বৃষ্টিতে ভেসে গেলো ম্যাচ, বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য

Check for details

জার্মান-বাংলা ডেস্ক:আবহাওয়া বৈরিতার শিকার হলো বাংলাদেশ। যদিও প্রতিবেদন ছিলো বিশ্বকাপ শুরুর আগেই , জুনের প্রথম সপ্তাহের শেষে ও দ্বিতীয় সপ্তাহে বৃষ্টি বাধার মুখে পড়তে পারে বিশ্বকাপ। হলোও তাই। বৃষ্টির কবলে পড়ে গত চার দিনে মোট ৩টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ।

বিশ্বকাপের আগেই বিবিসির মাসিক আবহাওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জুনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহে হালকা বৃষ্টি থেকে শুরু করে বজ্রপাতসহ ঝড়ের আশঙ্কা তারা করেছিলো। পূর্বাভাস সত্য প্রমাণিত করে গত ৭ জুন থেকেই বৃষ্টির কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো। ৭ তারিখ ব্রিস্টলে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে গেছে । একই পরিণতি হয়েছে সাউদাম্পটনে দক্ষিণ আফ্রিকা-ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচটিও। অনবরত বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচেও পয়েন্ট ভাগ করে নিতে হয়েছে দুই দলকে।

বিবিসির পূর্বাভাস বলছে, ১৭ জুন পর্যন্ত বৃষ্টি এ রকমই ভোগাতে পারে বিশ্বকাপকে। ১৭ তারিখের পর থেকে বৃষ্টির আনাগোনা কিছুটা কমে আসবে, তবে ২৩ তারিখ পর্যন্ত মাঝে মাঝে বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বিবিসি। ২৩ তারিখের পর থেকে আবহাওয়া অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে, বিশ্বকাপও তখন ফিরে পাবে নিজের আসল জৌলুশ । বৃষ্টির বদলে ব্রিটেনের আকাশে থাকবে ঝকঝকে রোদ, তাপমাত্রাও বাড়বে বেশ খানিকটা। ১৭ জুন বাংলাদেশের পরের ম্যাচ, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। খেলা টন্টনে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ওই দিন সকালের দিকে ঝিরঝিরে বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। সেটি ঘন মেঘে রূপ নেবে কি না, এখনই বলা কঠিন।
এই বৃষ্টিই এখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপের বেশ কয়েকটি ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে। বেশ কয়েকটি ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি হওয়ার কারণে কোনো দলের ভাগ্য যেমন খুলে যেতে পারে, আবার বৃষ্টিতে খোয়ানো পয়েন্টের কারণে কপালও পুড়তে পারে কোনো দলের।

গত বিশ্বকাপেই যেমন বৃষ্টির কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাওয়া ১ পয়েন্ট বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু বাংলাদেশ এবার নিজেদের দুর্ভাগা ভাবতে পারে। অবশ্য শ্রীলঙ্কারও দুটি ম্যাচ ভেসে গেছে। আফগানদের বিপক্ষেও ম্যাচটি ৫০ ওভার হয়নি।

বিশ্বকাপের আগে বোলারদের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছিলেন অনেকেই। ফ্ল্যাট উইকেটে ব্যাটসম্যানরাই রাজত্ব করবেন, এমনটাই ছিল ধারণা। কিন্তু এই বৃষ্টি আর মেঘলা আবহাওয়া বেশ কয়েকটি ম্যাচের সমীকরণ পাল্টে দিয়েছে। মেঘলা আকাশ কাজে লাগিয়ে পেসাররা বেশ কয়েকটি ম্যাচে জিতিয়ে দিয়েছেন তাঁদের দলকে। নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা ম্যাচেই যেমন কন্ডিশনকে কাজে লাগিয়ে লঙ্কান ব্যাটিংকে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন ট্রেন্ট বোল্ট-ম্যাট হেনরিরা। নিজেদের পেসের সঙ্গে উইকেট থেকে প্রাপ্ত বাউন্স কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানেরও একই দশা করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা।

আফগানিস্তান-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে নিশ্চিত জয়ের পথে এগোচ্ছিল গুলবদিন নাইবের দল। কিন্তু বৃষ্টি এসে ম্যাচ থামিয়ে দেওয়ায় নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায় লঙ্কানরা। পরে বৃষ্টিস্নাত কন্ডিশনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে নিজেদের সেরাটা দিয়েছেন লাসিথ মালিঙ্গা-নুয়ান প্রদীপরা। এ রকম বেশ কয়েকটি ম্যাচেই মূল প্রভাবক হয়ে উঠেছে বৃষ্টি।

ব্রিটেনের এই বৃষ্টি কোন দলের জন্য ‘আশীর্বাদ’ হয়ে দাঁড়ায় আর কোন দলের জন্য ‘অভিশাপ’, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। শেষের টি বাংলাদেশের জন্য হয়েছে বলে ক্রিকেট বোদ্ধাদের অভিমত।

Facebook Comments