মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশের জন্য উম্মুক্ত শ্রমবাজার ও অবৈধ শ্রমিকদের অনিশ্চিত ভবিষ্যত !

Check for details

মঙ্গলবার মালয়েশিয়া সময় দুপুর ২ টা থেকে ৪ টা পৰ্যন্ত বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তান-সেরি মহিউদ্দিন ইয়াসিন এবং মানবসম্পদ মন্ত্রী কুলাসেগারেনের সঙ্গে রুদ্ধতার বৈঠক করেন।

রাতে মালয়েশিয়াতে অবস্থানরত সাংবাদিকদের সাথে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন , আগামী ২৯ অথবা ৩০ মে ফের দু’দেশের মধ্যে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হবার কথা রয়েছে। মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে সফল আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ । শীঘ্রই শ্রম বাজার উন্মুক্তসহ প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি ।

সূত্র ,থেকে জানায় মালয়েশিয়া সরকার বিদেশী কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্তের করার বিষয়টি সংসদিয় নীতিমালা অনুসরণ করে বাস্তবায়নের বিষয় আশ্বাস প্রদান করেন। তবে কবে নাগাদ বিদেশী কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার উম্মুক্ত হবে সেটি নিশ্চিত করে জানা যায়নি।

অন্যদিকে অবৈধ অভিবাসী নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে মালয়েশিয়া সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সূত্রে জানাযায় ,মালয়েশিয়া সরকার সাধারণ ক্ষমা গোষণা করে দীর্ঘ দিন অবৈধ শ্রমিকদের বৈধ করণ প্রক্রিয়া অব্যহত রাখার পরেও যারা সেই সুযোগ গ্রহণ করেনি তাদের পুনরায় কোন সুযোগ দেওয়া হবে কিনা সেটি অনিশ্চিত।

তবে অবৈধ বাংলাদেশী শ্রমিকদের মধ্যে এখনো যারা মানবতার জীবন কাটাচ্ছে তাদের বৈধতার ব্যাপারে কি পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে এই বিষয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কোনো প্রকার সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ।

প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, যারা অবৈধ আছে বৈধ করে নেয়া এবং যারা দেশে যেতে চায় তাদের নামমাত্র ফি দিয়ে দেশে যাওয়ার বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

এদিকে অবৈধ অভিবাসী নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে মালয়েশিয়া সরকার। দেশটির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মালয়েশিয়া সরকার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে দীর্ঘদিন অবৈধ শ্রমিকদের বৈধকরণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। যারা সেই সুযোগ গ্রহণ করেননি তাদের পুনরায় কোনোো সুযোগ দেওয়া হবে কিনা সেটি অনিশ্চিত।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার মালয়েশিয়ায় আট মাসেরও বেশি সময় ধরে নতুন কর্মী নিয়োগ হচ্ছে না। এতে অন্তত এক লাখ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হারিয়েছে বাংলাদেশ।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের কর্মী পাঠানোর ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালীন প্রক্রিয়া চালু করতে দুই দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) একাধিকবার বৈঠক করলেও সংকটের সুরাহা হয়নি। অভিযোগ তদন্তে মালয়েশিয়া সরকারের গঠিত স্বাধীন কমিটি ইতিমধ্যে একটি খসড়া প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশে উচ্চ আদালত ছয় মাসের মধ্যে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছিলেন মন্ত্রণালয়কে। কিন্তু সেই সময়সীমা পার হয়ে গেছে। এখন মন্ত্রণালয় সময় বাড়ানোর আবেদন করবে বলে জানা গেছে। গত বছর মাঠে নামলেও থমকে আছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান। বরং পুনরায় এ বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিতে ওই সংঘবদ্ধ চক্র চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গত বছর একতরফা ও অনৈতিকভাবে ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অভিযোগ ওঠে বাংলাদেশের ১০ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে। এই ১০ এজেন্সি সিন্ডিকেট হিসেবে পরিচিতি পায়। এর সঙ্গে জড়িত দুই দেশের সরকারি-বেসরকারি লোকজন। এই চক্রের বিরুদ্ধে সরকারি খরচের অতিরিক্ত ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছ।

Facebook Comments