1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. adminmonir@germanbangla24.com : monir uzzaman : monir uzzaman
  3. fatama.ruma007@gmail.com : Fatama Rahman Ruma : Fatama Rahman
  4. anikbd@germanbangla24.com : SIDDIQUE ANIK : ANIK SIDDIQUE
  5. infi@germanbangla24.com : Hasan Imam Juwel : Hasan Imam Juwel
  6. rafid@germanbangla24.com : rafid :
  7. SaminRahman@germanbangla24.com : Samin Rahman : Samin Rahman

লেবাননের হালবায় প্রবাসীদের সাথে রাষ্ট্রদূতের মতবিনিময়

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৮
Check for details

জসিম উদ্দীন সরকার, লেবানন থেকে : রাষ্ট্রদূত বড় ভাল মানুষ, তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে যেভাবে কথা বলেন, আমরা অনেক খুশি হয়েছি। দেলোয়ারের জমিতে কাজ করেছি, তিন বছরে মাত্র এক হাজার ডলার বেতন দিছে। বাকি টাকা চাইতে গেলে লেবানিজ দিয়ে হুমকি দিত, পুলিশে ধরিয়ে দেবার ভয় দেখাতো। কিন্তু আজ স্যার (রাষ্ট্রদুত আব্দুল মোতালেব সরকার) ন্যায় বিচার করেছে। আমি অনেক খুশি আমার টাকা পাব। আমি স্যারের জন্য দোয়া করি আল্লাহ যেন স্যারকে ভাল রাখে। কাঁদতে কাঁদতে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন লেবাননের সিমান্তবর্তী এলাকা আক্কারের হালবায় বাংলাদেশী বৃদ্ধ্যা মহিলা কর্মী ফাতেমা।

রবিবার স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটায় হালবার আফানডম রেস্টো ক্যাফেতে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথে লেবাননে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকারকে প্রবাসীরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, আপনারা যখন দেখবেন আপনার কর্মস্থলে আপনার চুক্তিপত্র অনুযায়ী যে বেতন দেবার কথা তার কম দিচ্ছে, কাজ বেশী করাচ্ছে, সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করবেন।

অসাধু দালালদের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, যদি কোন দালাল কারো আকামা বানানোর কথা বলে টাকা মেরে দিয়েছে, টাকা নিয়েছে অথচ ভিসা দেয়নি, সকল তথ্য দূতাবাসে জানালে তিনি নিজে অসাধু দালালদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিবেন বলে জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, আকামা বিহীন কোন প্রবাসী যদি গ্রফতার হয়, আপনারা বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানালে দূতাবাস এর ব্যবস্থা গ্রহন করে তাকে ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যে দেশে প্ররণের ব্যবস্থা গ্রহন করবে। এছাড়া দূতাবাস অসুস্থ রোগীদের পাশে দাঁড়াবে এবং আকামা বিহীন রোগীদের দূত দেশে প্ররণের ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ইয়াবা সেবনকারীদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইয়াবা সেবনেকারীই শুধু ধ্বংস হোচ্ছেনা, সাথে ধ্বংস হচ্ছে বাংলাদেশে থাকা তার পরিবারও। মাদক ব্যবসায়ীরা ইয়াবা বিক্রি করে আপনাদের অল্প বেতনের একটি অংশ লুফে নিচ্ছে। আর সেই ইয়াবা আপনার শারীরিক ও দৈহিক শক্তি শেষ করে দিচ্ছে, ফলে কাজের প্রতি আপনার অনিহা চলে আসছে। আর কর্মস্থলে না যাওয়ায় চলে যাবে আপনাদের চাকরীও। আপনারা লেবানন এসেছেন টাকার রোজগারের জন্য আর সেই টাকা দিয়ে পরিবার বাঁচানোর জন্য।এখানে এসে যদি মাদকে আসক্ত হয়ে পরেন তাহলে দেখবেন এক সময় এই ইযাবা না নিয়ে আপনি থাকতে পারবেন না। এখন সখ করে দিনে একটা নিচ্ছেন, পরে দিনে ২-৩টা লাগবে। তখন দেখবেন এই ইয়াবার টাকা যোগাতে আপনারা অপরাধের পথ বেছে নিচ্ছেন। তার জন্য যেমন দেশের বদনাম হবে তেমনি কলংকিত হবে আপনাদের দেশে থাকা পরিবারও।

রাষ্ট্রদূত সকল প্রবাসীদের সকল প্রকার মাদক দ্রব্য সেবন থেকে সরে আসার অনুরুধ জানান।

রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, দূতাবাস আপনাদের সেবার জন্য, আপনারা যদি কখনো দেখেন দূতাবাসে কর্মকর্তা পরিচয়ে আপনাদের হয়রানি করছে, আপনারা তাদের পরিচয় পত্র দেখতে চাইবেন এবং সাথে সাথে দূতাবাসে ফোন করবেন, অথবা তাদের ছবি তুলে দূতাবাসে দিবেন, সাথে সাথে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর যদি পারেন, তাদের ধরে বেঁধে দূতাবাসে খবর দিবেন, দূতাবাস ব্যবস্থা নেবে। সেক্ষেত্রে পুলিশ আপনাদের হয়রানি করবেনা।

সভায় রাষ্ট্রদূত সকল প্রবাসীদের দেশের সুনাম রক্ষার্থে সকল অপরাধ থেকে মুক্ত থাকার অনুরোধ করেন।

সভায় রাষ্ট্রদূত প্রবাসীদের বিভন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ তুলেন দেলোয়ার নামক এক বাংলাদেশী চাষীর বিরুদ্ধে। দেলোয়ার আক্কার এলাকার বড় একজন চাষী, তিনি লেবানিজদের থাকে জমি চুক্তিতে নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত চাষাবাদ করে আসছেন। ওই শ্রমিকরা দেলোয়ারের জমিতে কাজ করতেন, মাসের পর মাস বেতন তো দেয়িনি, উল্টো হুমকি ধামকি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেছে। এজন্য তারা লিখিত অভিযোগ করেছিলেন দূতাবাসেও।

সভাতে উপস্থিত দূতাবাস কর্মকর্তা আরমান জানান, দেলোয়ারের বিরুদ্ধে দূতাবাসে অভিযোগ আসলে দেলোয়ারের মোবাইলে যোগাযোগ করা হয়। মোবাইল রিসিভ করেন দেলোয়ারের স্ত্রী। দেলোয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা জানিয়ে দেলোয়ারকে দূতাবাসে আসতে বলেন। দূতাবাস কর্মকর্তা আরমান প্রধানকে দেলোয়ারের স্ত্রী বলেন, দেলোয়ার দূতাবাসে যাবে না আপনি যা পারেন করেন। তিনি ওই কর্মকর্তাকে আরো বলেন, আমার মালিক অনেক শক্তিশালী আপনারা কিছুই করতে পারবেননা।

ঘটনা ক্রমে দেলোয়ার ও তার স্ত্রী সভায় উপস্থিত হলে রাষ্ট্রদূত তাতক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহন করেন এবং দেলোয়ার সব বেতন পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং মুসলেকা দিয়ে চলে যায়।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সভা শুরু হয়, পরে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন, লেবানন আওয়ামী লীগের আজীবন সদস্য আবুল বাশার প্রধান, প্রধান উপদেষ্টা আশফাক তালুকদার, উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ইসমাইল চৌধুরী আকরাম, নবনির্বাচিত সভাপতি বাবুল মুন্সি, সিনিয়র সহ সভাপতি সুফিয়া আক্তার বেবী, সাধারন সম্পাদক মশিউর রহমান টিটু। এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ও পূনর্বাসন সোসাইটি বৈদাশিক লেবানন যুবকমান্ড শাখার সভাপতি সৈয়দ আমীর হোসেন।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, রুবেল মিয়া, বাবুল মিয়া, আলমগীর ইসলাম, মোহাম্মদ আলীসহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ লেবানন শাখার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। স্থানীয়দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

সভাটি যৌথ ভাবে সঞ্চালনা করেন মোহাম্মদ ইউসুফ ও ফারুক মিয়া।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ফেসবুকে জার্মানবাংলা২৪

বিজ্ঞাপন

Check for details