1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. fatama.ruma007@gmail.com : Fatama Rahman Ruma : Fatama Rahman Ruma
  3. anikbd@germanbangla24.com : Editor : Editor
  4. rafid@germanbangla24.com : rafid :
  5. SaminRahman@germanbangla24.com : Samin Rahman : Samin Rahman

যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি চায়:চাঁদের কণা

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৮ জুন, ২০১৯
Check for details

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রতিবন্ধী চাঁদের কণা! টানা তিনদিন ধরে বাঁচার আকুতি। করুনা নয় চাঁদের মত ফুটফুটে মেয়েটির একটিই দাবি যোগ্যতা অনুযায়ী একটি চাকরি। সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার প্রত্যন্ত বিয়াড়া গ্রামের আব্দুল কাদেরের ঘড় আলো করে আসে চাঁদের কনা। বয়স ৩১। শিশুকাল থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার।

রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে টানা তৃতীয় দিনের মত আমরণ অনশন করে যাচ্ছেন জীবনের তাগিদে। পাশে একটি টুলে কাপড়ের ব্যাগ। আর চারপাশে মমতাময়ী মা প্রধানমন্ত্রীকে জানানো নানা আকুতির প্লাকাড। একটি হুইল চেয়ারে বসে চাঁদের কণা।

জন্মের পর যেমন বুকভরা স্বপ্ন বেঁধে ছিলেন গর্ভধারিনী মা ও বাবা। তেমনই আশায় বুক ভেধে ছিলেন বাবা-মার কল আলো করে আসা চাঁদের কণাও। তাই তো নিজের দুর্বলতাকে হার মানিয়ে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকও বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডিও পেরিয়েছেন বেশ সাফল্যের সাথে।

দুহাতই যার শেষ ভরসা সেই মেয়েটি  নানা দুঃখ কষ্টকে পিছনে ফেলে সেশন ১২-১৩ তে ইডেন কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
৩০ বছর ধরে জীবন যুদ্ধে হার না মানা মেয়ে চাঁদেরকণা। নিজেকে নিজের মতো করে স্বাবলম্বী করতে করেছেন জীবনের সাথে যোদ্ধো।

মাত্র নয় মাস বয়সে পোলিও রোগ কেড়ে নিয়েছে তাঁর চলনশক্তি।কেরে নিতে চলেছে তার লালন করা স্বপ্নগুলোকেও। কণার শেষ সম্বল দুই হাত। প্রতিবন্ধিতার কারণে যোগ্যতা অনুযায়ী কোথাও পাচ্ছেনা চাকরি।

যোগ্যতা অনুযায়ী একটি সরকারি চাকরির জন্য ছুটে বেড়িয়েছেন এ দুয়ার থেকে ও দুয়ার। কিন্তু চাকরি নামক মরিচিকা আজও ধরা দেয়নি চাঁদের কাছে। তাই নিরুপায় হয়ে বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশনে বসেছেন সেই চাঁদের কনা।

তার স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানা যায়, মাত্র নয় মাস বয়সে পোলিওতে আক্রান্ত হয়ে দুটি পায়ের কার্যক্ষমতা হারায় চাঁদের কনা। তবুও বাবা-মায়ের সচেতনতা আর নিজের প্রতিবন্ধিকতা জয়ের অদম্য চেষ্টায় চলতে থাকে হাতে হেঁটে পড়ালেখা।
চাঁদের কনা যখন অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্রী, তখন তার মা হাসনা হেনা মারা যান। এর কয়েক বছর পর ব্রেইন স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়েন তার বাবা। পরিবারের একমাত্র উপর্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এবং বাবার অসুস্থতাজনিত কারণে তার জীবনে প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে নেমে আসে চরম দারিদ্রতা। অবশেষে পড়ালেখার খরচ যোগাতে একটি বেসকারি টিভি চ্যানেলে সামান্য বেতনে চাকরি নেন তিনি। শত কষ্টের মাঝেও গার্হস্থ্য অর্থনীতিতে সফলতার সঙ্গে অর্জন করেন উচ্চতর ডিগ্রি।
একনজরে দেখাযাক চাঁদের কণার যোগ্যতাগুলোঃ
তিনি মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। অর্জন করেছেন প্রথম বিভাগ। শুধু তাই নয়, পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলেছেন। ভাড় উত্তোলন থেকে শুরু করে টিভি-রেডিওতে সংবাদ পাঠ, টিভি প্রোগ্রাম গ্রন্থনা, উপস্থাপনা ও পরিচালনা, নাটক, গল্প ও কবিতা লেখা, অভিনয় করা ও কবিতা আবৃতি করা; গল্প বলা, ছবি আঁকা এবং কম্পিউটারে সকল কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি।

কান্না জড়িত কন্ঠে চাঁদের কনা  তার কলেজ জীবনের কষ্টের কথা তুলে ধরেন প্রতিবেদকের কাছে। কণা বলেন, রাজশাহী মাদার বক্স গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে তিনি অনার্স পড়েছেন। পঞ্চম তলায় ক্লাস হতো। অন্যসব ছাত্র-ছাত্রীরা কলেজে আসতেন ৯টার দিকে। অথচ আমি কলেজে যেতাম সকাল ৭টার দিকে। কারণ হাতে ভর দিয়ে পঞ্চম তলায় উঠতে দের ঘন্টার মতো সময় লেগে যেতো। স্কুল জীবন থেকে শুরু করে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন পর্যন্ত এমন হাজারো বাধা পেরিয়ে এসেছি। মাকে হারানোর পর হয়েছি দিশেহারা বাট মনবলকে দূর্বল করিনি কখনও।

প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেছেন, শুধুমাত্র তার স্বপ্ন একজন সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার জন্য। এরপর যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি চাকরির জন্য বহু চেষ্টা করেছেন তিনি। এ বছরই তার সরকারি চাকরির বয়স শেষ।

বাধ্য হয়ে আমরণ অনশনে বসেছেন।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনশনে বসা তার হুইল চেয়ার ঘিরে রয়েছে বিভিন্ন বার্তা লেখা ২০টির মতো প্লাকার্ড। গলায় ঝুলছে প্রধানমন্ত্রীর ছবি সেখানে লেখা ‘আমি আমার মা প্রধানমন্ত্রীর ভালবাসা চাই। তার সঙ্গে দেখা করতে চাই।’

প্রতিবন্ধী চাঁদের কণা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে বলেন, তীব্র গরমে খুব কষ্ট হচ্ছে….কিন্তু আমি আমার মায়ের কথা না শোনা পর্যন্ত এখান থেকে কোথাও যাবোনা। বাঁচলে বাঁচার মতো বাঁচবো,নয়তো দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবো। তবুও কষ্টের এই জীবন আমি আর চাইনা।

হয়ত চাঁদের কণা জানেন যে মমতাময়ী মা প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধী থেকে শুরু করে সব অসহায় মানুষের পাশে দাড়ান। তাহলে কি ধরে নিব প্রতিবন্ধী মেয়ে চাঁদের কণার আর্তনাদ এখনও প্রধানমন্ত্রী অবগত নয়? এবার হয়ত শেষ ভরসা মা হারা মেয়ে আর এক মায়ের মধুর ডাকটা শুনতে পাবে। পুরণ হবে শেষ ইচ্ছে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ফেসবুকে জার্মানবাংলা২৪

বিজ্ঞাপন

Check for details