বাংলাদেশ প্রসঙ্গ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাত কাল

Check for details

জার্মানবাংলা ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন ঢাকায় নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। সরকার প্রধানের সঙ্গে এটিই হবে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ। কাল দিনের শুরুতে সেই সাক্ষাৎ হবে। গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ-বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্বের সব বিষয়েই কমবেশি আলোচনা হবে।

আলোচনায় আসতে পারে প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের আর্থ-সামজিক উন্নয়ন, বিশেষ করে মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার পথে পা বাড়ানোর বিষয়টি। আগামী ৩ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের এটি অর্জনের টার্গেট রয়েছে। সেখানে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকার প্রধানের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের চলমান নির্বাচন নিয়ে কথা হতে পারে। ৩০শে ডিসেম্বরের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী সব প্রার্থী ও দলের শান্তিপূর্ণ প্রচারণার সমান সুযোগ চায় যুক্তরাষ্ট্র। তারা সম্পূর্ণ বিতর্কমুক্ত এবং সবার কাছে বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেখতে চাইছে। ওই নির্বাচনে ইইউ’র পর্যবেক্ষক না পাঠানোর কারণে এবার আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বড় টিম পাঠাতে যাচ্ছে।

অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে মার্কিন কংগ্রেসে এরই মধ্যে সর্ব সম্মতভাবে একটি রেজ্যুলেশন পাস হয়েছে। যেখানে মোটা দাগে যেটা বলা হয়েছে তাহলো, সব ভোটারের স্বাধীনভাবে ভোট প্রদানের পরিবেশ নিশ্চিত করা। সেখানে বলা হয়, ভোটারদের নিরাপত্তা এবং ভোটপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা এবং পক্ষপাতহীন আচরণই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করবে। সার্বিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র।

গত ২৯শে নভেম্বর প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন নয়া মার্কিন দূত আর্ল রবার্ট মিলার। বঙ্গভবনের রাজকীয় ওই আয়োজনের মধ্যদিয়ে মূলত ঢাকায় অভিষেক হয় তার। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জনগণ তথা এ অঞ্চল এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের স্বার্থেই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সুদৃঢ় সম্পর্কের তাগিদ দেন।

ঢাকায় দায়িত্ব নেয়ার পর সরজমিনে ঘুরে এসেছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পও। বৈঠক করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারে কেএম নুরুল হুদা ও পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে।

নির্বাচনের পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে। সেখানে রাষ্ট্রদূত নির্বাচনী সহিংসতার নিন্দা করেন। নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে একটি অবাধ, গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক এবং সহিংসতামুক্ত নির্বাচন দেখতে চায় উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হলে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে না পারলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। মার্কিন দূত আশা করেন ভোটের শান্তিপূর্ণ প্রচার-প্রচারণায় সবাই সমান সুযোগ পাবে, এমন পরিবেশ নিশ্চিত করবে নির্বাচন কমিশন। সূত্র: ইনকিলাব অনলাইন

Facebook Comments