1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. adminmonir@germanbangla24.com : monir uzzaman : monir uzzaman
  3. fatama.ruma007@gmail.com : Fatama Rahman Ruma : Fatama Rahman
  4. anikbd@germanbangla24.com : SIDDIQUE ANIK : ANIK SIDDIQUE
  5. infi@germanbangla24.com : Hasan Imam Juwel : Hasan Imam Juwel
  6. rafid@germanbangla24.com : rafid :
  7. SaminRahman@germanbangla24.com : Samin Rahman : Samin Rahman

ভয়াবহ সিন্ডিকেট: ১০ টাকাও নিতে চায় না ঘাসির চামড়া!

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৮
Check for details

জার্মানবাংলা২৪ ডটকম: পানির চেয়ে কম চামড়ার দাম। রফতানি আয়ের এই পণ্যটি এখন দেশের বাজারে মূল্যহীন। চামড়া শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটরা বাংলাদেশের এই শিল্পকে গাদের কিনায় ফেলে দিয়েছে। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া বিক্রির কথা থাকলেও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে এবার বিক্রি হয়েছে চামড়া। এ জন্য মূলত মৌসুমি ব্যবসায়ী এবং চামড়ার সাথে সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটকে দুষছেন অনেকে। আর চামড়ার টাকা গরীব দুঃখীদের ভেতর বণ্টন করে দেয়া হয় বলে এর দাম কমে যাওয়ায় অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ।

সরেজমিনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, জুরাইন, দয়াগঞ্জ ট্রাক স্ট্যান্ড, রায়সাহেব বাজার, ফকিরের পুল, সূত্রাপুর, মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকাতে যারা পশু কোরবানি করছেন তাদের কাছ থেকে স্থানীয় মৌসুমী ব্যবসায়ীরা পশুর চামড়া সংগ্রহ করছেন।

মূলত স্থানীয় পর্যায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, বেকার জনগোষ্ঠী এবং দরিদ্র শ্রেণির মানুষ তৃণমূল পর্যায়ে চামড়া সংগ্রহ করে তা বড় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন। তৃণমূল পর্যায় থেকে সরকারী দাম উপেক্ষা করে একটি বড় গরুর চামড়া ৮০০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০০ টাকায়, মাঝারি আকারের ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় আর ছোট আকারের চামড়া ২০০ থেকে ৪০০ টাকায় সংগ্রহ করছেন তারা। ওই চামড়া রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টের বড় ব্যবসায়ীদের কাছে নির্ধারিত প্রতি বর্গফুট ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। অন্যদিকে, খাসি, ভেড়া বা বকরির চামড়া কিনতে প্রতিবারের মতো এবারও ব্যবসায়ীদের আগ্রহ দেখা যায়নি।

এদিকে চামড়ার দাম এমন পড়ে যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকেই।

সিরাজুল ইসলাম নামে একজন লিখেছেন, ‘৭ হাজার টাকার ঘাসির চামড়ার কোনো ক্রেতা না পেয়ে মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে একজনকে জোর করে দিয়ে এসেছি।’

আব্দুল জব্বার নামে একজন লিখেছেন, ‘গত বছর ও ১৩০০ টাকায় চামড়া বিক্রি করেছি। এবার ৫০০ টাকাও বলে না। পরে আব্বু ধমক দিয়ে ৫০০ টাকা নিসে। পাশের বাসার আংকেলের ৮৭ হাজার টাকার গরুর চামড়া দাম দিসে ৩০০। সিণ্ডিকেট অনেক শক্ত হয়ে নেমেছে। ওরা এলাকা ভাগ করে নিয়েছে। কেউ কারো এলাকায় যাবে না। নিজের এলাকায় একা কিনবে সব আর যা দাম বলবে তাই দিতে হবে উপায় নাই। গরীবের হক বিলীন হয়ে যাচ্ছে সিণ্ডিকেট এর পকেটে।’

বিল্লাল হোসেন লিখেছেন, ‘৭৫/৮০হাজার টাকা দামের গরুর চামড়ার দাম মাত্র ২০০ থেকে ৩০০! কি ভয়াবহ সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চামড়া শিল্প! সারাবছর আকাশ ছোঁয়া দামে বেচাবিক্রি হলেও কুরবানির সময় এসে চামড়া নিয়ে চলে সুন্দর সুন্দর খেলা। এই যে এতো কম দামে চামড়া পাওয়া যাচ্ছে, এর বেশিরভাগই আবার পাচার হয় সিমান্তের ওপারে। ধর্মীয় বিধানমতে কুরবানির চামড়ার টাকা নিজে খাওয়া জায়েজ না। ২/৩শ টাকায় বিক্রি না করে এই পরিমাণ অর্থ চামড়ার দাম হিসেবে দান করে দিন। আর চামড়াটা মাটিতে পুঁতে ফেলুন। তাও সিন্ডিকেট আর চোরাকারবারিদের এভাবে লুটতে দিয়েন না।’

আতাউর রহমান লিখেছেন, ‘চামড়ার দাম যেহেতু ২০০/৫০০ টাকা তাই সবার উচিৎ ২০০/৫০০ টাকা গরিবকে দিয়ে চামড়া মাটিতে পুতেফেলা।’

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এবারের ঈদে প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ গবাদি পশু কোরবানি হওয়ার কথা। যার মধ্যে রয়েছে গরু-মহিষ ৪৪ লাখ ৫৭ হাজার এবং ছাগল-ভেড়া ৭১ লাখ। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৪ লাখ ২২ হাজার।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে উৎপাদিত চামড়ার ৬০ শতাংশই কোরবানির ঈদে সংগ্রহ করা হয়। যার মধ্যে গরুর চামড়া ৬৫ শতাংশ, মহিষের চামড়া ২ শতাংশ, খাসির চামড়া ৩২ শতাংশ এবং ভেড়ার চামড়া ১ শতাংশ।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ফেসবুকে জার্মানবাংলা২৪

বিজ্ঞাপন

Check for details