম। ইতালিতে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করার সাথে স্লোভেনিয়া সরকারের সে সময়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলেস শাবেদার সম্পূর্ণ স্লোভেনিয়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেন।

ঐতিহাসিকভাবে ইতালি এবং স্লোভেনিয়া বিভিন্ন ভাবে একে অপরের সাথে সংযুক্ত। স্লোভেনিয়ার রাজধানী লুবলিয়ানা হলেও প্রকৃতপক্ষে ইতালির ত্রিয়েস্তে ছিলো প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্ববর্তী সময় পর্যন্ত সবচেয়ে বড় শহর ছিলো যেখানে সবচেয়ে বেশী সংখ্যক স্লোভেনিয়ান জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস ছিলো। এছাড়াও স্লোভেনিয়া এবং ক্রোয়েশিয়ার আড্রিয়াটিক সাগরের উপকূলবর্তী এলাকা যেমনঃ কপার, ইজোলা, পোর্তোরস কিংবা ক্রোয়েশিয়ার পুলা অথবা পরেচ এ সকল জায়গায় প্রচুর ইতালিয়ানদের বসবাস রয়েছে। এমনকি এ সকল জায়গায় যারা স্থায়ী হন তাঁদেরকে স্লোভেনিয়ান অথবা ক্রোয়েশিয়ান এবং ইতালিয়ান দুইটি ভাষায় দক্ষ হতে হয় এবং এ সকল জায়গার শিক্ষা-প্ৰতিষ্ঠানগুলোও উভয় ভাষায় পাঠদান করে থাকে। এছাড়াও সাগরের তীরবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এ অঞ্চলগুলোতে সব সময় জনসমাগম থাকে কিন্তু ইতালিতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে না করতে স্লোভেনিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে সর্বপ্রথম এ অঞ্চলগুলোতে মানুষের অবাধ বিচরণ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়। এমনকি সাগরের তীরবর্তী অঞ্চলে মানুষের জমায়েতকে কমিয়ে আনার জন্য স্পেশাল পুলিশ ফোর্স মোতায়ন করা হয়। পাশাপাশি ইউনিভার্সিটি অব প্রিমোরস্কাসহ এ সকল জায়গার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাময়িকভাবে ছুটি ঘোষণা করা হয়।

গত চার মার্চ স্লোভেনিয়াতে সর্বপ্রথম করোনা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত রোগী শনাক্ত করা হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি মরক্কো থেকে ইতালি হয়ে স্লোভেনিয়াতে প্রবেশ করেছিলেন। স্কি স্লোভেনিয়ার একটি জনপ্রিয় খেলা এবং স্লোভেনিয়ার বেশির ভাগ মানুষ স্কির প্রতি আসক্ত। স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে বলা হয় স্লোভেনিয়াতে সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে যাদের শরীরে কোভিড-১৯ পজিটিভ ধরা পড়ে তাদের একটি বড় অংশ পজিটিভ ধরা পড়ার কয়েক দিন্ আগে ইতালিতে গিয়েছিলো স্কি খেলার জন্য। যেহেতু স্লোভেনিয়াতে করোনা ভাইরাসের অনুপ্রবেশ ঘটে ইতালির মাধ্যমে এবং একই সাথে ইতালিতে যখন করোনার ছোবল সবচেয়ে তীব্র পর্যায়ে ঠিক তখনই স্লোভেনিয়ার সরকার ইতালির সাথে স্লোভেনিয়ার সীমান্ত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ইতালি থেকে যারা যারা স্লোভেনিয়াতে প্রবেশ করেন সবাইকে মেডিকেল চেক আপের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হয় এবং তাদেরকে আইসোলেশনে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি এবং ক্রোয়েশিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। মার্চের ১৯ তারিখ থেকে স্লোভেনিয়াতে বাস, ট্রেনসহ সকল ধরণের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং একই সাথে রাজধানী লুবলিয়ানাতে অবস্থিত দেশটির একমাত্র বিমানবন্দর ইয়োজে পুচনিক ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকেও সকল ফ্লাইট স্থগিত করে দেওয়া হয়। এমনকি বিভিন্ন ধরণের কার রাইড শেয়ারিং সার্ভিসও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ট্যাক্সি সেবার ক্ষেত্রে যদিও কোনও ধরণের বিধিনিষেধ ছিলো না তবে ট্যাক্সিচালকদের বলা হয় প্রত্যেকবার যাত্রী বহনের শেষে তাদের ট্যাক্সিগুলোকে নিয়মিতভাবে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখতে যাতে করোনা ভাইরাসের বিস্তার অনেকটা প্রতিহত করা সম্ভব হয়।

স্লোভেনিয়াতে প্রথম করোনা ভাইরাস রোগী শনাক্ত হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণ স্লোভেনিয়াকে জরুরি অবস্থার মধ্যে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং তখনও স্লোভেনিয়াতে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি খুব একটা জটিল পর্যায়ে পৌঁছায় নি। ছোটো বাচ্চাদের মাঝে করোনা ভাইরাসে সংক্রমণের ঝুঁকি প্রবল থাকায় সবার প্রথমে বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পর্যায়ক্রমে ইউনিভার্সিটিসহ সকল শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সকল ধরণের গণজমায়েত নিষিদ্ধ করা হয় এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে মোবাইলে ম্যাসেজের মাধ্যমে জানানো হয় যে কোনও পাবলিক প্লেসে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সবাইকে মুখে মাস্ক ও হাতে হ্যান্ড গ্লাভস পরিধান করতে হবে। পারস্পরিক ১.৫ এর দূরত্ব বজায় রাখতে সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কেউ যদি তাদের এ নির্দেশনা লঙ্ঘন করে তাহলে তাকে ন্যূনতম ৪০০ ইউরো জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় স্লোভেনিয়ার পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে। লুবলিয়ানা, মারিবোর, ক্রানিয়ে, ছেলইয়ের মতো বড় শহরগুলোতে পুলিশ প্রশাসনকে যতোটা সম্ভব কড়া অবস্থানে থাকতে দেখা গিয়েছে যাতে এ সকল শহরে বসবাসরত জনসাধারণ এ নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলতে পারে।

স্লোভেনিয়ার সরকার তো বটেই এমনকি দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা ছিলো চোখে পড়ার মতো। ব্যাংক, পোস্ট অফিস, সুপার শপ, খাবারের দোকান, পেট্রোল স্টেশন, হাসপাতাল, ফার্মেসি অর্থাৎ নিত্য প্রয়োজনীয় সেবামূলক যে সকল প্রতিষ্ঠান এ অবস্থার মধ্যেও কাজ করে গিয়েছে সকল প্রতিষ্ঠানে এক সাথে একজন কিংবা একই পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় নি। প্রথম দিকে অবশ্য মুখে মাস্ক এবং হাতে হ্যান্ড গ্লাভস পরিধান না করা থাকলে কাউকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতো না। পরবর্তীতে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে হ্যান্ড গ্লাভসের বাধ্যবাধকতা শিথীল করে নেওয়া হলেও প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের সামনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবস্থা করা হয় এবং দেশটির প্রশাসনের পক্ষ থেকে থেকে জানানো হয় যে পরিস্থিতি যতোদিন না স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে ততোদিন্ পর্যন্ত সবাইকে এ সকল প্রতিষ্ঠানের ভেতর প্রবেশ করতে হলে সবার প্রথমে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে বাধ্যতামূলকভাবে।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও যে সকল ফ্যাক্টরি তাদের কার্যক্রম পরিচালিত করেছে, তাদেরকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে স্লোভেনিয়া সরকারের পক্ষ থেকে। প্রত্যেকটি ফ্যাক্টরিতে থার্মাল স্ক্যানারের ব্যবস্থা ছিলো যাতে নিয়মিত ফ্যাক্টরির অধীনে কাজ করা সবাইকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার আওতায় নিয়ে আসা যায়। এছাড়াও স্লোভেনিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে স্পেশ্যাল হট লাইন চালু করা হয়। কেউ শরীরে ব্যথা, সর্দি, কাশি, জ্বরসহ কোভিড-১৯ এর সাথে সম্পর্কিত কোনও উপসর্গের সম্মুখীন হলে তাকে তৎক্ষণাৎ ১১২, ০৮০১৪০৪ এবং +৩৮৬৩১৬৪৬৬১৭ এ তিনটি নাম্বারের যে কোনও একটিতে ফোন দিতে বলা হয়। প্রত্যেক মিউনিসিপ্যালিটি এলাকায় ১১২ এ বিশেষ নাম্বারের লোগো সম্বলিত বিশেষ গাড়ি টহলে নিয়োজিত ছিলো যা এখনও তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কেউ যদি মনে করেন যে তার শরীরে কোভিড-১৯ এর কোনও লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে ততক্ষণাৎ স্থানান্তর করার জন্য সব সময় ১১২ এ বিশেষ নাম্বারের লোগো সম্বলিত বিশেষ গাড়িটি কাজ করছে।

পূর্বের থেকে সতর্কতা এবং একই সাথে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করায় স্লোভেনিয়াতে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর হার তুলনামূলক কম। ১৫ মে,২০২০ পর্যন্ত স্লোভেনিয়াতে করোনা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়েছেন ১,৪৬৫ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১০৩ জন। যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের বেশির ভাগেরই বয়স ছিলো ৬৭ এর ওপরে এবং তাদের অনেকের ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, অ্যাজমাসহ অন্যান্য শারীরিক জটিলতা ছিলো বলে স্লোভেনিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যমসূত্রে জানা গিয়েছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে স্লোভেনিয়াতে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর ২৪.১ শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ২৯ এর মধ্যে। এছাড়াও স্লোভেনিয়ার সরকারের ঘোষিত আর্থিক বিভিন্ন পদক্ষেপ দেশটির সাধারণ মানুষের মাঝে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। কৃষক এবং স্লোভেনিয়াতে যারা পেনশনভোগী তাদের জন্য এ সময় স্লোভেনিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদেরকে মাসে ১৫০ ইউরো করে অনুদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং এ পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে যাদের কাজ নেই তাদেরকে বেতনের ৮০% করে দিতে বলা হয়েছে স্লোভেনিয়া সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। তবে একটি বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গিয়েছে আর সেটি হচ্ছে স্লোভেনিয়াতে যে সকল বিদেশি নাগরিক রয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে স্লোভেনিয়া সরকারের ঘোষিত সুস্পষ্ট কোনও নীতিমালা এখন পর্যন্ত চোখে পড়ে নি।

করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে স্টেম সেল থেরাপি কিংবা প্ল্যাজম থেরাপির কথা বলা হচ্ছে। স্টেম সেল নামক এক বিশেষ ধরণের কোষ রয়েছে যারা আমাদের শরীরের প্রতিরক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে, স্টেম সেলকে মেমোরি সেল হিসেবেও আখ্যা দেওয়া হয়। আমরা যখন কোনো রোগ জীবাণুর সংক্রমণ থেকে সুস্থ্য হয়ে উঠি পরবর্তীতে যখন ঐ একই ধরণের রোগ জীবাণু আমাদের শরীরে আক্রমণের চেষ্টা করে স্টেম সেল সেগুলোকে পূর্বের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ঐ সকল জীবাণুকে শনাক্ত করার চেষ্টা করে অতঃপর সেগুলোকে ধ্বংস করে ফেলে। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় আলোচিত এ স্টেম সেল থেরাপি যেখানে বলা হচ্ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ থেকে সুস্থ্য হয়েছেন এমন কোনও ব্যক্তির প্লাজমা বা রক্তরস আক্রান্ত অন্য কোনও ব্যক্তির শরীরে প্রতিস্থাপনের মধ্য দিয়ে সে ব্যক্তিকে সুস্থ্য করে তোলা সম্ভব। করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় স্টেম সেল থেরাপি নিয়ে যে সকল ইনস্টিটিউট গবেষণা করেছে তার মধ্যে স্লোভেনিয়ার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথের ডিপার্টমেন্ট অব ইমিউনোলজি এবং ডিপার্টমেন্ট অব ভাইরোলজির অন্যতম যাদের সমন্বিত গবেষণালব্ধ ফলাফল যা পৃথিবীর অনেক দেশই বর্তমানে অনুসরণ করার চেষ্টা করছে। এছাড়াও স্লোভেনিয়ার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকরী ভ্যাকসিন উদ্ভাবন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ইতোমধ্যে তাদের প্রস্তুত করা ভ্যাকসিনের নমুনা পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্লোভেনিয়াতে বলতে গেলে এখন সকল কিছুই স্বাভাবিক। তবে স্লোভেনিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইযানেজ ইনশা বারবার বলেছেন যে বাহিরের থেকে পরিস্থিতি যতোই স্বাভাবিক মনে হোক না কেনও, বাস্তবিক অর্থে সব কিছু তার আগের অবস্থায় ফিরে আসতে বেশ খানিকটা সময় লাগবে। বিশেষত দেশটির অর্থনীতির ওপর বিশাল চাপের সৃষ্টি হবে। চলতি ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে দেশটির প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিলো সাড়ে তিন শতাংশ কিন্তু সম্প্ৰতি স্লোভেনিয়ার ইনস্টিটিউট অব ম্যাক্রোইকোনোমিক অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে দেশটির এ আর্থিক প্রবৃদ্ধি অর্ধেকে অর্থাৎ দেড় শতাংশে নেমে আসতে পারে। স্লোভেনিয়ান টাইমস পত্রিকার সূত্রে জানা গিয়েছে ইতোমধ্যে দেশটিতে এগারো হাজারের বেশি মানুষ চাকুরি হারিয়েছেন, অনেক প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়েছে তাদের পরিসরকে সঙ্কুচিত করতে। করোনা মহামারির অবসান হলেও স্লোভেনিয়া সরকারের এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এ পরিস্থিতির ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়কে কাটিয়ে ওঠা। পাশাপাশি স্লোভেনিয়ার সরকারের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সবাইকে যথাসম্ভব সতর্ক থাকার আহবান জানানো হয়েছে এবং তাঁর মতে পরিস্থিতি যতোই নিয়ন্ত্রণে আসুক না কেনও যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন এ করলে যে কোনও মুহূর্তে চেহারা পরিবর্তন করে গত শতাব্দীতে মহামারি আকারে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া প্যানডেমিক স্প্যানিশ ফ্লুর মতো দ্বিতীয় ধাপে যে কোনও সময় আবার এ ভাইরাসের প্রত্যাবর্তন ঘটতে পারে। এছাড়াও ইউনিভার্সিটি অব লুবলিয়ানার মেডিকেল সেন্টারে কাজ করা সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ম্যাটেয়া লোগারের মতে স্লোভেনিয়াতে করোনা ভাইরাসের মহামারি পরিস্থিতির অবসান ঘটেছে কিন্তু তাই বলে করোনা ভাইরাস দেশটি থেকে একেবারে নির্মূল হয়েছে এমনটি নয়। তিনি বলেন দেশটিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সবাই এখনও সুস্থ্য না হওয়ায় এবং পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য দেশ বিশেষত পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলো থেকে করোনা ভাইরাসের এ মহামারি পরিস্থিতির অবসানের ঘোষণা না পর্যন্ত উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা থেকে যাচ্ছে। এছাড়াও দেশটির অনেক বিশেষজ্ঞের মতে সেপ্টেম্বরের দিকে বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় ইউরোপ কিংবা আমেরিকায় ফ্লু ভাইরাসের সংক্রমণের হার বেশি থাকে আর তাই এ সময় দ্বিতীয় ধাপে করোনা ভাইরাসের মহামারি সংক্রমণ সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু না। সমগ্র পৃথিবীর অবস্থা তাই স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য তারা পরামর্শ প্রদান করেছেন।

অপেক্ষাকৃতভাবে নতুন একটি রাষ্ট্র স্লোভেনিয়া কেননা দেশটি ১৯৯১ সালে যুগোস্লাভিয়া ফেডারেশন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। প্রতিবেশি রাষ্ট্র ইতালি কিংবা অস্ট্রিয়া অথবা পশ্চিম ইউরোপের দেশ যেমনঃ জার্মানি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডসের তুলনায় অর্থনৈতিকভাবে বেশ পিছিয়ে স্লোভেনিয়া। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে একজন কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত কোনও রোগীর মৃত্যু ঘটে যখন তার স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণে বিঘ্ন ঘটে আর এ কারণে তার শ্বাস-প্রশ্বাসকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ভ্যান্টিলেশনের প্রয়োজন হয়। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সাথে সেকেন্ডারি লেভেলে ব্যাকটেরিয়াঘটিত নিউমোনিয়াল ইনফেকশন জড়িত। জনসংখ্যা অনুপাতে দেশটিতে ভ্যান্টিলেশনও নেই খুব বেশি। বিশেষ করে জার্মানি, ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড, ইতালি এ সকল দেশের তুলনায় স্লোভেনিয়াতে ভ্যান্টিলেশনের সংখ্যা একেবারে নগন্য।
শুধুমাত্র সরকারের উদ্যোগ, দেশটির সাধারণ মানুষের সচেতনতা, মানসিক দৃঢ়তা ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রাণঘাতী নোভেল করোনা ভাইরাসের বিপক্ষে দেশটিকে জয়ী করেছে।

‘করোনা ভাইরাস’ নিঃসন্দেহে এ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় দুর্যোগের নাম। কোনও ধরণের যুদ্ধ নয়, নয় কোনও ধরণের সামরিক অভিযান কিংবা কোনও ধরণের পারমাণবিক অভিযান অতি ক্ষুদ্র এক ধরণের আলোক আণুবীক্ষণিক বস্তুর কাছে গোটা পৃথিবী অসহায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী এখন পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ২১২ টি দেশ ও অঞ্চলে এ প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের প্রমাণ মিলেছে। প্রতিদিন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের হাজারো মানুষ এ প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হচ্ছেন, ঝরে যাচ্ছে অসংখ্য প্রাণ। চীনের ইউহান থেকে শুরু করে পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র নিষ্ঠুর থাবা বসিয়েছে এ প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ফেসবুকে জার্মানবাংলা২৪

বিজ্ঞাপন

Check for details