1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. adminmonir@germanbangla24.com : monir uzzaman : monir uzzaman
  3. fatama.ruma007@gmail.com : Fatama Rahman Ruma : Fatama Rahman
  4. anikbd@germanbangla24.com : SIDDIQUE ANIK : ANIK SIDDIQUE
  5. infi@germanbangla24.com : Hasan Imam Juwel : Hasan Imam Juwel
  6. rafid@germanbangla24.com : rafid :
  7. SaminRahman@germanbangla24.com : Samin Rahman : Samin Rahman
শিরোনাম :
লেবাননে প্রবাসী অধিকার পরিষদের ইফতার মাহফিল বেগম জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেবে সরকার : অ্যাটর্নি জেনারেল করোনা : ভারতে শনাক্ত ২ কোটি ছাড়াল করোনা : বিধিনিষেধ আবারও বাড়ল, চলবে না দূরপাল্লার বাস অল ইউরোপ বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফয়সাল ও সম্পাদক ফারুক মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল জামালপুরে নতুন কমিটি গঠন জেলহাজতে শিশু বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী জার্মানবাংলা’র ‘মিউজিক্যাল লাইভ শো’র এবারের অতিথি কণ্ঠশিল্পী “আঁখি হালদার” আয়েবপিসি’র কার্যনির্বাহী পরিষদের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত জার্মানবাংলা’র ”প্রবাসির সাফল্য” শো’র এবারের অতিথি ”শিরীন আলম”

মননশীল জাতি গড়তে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৮
Check for details

বিনয় দত্ত
১.
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড এই কথাটি সর্বজন গৃহীত। প্রচুর বই পাঠের মাধ্যমে সেই মেরুদণ্ডকে শক্ত ও সুদৃঢ় করা যায়। বই মানুষকে আলোকিত করে, মানবিক বিকাশ তথা মনুষ্যত্ববোধ জাগিয়ে তোলে, ভিতরকার সুস্থ স্বাভাবিক বোধের বিকাশ ঘটায়। সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে যদি কারো সাথে বই থাকে তবে তার সময়গুলো কাটে মধুর এবং সুন্দর। বলা হয়, বই মানুষের সবচেয়ে ভালো বন্ধু। যে বন্ধু কখনো অসৎ বুদ্ধি দেয় না, কখনো অসৎ কাজে লিপ্ত করার ব্যাপারে প্রভাবিত করে না।

বইপ্রেমীদের জন্য তীর্থস্থান হল গ্রন্থাগার বা পাঠাগার বা বুক শপ। এই তীর্থস্থানে বইপ্রেমীরা সর্বোচ্চ সুখ খুঁজে পান বই পড়ার মাধ্যমে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বড় বড় বইপ্রেমীদের খুঁজতে গেলে রাশিয়ার নাম আসে সবার আগে। পড়ুয়া ও ভদ্রজাতি হিসেবে জগৎজুড়ে রুশদের সুনাম অনন্য। রাশিয়ানরা বিশ্বাস করেন, সম্পদ বা নেতার জন্য নয় বরং বড় বড় লেখকদের জন্য পৃথিবীর সবাই রাশিয়াকে চেনে। দস্তয়ভস্কি, চেকভ, পুশকিন, গোর্কি, তলস্তয়, মিখাইল বাখতিন, তুর্গেনিভ আরও কত যে লেখক রাশিয়াতে আছেন তা বলে শেষ করা যাবে না। রাশিয়ার এক গবেষণায় দেখা যায়, রাশিয়ায় বসবাসরত সত্তর শতাংশ পরিবারের ব্যক্তিগত পাঠাগার আছে। পড়ুয়া জাতি এবং পাঠাগারের জন্য রাশিয়া বিখ্যাত হলেও পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যেও বড় বড় গ্রন্থাগার বা পাঠাগার রয়েছে যা সত্যি দেখার মতো। আর্জেন্টিনার বুয়েনস আয়ার্সে ‘লিব্রেরিয়া এল অ্যাতেনিও গ্র্যান্ড স্প্লেনডিড’, হল্যান্ডের মাসস্ট্রিশে ‘পোলার মাসস্ট্রিশ’, চীনের বেইজিংএ ‘পপুলার কিডস রিপাবলিক পিকচার বুক স্টোর’, গ্রিসের সান্তোরিনিতে ‘আতলান্তিস বুকস’, ফ্রান্সের প্যারিসে ‘শেকসপিয়র অ্যান্ড কোম্পানি’র মতো বড় বড় গ্রন্থাগার বা বইয়ের দোকানের কথা সবাই জানেন। এইসব দোকানে এতো এতো বই যে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, মাটি থেকে শুরু করে মাথার উপর পর্যন্ত বিশাল জায়গা জুড়ে অসংখ্য বই সারি সারি করে সাজানো। পাঠকরা সারাদিন এইসব বইয়ের দোকানে বই পড়ছেন, বই কিনছেন, বই নিয়ে আলোচনা করছেন। এ দৃশ্য না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না।

২.
রাশিয়া, আর্জেন্টিনা, হল্যান্ড, চীন, গ্রিস, ফ্রান্স, স্লোভাকিয়ার মতো বাংলাদেশেও কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সর্ববৃহৎ না হলেও মোটামোটি বড় পরিসরে বইয়ের জগৎ তৈরির চেষ্টা করছে। দেশের রুচিশীল, স্বশিক্ষিত, সৃজনশীল মানুষের সমাবেশ ঘটানোর জন্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বা ফাউন্ডেশন বিশাল জায়গা জুড়ে বইয়ের দোকান বা বই পড়ার বিশাল প্রাচীর গড়ে তুলেছে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, পাঠক সমাবেশ, পাঞ্জেরী বুকশপ বা পিবিএস, বাতিঘর, দীপনপুর, বেঙ্গল বই-এর মতো বইয়ের বিশাল স্বর্গরাজ্য মানুষকে একদিকে যেমন আলোকিত করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে তেমনি জ্ঞানের প্রসারণে অত্যাধুনিক ধারণার সাথে জনগণের পরিচয় ঘটিয়েছে। গ্রন্থাগারের মূল ভাবনাতে এখন অনেক সংযোজন ঘটেছে। আগের দিনের সেই পাঠাগারের ভাবনা আর বর্তমান সময়ের পাঠাগারের ভাবনা এক নয়। এইসব ভাবনা বা সংযোজনের কারণে এখন পাঠক বেড়েছে সাথে যুক্ত হয়েছে সল্প পরিসরে বিনোদনও।

‘আলোকিত মানুষ চাই’ এই শ্লোগান নিয়ে আলোকিত মানুষ গড়ার প্রত্যয়ে ১৯৭৮ সালে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। যার মূল লক্ষ্যই হল কিশোর ও যুব সমাজকে আলোকিত মানুষ হিসাবে গড়ে তোলা। বই পড়ায় আগ্রহী করে তোলা এবং বই পড়ার মাধ্যমে তরুণসহ সকল বয়সের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিয়ে সকলকে সঠিক পথে পরিচালিত করায় হল এই কেন্দ্রের উদ্দেশ্য। বই পড়া বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের হাজার হাজার স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করেছেন। ‘মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়’ এই স্বপ্ন নিয়েই বর্তমানে সারা দেশের প্রায় সতেরো লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে বই পড়া কর্মসূচির সাথে জড়িত করে। এছাড়াও জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় আনন্দময় চর্চা ও উৎকর্ষের ভিতর দিয়ে সৃজনশীল মানুষ গড়ে তোলার জন্য ২০১৩ সাল ‘আলোর ইশকুল’ ও অনলাইনে বইপড়া কর্মসূচি ‘আলোর পাঠশালা’ গড়ে তোলেন। বিভিন্ন বয়সের জন্য কেন্দ্রে রয়েছে সুবিশাল গ্রন্থাগার, চিত্রকলা প্রদর্শনী কক্ষ, চলচ্চিত্র প্রদর্শনের কক্ষ, গান ও সঙ্গীতের আর্কাইভ, খাবারাদাবারের আয়োজন সহ আরও অনেক কিছু। শুধু রাজধানী ঢাকাতেই নয়, বিভাগীয় বিভিন্ন শহরে ভ্রাম্যমান গ্রন্থাগার প্রকল্পের অধীনে ৫৬ টি ভ্রাম্যমাণ গাড়ির মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন বই প্রেরণের কাজও করে থাকে।

মুক্ত মনের জন্য বই এই ভাবনাকে কেন্দ্র করে শহিদুল ইসলাম বিজু’র উদ্যোগে ১৯৮৭ সালের আগস্ট মাসে যাত্রা শুরু করে পাঠক সমাবেশ। সল্প পরিসরে আজিজ সুপার মার্কেটে যাত্রা শুরু করলে এখন তা শাহবাগ রোডে বিশাল পরিসর পেয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক বই ছাড়াও রচনাবলী সিরিজ-এ আরজ আলী মাতুব্বর, লালন ফকির, হাছন রাজা, শহীদুল জহির ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রয়েছে। দেশ ও বিদেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন, রাজনীতি, সমাজ-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য, দর্শন, নন্দনতত্ত্ব, ইতিহাস, চলচ্চিত্র, থিয়েটার, সঙ্গীত সহ বিষয়ভিত্তিক গ্রন্থের সমাবেশ প্রচুর।

৩.
বাংলাদেশের বৃহৎ চেইন বুকশপ হিসেবে খ্যাত পিবিএস বা পাঞ্জেরী বুকশপ এর সুনাম সমগ্র শোনা যায়। শান্তিনগর, ধানমণ্ডি ও উত্তরা শাখায় বেশ বড় পরিসরে চেইন বুকশপের মাধ্যমে বইয়ের বিক্রি শুরু করে পিবিএস। সকল শ্রেণির পাঠকদের মাঝে মননশীল পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে দেশী-বিদেশী বইয়ের এক বিচিত্র সমাহার নিয়ে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শান্তিনগরে প্রথম পিবিএস প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলা ও ইংরেজী ভাষায় রচিত দেশী-বিদেশী পাঠ্যবই, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, গবেষণা ছাড়াও সব ধরনের ষ্টেশনারি, সিডি/ডিভিডি ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ পাওয়া যায় এখানে। এছাড়াও শিশুদের জন্য আলাদা কর্ণার রয়েছে যাতে শিশুরা তাদের পছন্দমতো বই পড়তে পারে। হালকা খাবারদাবারের জন্য আলাদা ব্যবস্থাও রয়েছে।

বইয়ের নতুন স্বর্গ গড়ে উঠেছে রাজধানির এলিফ্যান্ট রোডে। প্রায় ২৮০০ বর্গফুটের এই বুকশপ ক্যাফে প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রয়াত দীপনের স্ত্রী রাজিয়া রহমান জলি। জাগৃতি প্রকাশনীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রকাশক প্রয়াত ফয়সল আরেফিন দীপন দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে প্রকাশনা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান তিন হাজারেরও অধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। তার ৪৫তম জন্মদিনে এই অত্যাধুনিক বুকশপ ক্যাফে ‘দীপনপুর’ এর যাত্রা শুরু হয়। কি নেই এইখানে? বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে সারি সারি সব বই। বই কেনার পাশাপাশি বই নিয়ে পড়ার আলাদা সুযোগ সুবিধা রয়েছে। দেশীয় বইয়ের বিপুল সমাহার, স্টেশনারি এবং শিল্পীর আঁকা ক্যানভাসও পাওয়া যাচ্ছে। বইয়ের সাথে এক কাপ চা, কফি বা জুসের ব্যবস্থা থাকছে। এছাড়াও রয়েছে বিশেষ বিশেষ ব্যবস্থা।

ছোটদের আলাদা কর্নার, খাবার-দাবারের আয়োজন, ছোট পরিসরে অনুষ্ঠান করার আলাদা জায়গা এবং ওয়াইফাই-এর সুব্যবস্থা রয়েছে। অনলাইনে যেমন বই কেনা যাবে তেমনি প্রয়োজনীয় কোনও বই পাওয়া না গেলে সেই বই বাসায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকছে। প্রতিটি কর্ণারের রয়েছে আলাদা নাম। ছোটদের কর্নারের নাম ‘দীপান্তর’ খাবার দাবারের কর্নারের ‘দীপাঞ্জলি’। মঞ্চের কর্নারের নাম দেয়া হয়েছে ‘দীপনতলা’।

৪.
সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রাকে যারা সবসময় ধারণ করে এগিয়ে চলে তারাই বৃহৎ পরিসরে বইয়ের মাঝে ডুব দেয়ার চেষ্টা করেছে। বলছি বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের কথা। ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর লালমাটিয়ায় বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে স্থাপিত হল বই বিপণি ‘বেঙ্গল বই’। বেঙ্গল বইয়ের তিনতলা জুড়ে রয়েছে বিশাল আয়োজন। শিশু, নবীন, প্রবীণ সহ সকল বয়সের কথা ভেবে আলাদা আলাদা আয়োজন রাখা হয়েছে।

প্রথম তলায় তরুণদের জন্য আড্ডা দেওয়ার ব্যবস্থা সহ রয়েছে পুরোনো বইয়ের সমাহার। এখানে বসে পুরোনো বই পড়া যাবে। পছন্দ হলে যেকোনো বই নিয়েও যাওয়া যাবে, সেটি আর ফেরতও দেয়া লাগবে না। শর্ত হচ্ছে, নিজের সংগ্রহ থেকে দুটি বই এখানে দিয়ে এখান থেকে দুটি বই নেয়া যাবে। তরুণদের আলাদা ভাবনার জগৎ গড়ে তোলার জন্য এই বিশেষ আয়োজন।

বই পড়ার পাশাপাশি রয়েছে হালকা খাবারের ব্যবস্থা। শুক্র ও শনিবার সকালের নাস্তা পাওয়া যাবে। বইয়ের প্রকাশনা, কবিতা পাঠ বা সংগীতায়োজনের জন্য অল্পএকটু জায়গাও রয়েছে।

দুইতলাতে রয়েছে বই কেনার সুযোগ। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, রান্না, খাবারদাবার, শিল্পকলা, সাহিত্য থেকে শুরু করে স্থাপত্যবিষয়ক বইও পাওয়া যাবে এইখানে। অসুস্থ বা প্রতিবন্ধীরা লিফটে চড়ে বা হুইলচেয়ারে বসে পুরো বইয়ের রাজ্য ঘুরে দেখতে পারবে।

তৃতীয় তলাটি পরিকল্পনা করা হয়েছে বাচ্চাদের জন্য। এই তলার নাম দেওয়া হয়েছে ‘আকাশকুসুম’। বাচ্চাদের পাঠ্যবই সহ বিভিন্ন ধরনের বই, খাতা, কলম, পেন্সিল, ছবি আঁকার কাগজ, রং, তুলি পাওয়া যাবে। এছাড়াও বাচ্চাদের খেলাধুলার জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। এছাড়া বাবা-মায়েদের জন্য বিভিন্ন ম্যাগাজিন রাখা আছে যাতে বাচ্চাদের সাথে বাবা মা’ও আলাদাভাবে পড়তে পারেন।

শুধু রাজধানীতেই নয়, বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামে জামাল খান রোডের প্রেসক্লাব ভবনের নিচতলায় প্রায় দু’হাজার বর্গফুটে গড়ে উঠেছে বিশাল গ্রন্থবিপণি ‘বাতিঘর’। শতাধিক বিষয়, ৮০০০ লেখক ও ২৫০০ প্রকাশনা সংস্থার প্রায় এক লক্ষ বইয়ের সংগ্রহ রয়েছে এতে। এছাড়াও নির্বাচিত লেখক, প্রকাশক কর্নার, শিশু-কিশোর কর্নার, লিটল ম্যাগ ও সাহিত্য সাময়িকী কর্নার এবং ক্যাফে কর্নার রয়েছে। বই আর কফির সাথে বিশাল সময় উপভোগ করার মনোরম পরিবেশ এটি।

শুধু চট্টগ্রামেই নয় রাজধানী সহ প্রতিটি বিভাগীয় সদরে একটি মানসম্মত বুকশপ করার পরিকল্পনা আছে বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা দীপঙ্কর দাশের। সারাদেশ জুড়ে অগণিত পাঠক গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন দীপঙ্কর।

দীপঙ্করের সেই স্বপ্নের মতো এইরকম স্বপ্ন দেখেছিলেন রাজশাহীর পলান সরকার। প্রায় তিন যুগের কাছাকাছি সময় বছর ধরে একটানা তিনি সুস্থির ভাবে নগর-গ্রামে আলোকিত মানুষ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে পায়ে হেঁটে বইপ্রেমী মানুষ গড়ার চেষ্টায় ব্রত আছেন। রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২০টি গ্রামজুড়ে তিনি গড়ে তুলেছেন বই পড়ার এক অভিনব আন্দোলন। গ্রামাঞ্চলে বহু মানুষ দরিদ্র ও নিরক্ষর। নিরক্ষর গ্রামগুলোর মাঝে আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন এই পলান সরকার। ২০০৮ সালে রাজশাহী জেলা পরিষদের উদ্যোগে পলান সরকারের নিজস্ব জমির ওপরই নির্মিত হয়েছে ‘পলান সরকার পাঠাগার’। নিজের টাকায় বই কিনে তিনি পড়তে দেন পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোকে। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠেই কাঁধে ঝোলাভর্তি বই নিয়ে বেরিয়ে যান। দীর্ঘ পথ হেঁটে তিনি আলাদা আলাদা গ্রামে গিয়ে বই পড়তে দেন। এইভাবে তাঁর প্রতিটি দিন কাটে আবার নতুন দিনের শুরু হয়। নিজের অসামান্য কাজের জন্য তিনি ২০১১ সালে একুশে পদক পান। বিনামূল্যে বই বিতরণ করে সকলের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ সৃষ্টির করার জন্য ইউনিলিভার বাংলাদেশ পলান সরকারকে ‘সাদা মনের মানুষ’ খেতাবে ভূষিত করে।

৫.
বই পিপাষু মানুষ গড়ার জন্য সবাই নিজেদের অবস্থান থেকে কাজ করছেন। আলাদা আলাদা পরিসরে কাজ করলেও সবারই একটাই চাওয়া, আলোকিত মানুষ গড়ার স্বপ্ন। এই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার জন্য অবশ্যই ছোট পরিসরে নিজেদের বাসা বাড়ি থেকে পাঠাভ্যাসের প্রয়োজন। এই অভ্যাস গড়ে উঠলে একদিকে জাতি যেমন আলোকিত হবে তেমনি আগামীদিনে মেধাবী প্রজন্ম গড়ে উঠবে। সরকারি বেসরকারি, ক্ষুদ্র বা বৃহৎ, সল্প বা বিকট যেকোনো ভাবেই আমাদের আরো বেশি বেশি বইয়ের রাজ্য গড়ে উঠা উচিত। যে রাজ্য আগামী প্রজন্মকে আরো সুদৃঢ় করবে আরো শক্তিশালী করবে। যদি আমরা প্রত্যেকে নিজের অবস্থান থেকে গ্রামাঞ্চলে ছোট অথবা বড় পাঠাগার গড়ে পাঠাভ্যাসের ব্যবস্থা করি তবে এমন সব আলোকিত, মুক্তমনা মানুষ পাবো যাদের শক্তির কাছে কোনো জঙ্গি বা সাম্প্রদায়িক শক্তি দাঁড়াতেই পারবে না। আমি সেই দিনের প্রত্যাশায়।

বিনয় দত্ত
সাহিত্যিক ও সাংবাদিক
benoydutta.writer@gmail.com

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ফেসবুকে জার্মানবাংলা২৪

বিজ্ঞাপন

Check for details