1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. adminmonir@germanbangla24.com : monir uzzaman : monir uzzaman
  3. fatama.ruma007@gmail.com : Fatama Rahman Ruma : Fatama Rahman
  4. anikbd@germanbangla24.com : germanbangla24.com : germanbangla24.com
  5. infi@germanbangla24.com : Hasan Imam Juwel : Hasan Imam Juwel
  6. rafid@germanbangla24.com : rafid :
  7. SaminRahman@germanbangla24.com : Samin Rahman : Samin Rahman
শিরোনাম :
মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল জামালপুরে নতুন কমিটি গঠন জেলহাজতে শিশু বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী জার্মানবাংলা’র ‘মিউজিক্যাল লাইভ শো’র এবারের অতিথি কণ্ঠশিল্পী “আঁখি হালদার” আয়েবপিসি’র কার্যনির্বাহী পরিষদের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত জার্মানবাংলা’র ”প্রবাসির সাফল্য” শো’র এবারের অতিথি ”শিরীন আলম” জার্মানবাংলা’র ‘মিউজিক্যাল লাইভ শো’র এবারের অতিথি কণ্ঠশিল্পী “ফারহা নাজিয়া সামি” বাংলাদেশে হরতাল প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেনঃ উচ্ছৃঙ্খলতা বন্ধ না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয় হবে। জার্মানবাংলা’র ‘মিউজিক্যাল লাইভ শো’র এবারের অতিথি কণ্ঠশিল্পী “মিনহাজ দীপন“ সাকিব আল হাসানের বক্তব্যে কঠোর বিসিবি জার্মানবাংলা’র “প্রবাসির সাফল্য” শো’র এবারের অতিথি “কাইয়ুম চৌধুরী”

মালিকদের চাপের মুখেই বেপরোয়া চালক

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১২ আগস্ট, ২০১৮
Check for details

ইদ্রিস আলম: মালিকরাই বাধ্য করছে সড়কে বেপরোয়া গাড়ী চালানর জন্য, তাতেই হচ্ছে দুর্ঘটনা।

মালিকদের চাপেই রাজধানীতে গাড়ি চালানোয় বেপরোয়া চালকরা। যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্য পূরণ করতে না পারলে তাদের ঠিকমতো রোজগার হয় না। বেতনও দেন না মালিকরা। চালকের লাইসেন্স আছে কি না, তা দেখা হয় না। ঢাকার বিভিন্ন রুটের বাস চালকদের সঙ্গে কথা বলে ও অনুসন্ধানে এর সত্যতা উঠে আসে। অন্যদিকে মালিকরা দায় চাপাচ্ছেন চালকদের ওপর। তারা বলছেন, নিয়ম মেনেই দায়িত্ব দেয়া হয় চালকদের।

কয়েকজন চালক বলেন, প্রতিদিন প্রায় ৫-৬ হাজার টাকার বোঝা মাথায় নিয়ে স্টিয়ারিংয়ে বসতে হয়।

সু-প্রভাত পরিবহনের এক বাস ড্রাইভার বলেন, আমরা কি সাধে সিটিং সার্ভিসে দাড়াইয়া লোক নিই গ্যা? আমগো প্যাড়ার ওপর থাহন লাগে। প্রতিদিন গাড়ির মালিক গো দ্যায়ন লাগে খরচ বাদে ১৫শ’ থেকে ২ হাজার টাকা। আবার রোডে চাঁদা তো আছেই। আবার আমগো নিজেগোরও ব্যবস্থা করন লাগে। আমরা কই যামু বলেন স্যার? আমগো জ্বালা কেড্যা বুঝবো? বোঝার কেউ ন্যাইগ্যা। ২ বার টিপ নিয়ে যাইতেই আমগো দিন শ্যাষ। বাধ্য হইয়া তাড়াহুড়া করে চালাইতে গিয়্যা দুর্ঘটনা ঘটে। অনেক সময় খাওনের টাকাটা পর্যন্ত ভাড়া মারতে পারিনা। অনেক সময় সারাদিনেও মালিকের টাকা জোগাড় করতে পারি না।

পরিবহন মালিক মিজানুর রহমান বলেন, বেতনভুক্ত চালক দিয়ে বাস চালালে মালিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে নগরীর অধিকাংশ পরিবহন মালিক তাদের বাস-মিনিবাস চুক্তিতে চালাতে দেন। আর এ কারণে চুক্তির ক্ষেত্রে কোনো মালিকই চালকের লাইসেন্স দেখেন না। আর লাইসেন্স থাকলেও চালকরা চাঁদা ছাড়া গাড়ি চালাতে পারে না। রাস্তায় নামলে প্রতিদিন একটি গাড়িকে ৭শ’ থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরণের চাঁদা গুণতে হয়। চুক্তি ও চাঁদার কারণেই রাস্তায় চালকরা বেপরোয়া হতে বাধ্য হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মালিকদের চাহিদা ব্যাপক। অথচ গাড়ির ফিটনেস নেই। এমন লক্কড় ঝক্কড় গাড়ি রাস্তায় নামিয়ে দেন মালিকরা। হেলপারকে বানানো হয় ড্রাইভার। রাস্তায় শুরু হয় হয়রানি। এজন্যই ঘটে দুর্ঘটনা। সড়কে মরণ ছোবলের প্রধান কারণ কন্ট্রাক্ট বা চুক্তি। একাধিক চালকের সঙ্গে কথা বলে এমনটিই জানা যায়। মালিকদের চাহিদা পূরণের জন্য দিশেহারা হয়ে পড়ে ড্রাইভার, হেলপার ও কন্ডাক্টাররা। এদিক ওদিক না দেখেই কে কার আগে যাত্রী উঠাবে এ নিয়ে তাদের ব্যস্ত থাকতে হয়। সঙ্গে রয়েছে রাস্তার মাঝে যাত্রী নামানো-উঠানোর মতো ভয়ংকর ব্যাপার। ডানে বামে একটু ফাঁক-ফোকর পেলেই ঢুকিয়ে দেয় গাড়ি। আর তখনই ঘটে দুর্ঘটনা। তাদের এমন খামখেয়ালিতে প্রতিদিন অকালে পিচঢালা রাস্তায় ঝরছে তাজা প্রাণ। আর অনেকে হচ্ছে চিরতরে পঙ্গু। অনেক পরিবার হচ্ছে সর্বশ্বান্ত।

সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ট্রাফিক পুলিশ সপ্তাহ চলছে। শহরের প্রতিটি সিগন্যালে দেখা মেলে চেক পোষ্ট। শক্ত অবস্থানে দেখা যায় সার্জেন্টদের। অনিয়ম দেখলেই মামলা ও আর্থিক জরিমানা করছেন তারা। এতোকিছুর পরও বাসে গাদাগাদি করে নেয়া হচ্ছে যাত্রী। ধারণ ক্ষমতা থেকে নেয়া হচ্ছে দ্বিগুণ বা তিনগুণ। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি ট্রাফিক পুলিশকে। এই দৃশ্য দেখা গেছে ফার্মগেট, কাওরানবাজার ও শাহাবাগসহ বেশ কিছু এলাকায়। আবার দাপটে চলা শুরু হয়ে গেছে ফিটনেসবিহীন লক্কড় ঝক্কড় গাড়িগুলোর। এতো কিছু ঘটার পরও থেমে নেই লাগামহীন গাড়ি চালানো। গাড়িগুলো বেপরোয়াভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রাজধানীতে।

বিমানবন্দর এলাকায় দেখা যায় দু’টি বাস পাল্লাপাল্লি করে যাচ্ছে। যাত্রীরা আস্তে চালাতে বললে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ড্রাইভার ও কন্ডাক্টর। তারা বলে, এভাবেই গাড়ী চলবে, ইচ্ছে হলে যাবেন- না হলে নেমে যান। যাত্রীদের কথা মত গাড়ী চলবে না।

বলাকা, মক্কা, অনাবিল, লাব্বাইক ও বসুমতিসহ কয়েকটি পরিবহনের বিরুদ্ধে একাধিক যাত্রী জার্মান বাংলা ২৪ডট কমের কাছে বলেন, এরা এতো খারাপ যা ভাষায় বলে শেষ করা যাবে না। দেশে এমন অবস্থা হলো তারপরও তাদের শিক্ষা হলো না। আমাদের কিছু করার নেই। বাধ্য হয়ে যেতে হচ্ছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।

বেসরকারি চাকরিজীবী আবুল কাশেম জার্মান বাংলা ২৪ডট কমকে বলেন, আরে ভাই এ দেশে নিরাপদ সড়ক দিয়ে কি করব। গাড়ির মালিকরা তো সরকারকে পাত্তাই দেয়না। আপনি নিরাপদে যেতে চাইলে মাতাল ঘাতক ড্রাইভাররা আপনাকে মেরে দেবে। কিছুই হবে না। তাহলে কি করে নিরাপদ সড়ক পাবেন, বলুন? প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য বলতে চাই- ‘আপনি দয়া করে গাড়ির মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। আপনার প্রতি জনগণের আস্থা আছে।’

এদিকে মহিলা সংগঠনগুলো বলছে, এমন অধিক যাত্রী নেয়ার কারণে নারীদের যৌন হয়রানির শিকার ও হেনস্থা হতে হয়। যাত্রী ও হেলপাররা সুযোগ বুঝে নারীদের প্রতি অশালীন আচরণ করে। এটা বন্ধ করতে হবে। এটা বন্ধ করার একটাই উপায়- বাসে আসনের চেয়ে বেশি যাত্রী নেয়া বন্ধ করতে হবে। আর মহিলাদের জন্য আলাদা সার্ভিসের ব্যবস্থা করতে হবে।

ঢাকা জেলা সড়ক পরিবহন যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল আমিন নুরু বলেন, অনেক চালকের বৈধ লাইসেন্স না থাকলেও সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা কারণে তাদের বিরুদ্ধে ঠিকমতো ব্যবস্থা নেয়া যায় না। তাছাড়া চালকদের সিংহভাগই অল্প শিক্ষিত। লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়াটাও জটিল। এ কারণে লাইসেন্স নেয়ার ইচ্ছা থাকলেও অনেকে নিতে পারেন না। সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের নিয়ম মেনে গাড়ি চালানোর জন্য সব সময়ই সচেতন করা হয়।

বাংলাদেশ ট্রাক-কভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির নেতা হোসেন আহম্মেদ মজুমদার বলেন, সড়কে মর্মান্তিক ঘটনা থেকে রেহাই পেতে চালকদের সচেতন হতে হবে। তেমনি যাত্রী ও পথচারীদেরও সতর্কতা প্রয়োজন। তা না হলে কোনো অবস্থায়ই দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে না।

বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা আনতে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। এর সফলতা পেতে ট্রাফিক পুলিশকে আরো কঠোর হতে হবে। বিআরটিএ’র বিদ্যমান জনবল দিয়ে এটা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) রেজাউল করিম বলেন, গাড়ি নিয়ে চালকদের অসম প্রতিযোগিতার পেছনে অনেক কারণ আছে। গাড়ির মালিকদের মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান করা দরকার। কোনো অবস্থায় অদক্ষ চালকের হাতে গাড়ি দেয়া যাবে না। তাছাড়া চলন্ত অবস্থায় যাত্রী ওঠানো-নামানো হয়ে থাকে। এটি বন্ধ করতে হবে। আইনের সঠিক প্রয়োগে ট্রাফিক পুলিশকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সামছুল হক বলেন, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে আইনের পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। ট্রাফিক পুলিশ, পথচারী ও যাত্রীদেরও আরো দায়িত্বশীল হওয়া দরকার।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, পরিবহন সেক্টরে সংশ্লিষ্টদের মানসম্পন্ন তদারকি নেই। অদক্ষ চালকের কারণেই সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। পেশাদার চালকদের ওপর যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তা নির্ভর করে। তাই তাদের শারীরিক ও মানসিক ফিটনেস জরুরি। কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষিত করে এ দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ঢাকা শহরে যেসব গাড়ি চলাচল করে সত্যিকারে সে সংখ্যায় ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী চালক নেই। ফলে অদক্ষ চালক ও শ্রমিকের কারণে এখন পরিবহনে ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটছে। সমিতির পক্ষ থেকে ভিজিল্যান্স টিম গঠন করে সার্বিক বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ফেসবুকে জার্মানবাংলা২৪

বিজ্ঞাপন

Check for details