1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. adminmonir@germanbangla24.com : monir uzzaman : monir uzzaman
  3. fatama.ruma007@gmail.com : Fatama Rahman Ruma : Fatama Rahman
  4. anikbd@germanbangla24.com : SIDDIQUE ANIK : ANIK SIDDIQUE
  5. infi@germanbangla24.com : Hasan Imam Juwel : Hasan Imam Juwel
  6. rafid@germanbangla24.com : rafid :
  7. SaminRahman@germanbangla24.com : Samin Rahman : Samin Rahman
শিরোনাম :
লেবানন বিএনপির সভাপতি বাবু, সম্পাদক আইমান, সাংগঠনিক হাবিব সখীপুরে ‘মুক্তিযুদ্ধের কবিতা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন নাইজেরিয়ায় ইসলামিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ২০০ শিশুকে অপহরণ ঘুর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সাতক্ষীরার উপকুলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি লেবানন আ’লীগের সম্মেলন: সভাপতি বাবুল মিয়া, সম্পাদক তপন ভৌমিক সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্থা ও মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের ঘটনায় জামালপুর প্রেসক্লাবের প্রতিবাদ সখীপুর এস.পি.ইউ.এফ’র ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন লেবাননে প্রবাসী অধিকার পরিষদের ইফতার মাহফিল বেগম জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেবে সরকার : অ্যাটর্নি জেনারেল করোনা : ভারতে শনাক্ত ২ কোটি ছাড়াল

বই প্রেমী আমিনুল ইসলাম ও তার ভবিষ্যৎ ভাবনা

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৮
Check for details

শহরের রাস্তার পাশে পথচারীদের যাতায়াতের জন্য তৈরি করা হয় ফুটপাত। ফুটপাত মানুষের চলাচলের জন্য হলেও, বিভাগীয় শহরের রাস্তা দেখে তা বুঝার উপায় নেই যে_এটা ফুটপাত। ফুটপাত ভরে নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা পণ্যের দোকানই বেশি দেখা যায়। এর মধ্যে ব্যতিক্রমী কিছু দোকানও বসে বা দেখাও যায়। এমনও দেখা যায় যে, বড়বড় শপিংমলগুলোতে পছন্দের জিনিস না পেয়ে শেষ অবধি ফুটপাতের উপরই ভরসা করতে হয়। যা বড়বড় দেকানে পাওয়া যায় না, তা কিন্তু ফুটপাতেই পাওয়া যায়। এসব না পাওয়া পণ্যসামগ্রীর মধ্যে বই হলো অন্যতম এক সামগ্রী। ফুটপাতেও এই বইয়ের দোকান অজস্র থাকে। ফুটপাতে এসব বই বিক্রেতা কিন্তু সত্যিকারের বই প্রেমী। তাঁরা বইকে হৃদয়ে রেখেই বই নিয়েই সবসময় ব্যস্ত থাকে। তা হোক কমদামি আর বেশিদামি বই।

একজন মানুষের কাছে একটা বই বিক্রি করতে পারলেই সে নিজেকে ধন্য মনে করে। ফুটপাতে এসব বই বিক্রেতাদের বসার নির্দিষ্ট স্থান থাকে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট স্থানে বসেই মানুষের মাঝে জ্ঞান বিতরণ করে থাকে। বিনিময়ে পায় যতসামান্য অর্থ। তাদের মধ্যে কারো কারোর নিজের নির্দিষ্ট কোনও জায়গা থাকে না। তাঁরা যেখানেসেখানে বসেই, একটুকরো পলিথিনের কাগজের উপর বই বিছিয়ে রেখে বিক্রি করে। সময়সময় একটা ব্যাগে ভরে পাড়া মহল্লায় ঘুরে বেড়ায়। বিক্রি হোক আর না-ই হোক, তাঁরা বই নিয়ে ছুটে যায় যেখানে-সেখানে। বিক্রির আশায় খুঁজে বেড়ায় বই প্রেমী।

সত্যিকারের বই প্রেমী এখন খুবই কম। এখন ডিজিটাল যুগ। এই যুগে মানুষের নানারকম পণ্যসামগ্রীর দিকেই নজর। কেউ ফ্যাশনে, কেউ তথ্যপ্রযুক্তির পণ্যতে, কেউ খেলাধুলার সামগ্রীতে। কেউবা আবার গানবাজনার সামগ্রীতে আগ্রহী। জ্ঞানচর্চার বইয়ের দিকে মানুষের আগ্রহ থাকে কম। তাই শহরের বড়বড় লাইব্রেরি আর ফুটপাতের বইয়ের দোকানে ক্রেতার ভিড় কম থাকে। ভিড় বেশি থাকে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর দোকানে। বই প্রেমীদের বইয়ের প্রতি প্রেম-ভালবাসা বেড়ে যায় তখন, যখন ভাষা দিবসের আগমন ঘটে। তখন দেখা যায় ঢাকার বাংলা একাডেমীর সামনে বইমেলায় মানুষের উপচেপড়া ভিড়। বই কিনুক আর না কিনুক, প্রতিদিন বিকালবেলায় বইমেলায় যাবেই যাবে। একুশে বইমেলায় এসব হাজার মানুষের ভিড় থাকে শুধু ঢাকায় বসবাসকারীদের। সত্যিকারের বই প্রেমী আসে শহরের বাইর থেকে। তাঁরা আসে মাসব্যাপী বইমেলায় মাত্র একদিন। আর বাকি দিনগুলোই থাকে লোকদেখানো বই প্রেমীদের ভিড়। যাই হোক বলছিলাম এক বই বিক্রেতারর কথা। যিনি পাড়া মহল্লায় একটুকরো পলিথিনের কাগজের উপর বই বিছিয়ে বসে থাকে।

বই বিক্রেতাকে দেখতে দেখা যায় একজন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্র। কিন্তু না, লেখাপড়া করার অনেক ইচ্ছে থাকা সত্বেও, তা আর সম্ভব হয়নি। সংসারের অভাবের কারণের তাঁর লেখাপড়া করার ইচ্ছে শক্তি শেষ। একটা ছোটখাটো চাকরি করে। বেতন সামান্য। তা দিয়ে নিজেরই চলে না। ভালো একটা চাকরির আশায় দ্বারেদ্বারে অনেক ঘুরেছে। পায়নি মনেরমত একটা চাকরি। তাই বাড়িতে থাকা মা-বাবাকেও কিছু দিতে পারে না। এভাবে অতিবাহিত হয় তাঁর দীর্ঘ কয়েকটি বছর। এরপর কিছু টাকা সংগ্রহ করে চলে যায় ঢাকা সদরঘাট সংলগ্ন বাংলাবাজার।

বাংলাবাজার থেকে ছোট ছেলে-মেয়েদের পছন্দের কিছু গল্পের বই কিনে আনে। সপ্তাহে যেদিন অবসর থাকে, সেদিন বইগুলো একটা ব্যাগে করে বেরিয়ে পড়ে পাড়া মহল্লায়। সাথে থাকে একটা বড় পলিথিনের কাগজ। পলিথিন বিছিয়ে বসে পড়ে যেকোনো একটা স্কুলের সামনে। স্কুল পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা আসাযাওয়ার সময় তাঁর সামনে ভিড় করে। বই পড়ে, বই কিনে। প্রথম প্রথম ছোটদের গল্পের বই বেশি রাখতো। এখন সবধরনের বই-ই রাখে। গল্প, কবিতা, ছড়া, হাসির ধাঁধাঁ, ঠাকুরমার ঝুলি, প্রযুক্তি, ইংরাজি শিক্ষা, হিন্দি শিক্ষা সহ নানাধরনের বই। তাঁর কাছে বইয়ের দামের কোনও পার্থক্য নেই। সব বইয়ের দামই একই। যেকোনো বইয়ের মূল্যই ১০ টাকা। কোনোকোনো ছেলে-মেয়ের কাছে যদি ১০টাকার কমও থাকে, তাতে কোনও সমস্যা নেই। তিনি সেসব ছেলেমেয়েদের খালি হাতে ফেরায় না, দিয়ে দেয়। তিনি চায়, তাঁর বই ছোট-ছোট ছেলে-মেয়েরা পড়ুক। বুদ্ধি বাড়ুক, জ্ঞান বাড়ুক, আনন্দ পাক।

সপ্তাহে দুইদিন আসে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন লক্ষ্মীনারায়ণ বাজার সংলগ্ন এলাকায়। একটুকরো পলিথিনের কাগজের উপরে বই বিছিয়ে লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বসে থাকে। বিক্রি হোক আর না-ই-বা হোক, নিজেই একটা বই হাতে নিয়ে বসে-বসে পড়তে থাকে। তবে একেবারে যে, বিক্রি হয় না, তা নয়। তাঁর কাছ থেকে বই কেনার জন্য স্কুলের ছেলে-মেয়ে থাকে অধীর আগ্রহে। সময়সময় দেখা যায়, বই বিক্রেতার সামনে প্রচুর ভিড় গেলে যায়। তাঁর বইয়ের সামনে বসেই ছেলে-মেয়েরা বই মেলে পড়তে থাকে। বই বিক্রেতা তাতে খুবই আনন্দ পায়, খুশি হয়। একদিন সামনা-সামনি তাঁর সাথে কথা হয়। জিজ্ঞেস করলাম, আপনার নাম?
_মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।
-কোথায় থাকেন?
_চিটাগাং রোডের সামনে সানার পাড়।
-একা?
_হ্যাঁ ব্যাচেলর থাকি।
-আপনার বাড়ি?
_বরিশাল
-বাড়িতে কে কে থাকে?
_মা-বাবা আর এক ভাই, এক বোন।
-লেখাপড়া?
_এসএসসি পাস করেছি।
-এভাবে বই বিক্রি করে কেমন রোজগার হয়?
_লাভের আশাতো বেশি করি না। ছেলেমেয়েরা আমার কাছ থেকে বই কিনে নিচ্ছে, এতেই আমি খুশি।
-আর কী করেন?
_একটা নেটওয়ার্ক মার্কেটিংয়ে চাকরি করি। সপ্তাহে দুইদিন সময় পাই। তাই বেকার না থেকে বইগুলো নিয়ে এখানে চলে আসি।
-এই বই বিক্রিতে আপনি উৎসাহ পেলেন কোথা থেকে?
_কেন, একুশে বইমেলার ইতিহাস জানেন না?
-নাতো! আপনার জানা আছে?
_আছে মানে! খুব আছে!
-আমার কাছে বইমেলার ইতিহাস একটু বলবেন?
_শুনুন তাহলে, “বইমেলার উদ্যোক্তা ছিলেন, চিত্তরঞ্জন সাহা । যার আপ্রাণ প্রচেষ্টায় আর ধৈর্যের বিনিময়ে আজকের একুশে গ্রন্থমেলা বা একুশে বইমেলা। ইতিহাস ঘেঁটে যতটুকু জানা যায়, ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে চিত্তরঞ্জন সাহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বর্ধমান হাউজ প্রাঙ্গণে বটতলায় এক টুকরো চটের ওপর ৩২টি বই সাজিয়ে বসে থাকতো। বইগুলো ছিল কলকাতা থেকে আনা। এই ৩২টি বই ছিলো চিত্তরঞ্জন সাহা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ
(বর্তমান মুক্তধারা প্রকাশনী) থেকে প্রকাশিত। বইগুলো ছিল বাংলাদেশী শরণার্থী লেখকদের লেখা। আবার এই বইগুলোই ছিল, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের প্রথম অবদান। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি একাই বইমেলা চালিয়ে যান। ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে অন্যান্যরা অণুপ্রাণিত হোন। ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে বাংলা একাডেমীর তৎকালীন মহাপরিচালক আশরাফ সিদ্দিকী বাংলা একাডেমীকে মেলার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত করেন। ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দে মেলার সাথে যুক্ত হয় বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি; এই সংস্থাটিও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন চিত্তরঞ্জন সাহা। ১৯৮৩ সালে কাজী মনজুরে মওলা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে বাংলা একাডেমিতে প্রথম “অমর একুশে গ্রন্থমেলা”র আয়োজন সম্পন্ন করেন।” বললেন বই বিক্রেতা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।
জানি না কতটুকু সত্য আর কতটুকু মিথ্যা। তবে বইমেলার ইতিহাস তথ্য ঘেঁটে তা-ই জানা যায়। আরও জিজ্ঞেস করলাম, আপনার ভবিষ্যৎ ভাবনা কী?
_আমার ভবিষ্যৎ ভাবনা হলো, আমাদের বরিশাল টাউনে বড় একটা বইয়ের দোকান (লাইব্রেরি) দিবো। সেই লাইব্রেরিতে থাকবে দেশ-বিদেশের নামীদামী লেখকদের বই। রাজধানী ঢাকার বড়বড় লাইব্রেরিগুলোতে যা পাওয়া যায়, আমার গড়া লাইব্রেরিতেও তা-ই থাকবে। ভালো একটা বইয়ের জন্য মানুষের রাজধানীতে না আসতে হয়। আর যদি পারি বরিশাল টাউনে প্রতিবছর একটা বইমেলার আয়োজন করবো। প্রতিবছর যেমনটা হচ্ছে ঢাকা বাংলা একাডেমীর সামনে। ঠিক তেমনই হবে।

আমিনুলের সাথে কথা বলে নাতিনদের জন্য কয়েকটা বই কিনলাম। এমন অজস্র বই বিক্রেতা ফুটপাতে আর পাড়া মহল্লায় দেখা যায়। তাদের মধ্যে একজন হলেন বই বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম। এখন তাঁর কথাই ভাবছি। মনে হয় তাঁর এই বই প্রেমের মধ্যদিয়ে হয়তো কোনো একদিন এমনই একটা ইতিহাস সৃষ্টি হতে পারে। যেমটা হয়েছিল একুশে বইমেলার ইতিহাস। বইয়ের সাথে এভাবে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে যদি কোনদিন এমন একটা ইতিহাস রচনা হয়ে যায়? তাহলে হয়তো বই বিক্রেতা আমিনুলের জীবনটা সার্থক হবে। জয় হোক আমিনুলের, জয় হোক মানবতার।

নিতাই বাবু
গোদনাইল, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ
২৩-০৪-২০১৮খ্রিস্টাব্দ।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ফেসবুকে জার্মানবাংলা২৪

বিজ্ঞাপন

Check for details