সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বিপদসীমা ছুই ছুই

Check for details

এইচ এম আলগীর কবির,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপদসীমা ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রনজিত সরকার নিশ্চিত করে বলেন, পানি বিপদসীমা ছুই ছুই। যে ভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে যে কোন সময় বিপদসীমা অতিক্রম করবে।

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর থেকে ভাটির চৌহালী পর্যন্ত প্রায় ৮২ কিলোমিটার নদী পথ রয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নদীর অভ্যন্তরীন চরাঞ্চলগুলো একের পর এক প্লাবিত হচ্ছে। পানি বাড়ার সাথে সাথে শুরু হয়েছে ভাঙন। পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজীপুরের বাঐখোলা ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ এলাকায় বালির বস্তা ফেলতে শুরু করেছে।

এদিকে কয়েক দিন ধরে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় যমুনার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে যাচ্ছে নিম্নাঞ্চলের শত শত একর ফসলি জমি। ডুবতে শুরু করেছে নিম্নঞ্চলের বাড়ি-ঘর। দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আতংকিত যমুনা পাড়ের মানুষ।

রবিবার সকাল ৬টায় যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১৩.১৫ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। যা বিপদসীমার মাত্র ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (ডেঞ্জার লেভেল-১৩.৩৫)। গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৫ সেন্টিামিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

সদর উপজেলার ৮নং কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম ভূঁইয়া বলেন, গত কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীতে দ্রুত গতিতে পানি বাড়ছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশংকায় আধাকাচা পাটগুলো কেটে নিচ্ছে কৃষকরা।

শাহজাদপুর উপজেলার ৯নং খুকনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুল্লুক চান জানিয়েছেন, এনায়েতপুরের ব্রাহ্মণগাঁতী, আড়কান্দি ও হাটপাচিল নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে বেশ কয়েকদিন ধরেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।
বেলকুচি উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস.এম সাইফুর রহমান জানান, যমুনা নদীতে পানি বাড়ার কারনে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এজন্য বেলকুচি উপজেলার বড়ধুল ইউনিয়নে প্রায় ৩০টি ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পাশাপাশ ক্ষগ্রিস্তদের জন্য ত্রাণ বরাদ্দ পেয়েছি। আগামী দুএকদিনের মধ্যে ত্রাণ বিতরন করা হবে।

Facebook Comments