সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবী- “বাংলাদেশ শিক্ষা জাতীয়করণ পরিষদ”

Check for details

জার্মান- বাংলা ডেস্ক:
শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছিলেন আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি দিব। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই বাংলাদেশের শিক্ষক শ্রেণি বরাবরই অবহেলিত শিক্ষকদের অধিকার আদায় স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে এখনো আন্দোলন অব্যাহত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করতে হবে এই দাবিতে  একটা সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।
আজ ১৯ শে মে  বেসরকারী পেশাজীবি শিক্ষক সংগঠন “বাংলাদেশ শিক্ষা জাতীয়করণ পরিষদ”  সকল প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবী জানান। সংগঠনের সভাপতি মোঃ অলি আজাদ তার সুচনা বক্তব্যে বলেন, আজ আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি বেসরকারী শিক্ষকদের মনোকষ্ট, চাওয়া-পাওয়া , বঞ্চনার কথাগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। আমি জানি আমাদের বহু সাংবাদিক ভাই বোন আছেন বেসরকারী স্কুল কলেজের শিক্ষক।

আপনারা সবাই জানেন তবুও আপনাদের মাধ্যমে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দিতে চাই যে-দেশে বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য, অবহেলা, লাঞ্চনা ও অতিরিক্ত বেতন কর্তন বন্ধে শিক্ষকদের দাবী আদায়ে শিক্ষক সংগঠন গুলো যখন ব্যর্থ ঠিক তখনই “বাংলাদেশ শিক্ষা জাতীয়করণ পরিষদ” (বাশিজাপ) নামে ০১/০৫/২০১৯ এক নতুন শিক্ষক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে,অসাপ্রদায়িকতার মূল্যবোধের ভিত্তিতে ,শিক্ষক কর্মচারীদের স্বার্থ সুরক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ সহ শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য অবহেলা লাঞ্চনা ও নিপিড়নের প্রতিবাদী কন্ঠস্বর হিসেবে এই সংগঠনটি কাজ করবে। শিক্ষা জাতীয়করন হলে শিক্ষার্থী শিক্ষক প্রশাসন সবাই উপকৃত হবে।

আশাকরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করেছেন ঠিক তেমনি মাধ্যমিকে জাতীয়করণ কবে অবিস্বরনীয় ভুমিকা রাখবেন এবং অতিরিক্ত ৪% কর্তন বন্ধ করে পেনশনের আওতায় আনবেন।

আমরা দেশের শিক্ষার ৯৮% বেসরকারী শিক্ষক কমৃচারি। সারা দেশের শিক্ষা আমাদের উপর নির্ভরশীল। আমরা অণ্যের সন্তানের জন্য নিবেদিত অথচ আমাদের সন্তানদের শিক্ষাভাতা দেওয়া হয় না ।

দুটি ঈদে পুর্নাঙ্গ উৎসব ভাতা দেওয়া হয় না , বাড়ীভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা স্কেল অনুযায়ী দেওয়া হয় না। গত ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ৫% বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ও গত তিনটি ২০% দেওয়া হয়নি এইসব কারণে আমরা জাতীয় পে-স্কেল ২০১৫ থেকে পিছিয়ে আছি। এইসব বৈষম্য দূরীকরণ একান্ত জরুরি।

শিক্ষকতা পেশাকে ভালোবেসে আধুনিক প্রজন্ম যেন এই পেশাতে আসে সেই জন্য আকর্ষনীয় বেতন ভাতা দিতে হবে। শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ -এই স্লোগানকে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন চাইলে শিক্ষা জাতীয়করনের বিকল্প নেই। শিক্ষাক্ষেত্রে আগামী প্রজন্মের পথ প্রসস্ত করতে আমাদের প্রচেষ্টাা নিরন্তন অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।

বাংলাদেশ শিক্ষা জাতীয়করণ পরিষদ এর মহাসচিব এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান দাবী সমুহ  তুলে ধরেন।
দাবী সমূহ —
১.আগামী বাজেটে ২০১৬ ও ২০১৭ সালের বকেয়া ৫% প্রবৃদ্ধি এবং তিনটি বকেয়া ২০% বৈশাখী ভাতা প্রদানের মাধ্যমে পে-স্কেল অনুযায়ী সমতা আনতে হবে।
২. জাতীয় পে-স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী বাড়ীভাড়া, চিকিৎসাভাতা, পূর্ণাঙ্গ উৎসবভাতা, শিক্ষাভাতা প্রদানের মাধ্যমে সরকারী-বেসরকারি বেতন বৈষম্য দূরীকরণ করতে হবে।
৩. অতিরিক্ত ৪% কর্তনের আদেশ বাতিল পূূর্বক জাতীয়করণ করতে হবে।
৪. অনার্স-মাস্টার্সে পাঠদানকারী শিক্ষক এবং নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও ভুক্তকরণ করতে হবে।
৫. বদলি’র ব্যাবস্থা করতে হবে।
৬. শিক্ষক সুরক্ষা আইন চাই।
৭. প্রভাষকদের ৫:২ অনুুপাত প্রথার বিলুপ্তি। ৮ বছর ও ১২ বছর পর যথাক্রমে ৭ম ও ৬ষ্ঠ গ্রেড প্রদান।
৮. প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী প্রধান শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেল প্রদান করতে হবে।
৯. দ্রুত উচ্চতর স্কেল প্রদান করতে হবে। যদি আমাদের দাবী অনুযায়ী কাজ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয় তবে আগামী ঈদের পর কঠোর কর্মসূচী প্রদান করা হবে। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মোঃ আলমগীর হেসেন, দয়াল চন্দ্র পাল, মোঃ রাশেদ ,মোঃ শাহীন সহ  নেতৃবৃন্দ।
এখন দেখা বিষয় তাদের এই দাবি বাস্তবায়নের জন্য  তারা কতটুকু আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বা সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে কত দিনের মধ্যে তাদের এই দাবিগুলো আদায় করতে সক্ষম হয়।

Facebook Comments