1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. adminmonir@germanbangla24.com : monir uzzaman : monir uzzaman
  3. fatama.ruma007@gmail.com : Fatama Rahman Ruma : Fatama Rahman
  4. anikbd@germanbangla24.com : SIDDIQUE ANIK : ANIK SIDDIQUE
  5. infi@germanbangla24.com : Hasan Imam Juwel : Hasan Imam Juwel
  6. rafid@germanbangla24.com : rafid :
  7. SaminRahman@germanbangla24.com : Samin Rahman : Samin Rahman

মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হচ্ছে ঢাবি ক্যাম্পাস

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩১ জুলাই, ২০১৮
Check for details

ইদ্রিস আলম: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ যেখান থেকে পড়াশুনার পাঠ চুকিয়ে দেশের বিভিন্ন সেক্টরে গুরুত্বপুর্ণ দায়িত্ব নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা। শুধু দেশেই নয়(ঢাবি) থেকে বেড় হয়ে বিদেশের মাটিতে ও অনেক ভালো পর্যায়ে রয়েছে। পরিবারের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করা,সমাজকে সঠিকভাবে পথ প্রদর্শন করা। জাতি তাদের কাছে এমনটায় আশা করে। প্রশ্ন হলো ঐ শিক্ষার্থীরা কি এগুচ্ছে সেই সঠিক পথে? নাকি পথর্ভষ্ট হচ্ছে?

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্যাম্পাসে দিনের আলো নামবে,সন্ধ্যার অপেক্ষায় ঐ সকল শিক্ষার্থী। দেখা যায় বিভিন্ন এলাকাতেই এক রকম দেশীয় মদের ঘ্রাণে ভারী হয়ে ওঠে চার পাশ। ক্যাম্পাস ও এলাকার মানুষের কাছে খুবিই পরিচিত এগুলো ঘ্রাণ।

নেশাদ্রব্য গাঁজার ঘ্রাণে বাতাসে ভারী হয়ে যায় ক্যাম্পাস এলাকা। আর বিভিন্ন হল ও ক্যাম্পাসের অলিগলিতে দেখা মেলে ফেনসিডিলের খোলা বোতল। আবার দেখা যায় ইয়াবা সেবন করার সামগ্রী। এগুলোর কারনে বন্ধ হয়ে গেছে ড্রেন।

কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায় পাশেই শাহাবাগ থানা এমন দৃশ্য যেন নজরেই আসেনা প্রশাসনের। নিরব ভূমিকা পালনে শাহাবাগ থানা পুলিশ।

নেশা সম্পর্কে প্রক্টরিয়াল বলছে, এ ব্যাপারে তাদের কোন এখতিয়ার নেই, এটি দেখবে পুলিশ প্রশাসন। যেহেতু রাতের ব্যাপার সেই সুবাদে নৈশপ্রহরীর সাথে একটু কথা বলার চেষ্টা পরিচয় গোপন রেখে, তিনি বলেন,‘ আমরা পাহাড়াদার তারা ছাত্র আমাদের নিষেধ কেউ শোনে না। নিষেধ করলে আমাদের বকাঝোকা গালি গালাজ করে, মাঝে মাঝে মার খেতে হয়।’

ক্যাম্পাসে মাদকসেবী কারা জানতে কথা হয় সাধারন শিক্ষার্থীদের কাছে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহসীন হলের একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘‍আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের এসব দেখা ছাড়া কিছুই করার নেই। যারা এসব করে তারা তো পলিটিক্যাল ছেলে। কোন প্রতিবাদ করতে গেলেই হোস্টেল থেকে বেড় করে দিবে,মার দিবে ইত্যাদি ঝামেলা করবে।’

‘মাদকের গন্ধে জীবন অতীষ্ঠ হয়ে গেছে। কিন্তু কিছুই করার নেই। আর যেখানে প্রশাসনের নীরব ভূমিকা সেখানে আমরা কিছুই না।

রোকেয়া হলের এক ছাত্রী বলেন, “যখন পরিবারের কেউ আসে দেখা করতে লজ্জায় পড়তে হয় গাজার ঘ্রাণ যেভাবে ছড়ায় তাতে। লজ্জার বিষয় হলো ছেলেদের সাথে পাল্লা দিয়ে অনেক মেয়েরা ও করছে প্রকাশ্যে নেশা। বলে বসে এটা হলো দেশের সেরা বিদ্যাপিঠ ছি…ছি।”

কিন্তু কাদের মাধ্যমে ও কীভাবে ক্যাম্পাসে মাদক ঢুকে-এ ব্যাপারে কেউ মুখ খুলতে নারাজ ভয়ে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চারটি এলাকা দিয়ে মাদক ঢুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। একটি হলো কামরাঙ্গীরচর-কেরানীগঞ্জ হয়ে আজীমপুর দিয়ে। দ্বিতীয়টি সদরঘাট-পুরান ঢাকা ও চানখারপুল হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।

এছাড়া মাদকের দুটি বড় চালান ক্যাম্পাস ঢোকে কমলাপুর-শাহাবাগ ও চট্টগ্রাম-ধানমন্ডি হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চারটি রুট দিয়ে আসা মাদকদ্রব্য হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানোর দায়িত্বে নিয়োজিত থাকে রিকশাচালক, পথশিশুরাও ফুটপাত কিছু দোকানীরা। এই ব্যবসার জন্য তারা বেছে নেয় ক্যাম্পাসের ময়লা ফুটপাতগুলো।

সম্প্রতি ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রীক মাদক ব্যবসায়ীদের একটি তালিকা করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, ঢাকা কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রায় ৩০-৪০ জনের নাম রয়েছে।

তাদের মধ্যে ২০ জন হলেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। যুবলীগের দুজন নেতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন সদস্যের নামও রয়েছে তালিকায়। বাকি ১৫ জনের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা নেই।

তালিকায় নাম আসা এই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উপরন্তু তাদের অভিযোগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই তালিকা সম্পূর্ণ নয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই সব। তারা যেভাবে চায় সেভাবেই তাদের সহায়তা করবে প্রশাসন। ক্যাম্পাসকে মাদকমুক্ত রাখতে চান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে মাদকের ব্যবসা ও সেবন চলে। এসব বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো অভিযান চালাবে কি না, জানতে চাইলে প্রক্টার বলেন, ‘এসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এখতিয়ার। আর কর্তৃপক্ষ শুধু তাদের সহায়তা করতে পারে।’

যেসব জায়গায় মাদক ব্যবসা ও সেবনঃ

ক্যাম্পাসের পাশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং ক্যাম্পাসের সায়েন্স এনেক্স ভবন ও কার্জন হল মাদক সেবনের বড় আস্তানা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এখন সন্ধ্যা সাতটার পর বন্ধ করে দেয়া হয়, কিন্তু তাতে কমেনি মাদক সেবন ও এর কারবার।

আগে সন্ধ্যার পর উদ্যানের ভেতরে মাদকের আসর বসত, এখন ক্যাম্পাসের পাশের ফুটপাতে বসে আসর। সন্ধ্যার পর গাঁজার ঘ্রাণে ফুটপাত দিয়ে চলা দায় হয়ে পড়ে পথচারীদের।

প্রতিবেদক সরেজমিনে (ঢাবি) এলাকা ঘুরে, সন্ধ্যা হলেই চারুকলা থেকে টিএসসির মোড় হয়ে দোয়েল চত্বর, ফুটপাতে মাদকসেবীদের জোমায়েত শুরু হয়। রাত বাড়তে থাকলে জমতে থাকে আসর। চোখে পড়বে কয়েক জনের দল। এসব দলে চলে প্রকাশ্যে মাদক সেবন আর ব্যবসা।

অভিযোগ আছে, চারুকলা থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত ফুটপাতে সেবন হয় নেশার উপকরণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেয় বহিরাগতরাও। উদ্যানের গেটের কাছে ভাসমান দোকানদারদের কাছে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় গাঁজা,ইয়াবা।

গাঁজা-ফেনসিডিলের আসর ফুটপাতে বসলেও ইয়াবা সেবন করা হয় একটু আড়ালে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, সলিমুল্লাহ ‍মুসলিম হল, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, ফজলুল হক হল, শহীদুল্লাহ হল ও অমর একুশে হলে ইয়াবা সেবন চলে বেশি।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, ইয়াবার চালান সাধারণত সাতক্ষীরা ও চট্টগ্রাম থেকে ক্যাম্পাসে আসে। শহীদ মিনারে এর ভাগবাটোয়ারা হয়। ছাত্রলীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা এসব চালান নিয়ন্ত্রণ করেন। এর মধ্যে সলিমুল্লাহ হলের সাবেক ও বর্তমান দুজন, হাজী মুহসীন হলের একজন ও জগন্নাথ হলের দুজন ছাত্র রয়েছেন। অর্ডার পেলে চানখাঁরপুল, আনন্দ বাজার ও পলাশীর মাদক ব্যবসায়ীরা হলের রুমে ফেনসিডিল পৌঁছে দেয়।

মাদকের এই চালানে হল ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে, কিন্তু ২০১৫ সালের শেষ ভাগে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে ছাত্রলীগের কারো জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা মামলার তদন্তে ছাত্রলীগের কারো জড়িত থাকার প্রমাণ পাননি।

এর আগে ১৮ জানুয়ারি ছাত্রলীগের মুহসীন হল শাখার সাবেক সহসম্পাদক মো. রাসেল উদ্দিনকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়। এ ঘটনায় তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।

এরপর থেকে আরও কোনো মাদকবিরোধী অভিযান নেই। এই অবসরে ক্যাম্পাসে কেবল বিস্তৃত হয়েছে মাদকের ধাবা।

একই বছরের ২৫ জানুয়ারি রাতে ফজলুল হক হল থেকে ১৫০ ক্যান বিয়ারসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। এর মধ্যে দুজন হল শাখা ছাত্রলীগের পদধারী নেতা। তাদের পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় হল শাখা ছাত্রলীগ। ওই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও পুলিশি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়।

২০১৫ সালের ৩ মে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ইয়াবার চালান ধরা পড়ে। এর সঙ্গে হল প্রশাসনের এক কর্মকর্তার জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল। তিনি হল ছাত্রলীগের কয়েকজনের সহায়তায় এই ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ফেসবুকে জার্মানবাংলা২৪

বিজ্ঞাপন

Check for details