1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. fatama.ruma007@gmail.com : Fatama Rahman Ruma : Fatama Rahman Ruma
  3. anikbd@germanbangla24.com : Editor : Editor
  4. rafid@germanbangla24.com : rafid :
  5. SaminRahman@germanbangla24.com : Samin Rahman : Samin Rahman




যুদ্ধ থামাতেই সোলেমানিকে হত্যা: ট্রাম্প

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২০
  • ১১ বার পড়া হয়েছে
Check for details

জার্মানবাংলা অনলাইন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এলিট কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেমানিকে যুক্তরাষ্ট্র হত্যা করেছে যুদ্ধ থামাতে, বাঁধাতে নয়। ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন রকেট হামলায় শুক্রবার সোলেমানির মৃত্যুর ঘটনায় তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে সোলেমানির ‘ত্রাসের রাজত্বের পতন হয়েছে’।

ফ্লোরিডায় মার-আ-লাগো রিসোর্টে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একটি নিখুঁত অভিযান পরিচালনা করেছে, যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসী কাসেম সোলেমানির মৃত্যু হয়েছে।’

‘সোলেমানি খুব শিগগিরই আমেরিকান কূটনীতিক এবং সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর বিদ্বেষপূর্ণ হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু আমরা তাকে সেই প্রক্রিয়ার মাঝেই ধরে ফেলেছি এবং তাকে শেষ করে দিয়েছি,’ বলেন তিনি।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের শক্তিশালী কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেমানি দেশটির পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্য অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন। তার মৃত্যুতে ‘ভয়াবহ প্রতিশোধ’ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

হামলার প্রতিবাদে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভও হয়েছে।

এই হামলা ও হত্যাকাণ্ডে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার টানাপোড়েন হঠাৎ করেই ব্যাপকভাবে বেড়ে গেল। পূর্বসতর্কতা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত ৩ হাজার সেনা সদস্য পাঠাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তারা।

কে এই কিংবদন্তি বীর জেনারেল কাশেম সোলেমানি?
জেনারেল কাশেম সোলেমানি শুধু ইরানের নয়, পুরো আরব বিশ্বের বীর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ক্যারিশম্যাটিক কমান্ডার হিসেবে সারা পৃথিবীতে পরিচিতি পেয়েছিলেন। তার বুদ্ধি-সাহস, নেতৃত্বের গুণাবলী ও যুদ্ধক্ষেত্রের বিচক্ষণতার গল্প ছিলো মানুষের মুখে মুখে।

জেনারেল কাশেম সোলেমানি

পৃথিবীর ‘এক নম্বর’ জেনারেল হিসেবে বিবেচিত সোলেমানির নাম ছিলো বিশ্বের সবচেয়ে দক্ষ গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও মোসাদের হিট লিস্টের ‘এক নম্বরে’।

কাশেম সোলেমানি মূলত সিরিয়া ও ইরাক যুদ্ধে তার বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। সেসময় তিনি ‘সারুল্লাহ’ গ্রুপের নেতৃত্ব দেন। ওই যুদ্ধে তার অবদানের প্রশংসা করেছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।

তেহরানের আঞ্চলিক শত্রু সৌদি আরব ও ইসরাইলের মাথাব্যথার কারণ ছিলেন কাশেম সোলেমানি। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তার বীরত্বপূর্ণ অবদান সবার নজরে আসে। গত ২০ বছরে বহুবার যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও আরবের বিভিন্ন সংগঠন তাকে হত্যার চেষ্টা চালায়। তবে, প্রতিবারই তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

২০১১ সালে গৃহযুদ্ধের কারণে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ বারবার পরাজয়ের মুখে পড়লে, তার সমর্থনে এবং ইরানের বাইরে অভিযানের দায়িত্ব নেয় কাশেম সোলেমানির কুদস বাহিনী। দায়িত্ব নিয়েই তিনি সফলভাবে বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠন ও ইরাকের ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) পরাজিত করেন।

কাশেম সোলেমানি ইরানের পূর্ব সীমান্তে মাদক চোরাচালান ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। সেখানেও সফল ছিলেন তিনি। ওই এলাকার সন্ত্রাসীদের দমন করেন এবং সেখানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনেন।

১৯৯৮ সালে কাশেম সোলেমানি কুদস বাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন। এসময় তিনি লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের বৈরি সম্পর্কের ইতি ঘটান এবং হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইরানের একটি সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। একইসঙ্গে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ এবং ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। তিনি জেনারেল পদে উন্নীত হন ২০১১ সালের ২৪ জানুয়ারি।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং শিয়া নেতাদের সংস্পর্শে থাকার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি বেশি আলোচনায় ছিলেন।

কাশেম সোলেমানির নেতৃত্বে কুদস বাহিনী ইরানের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী এর সক্ষমতা বিস্তৃত করে গোয়েন্দা, সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিলো।

দক্ষিণ ইরানের কারমান প্রদেশের একটি দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছিলেন জেনারেল কাশেম সোলেমানি। তিনি ১৩ বছর বয়স থেকেই নিজের পরিবারের জন্য কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি ভারোত্তোলনের প্রতি আগ্রহী ছিলেন এবং অবসরে খামেনির খুতবা শুনতে যেতেন।

ফরেন পলিসি ম্যাগাজিনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের সময় তিনি ইরানি সেনাবাহিনীর নজরে আসেন। তখন ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান রাজ্যে সেনাবাহিনীর কাছ থেকে ছয় মাসের সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তার নেতৃত্বে ইরাকের সীমান্ত পেরিয়ে অভিযান পরিচালিত হয়। তখন থেকেই তিনি ইরানের জাতীয় বীর হিসেবে বিবেচিত হন।

২০০৫ সালে ইরাকে পুনরায় সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইব্রাহিম আল-জাফারি ও নুরি আল-মালিকির নেতৃত্বে ইরাকের রাজনীতিতে কাশেম সোলেমানির প্রভাব বাড়তে থাকে।

সেই সময়ে দেশটির শিয়া রাজনৈতিক দল এবং আধাসামরিক বাহিনী ‘বদর’ ইরাকের একটি প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র ও পরিবহন মন্ত্রণালয় এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে আসার পরে সেখানে তাদের প্রভাব গড়ে ওঠে। এই সংগঠনটিকে ইরাকে ‘ইরানের পুরনো’ সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

২০১১ সালে সিরিয়াতে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে রক্ষায় কাশেম সোলেমানি তার নিয়ন্ত্রিত ইরাকি মিলিশিয়াদের সিরিয়া যাওয়ার নির্দেশ দেন।

ইরাকের সুন্নি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট অব দ্য ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্টের (এসআইএসএল) বিরুদ্ধে ইরান সমর্থিত হাশদ আল-শাবীর (পপুলার মবিলাইজেশন ফোর্সেস) যুদ্ধ চলাকালে কয়েকটি ইউনিটের নিয়ন্ত্রণ ছিলো কাশেম সোলেমানির হাতে। তার নিয়ন্ত্রণে হাশদ আল-শাবীর ইরাকি সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করেছিলো এবং সশস্ত্র সংগঠনগুলোকে পরাজিত করেছিলো।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের আমেরিকান স্টাডিজের প্রধান মোহাম্মদ মারান্দি বলেছেন, “আইএসআইএলকে পরাজিত করতে কাশেম সোলেমানি মূল ভূমিকা পালন করেন। আর এজন্য তিনি ইরানি জনগণ ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের কাছে ‘জাতীয় বীর’ খেতাব পেয়েছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “কাশেম সোলেমানি না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলজুড়ে হয়তো কালো পতাকা উড়তে দেখতো বিশ্ব।”

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি একবার জেনারেল কাশেম সোলেমানিকে ‘ইরানি বিপ্লবের জীবন্ত কিংবদন্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ফেসবুকে জার্মানবাংলা২৪

বিজ্ঞাপন

Check for details