পাগল সেজে বিচারকের চোখ ফাকি দিয়ে জামিন, বাদীকে হুমকি

Check for details

আশরাফুল ইসলাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা সিনিয়র জুটিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলায় কাস্টোরী হওয়ার কয়েক ঘন্টা পরে পাগলের অভিনয় করে বিচারকের চোখ ফাকি দিয়ে জামিনে মুক্তির ঘটনা ঘটেছে । জামিনে এসে পাগল ছদ্দবেশী আব্দুল হাকিম নামের এক আসামী যৌতুক মামলার বাদী ও সাক্ষীদের মামলা তুলে নেয়ার চাপ দেয় তা না হলে প্রান নাশকসহ উল্টো মিথ্যা মামলা দেয়ার হুমকি দিচ্ছে । ফলে মামলার আতংকে বাদীর পরিবার কোনঠাসা হয়ে পরেছে । ৭ দিনের অনুসন্ধানের পরে বেরিয়ে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য ।

গত ৪ জুলাই গাইবান্ধা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের মামলার (মামলা নং সি আর ৯১/১৯) হাজিরার তারিখে আসামী হাকিম তার বড় ভাইয়ের পরামর্শে চেতনানাশক ইনজেকশন শরীরে পুশ করে এবং হাতে পায়ে লোহার শিকল পরে শিকলে আবার তালা ঝুরিয়ে হাজিরা দিতে আদালতে আসে । বিজ্ঞ আদালতের বিচারক শবনম মোস্তারী আসামীকে জেল হাজাতে পাঠানোর আদেশ দেয় । আদেশ অনুযায়ী আসামীকে প্রাথমিক কোর্ট পুলিশের হেফাজতে আসামী গননা করার জন্য কোর্ট চত্তোরের হাজতে রাখা হয় । মামলার কাগজসহ বিকালে আসামীকে জেলা কারাগারে প্রেরনের কথা থাকলেও আসামী আব্দুল হাকিম হাজতে অন্যন্য আসামীদের মারধর করাসহ এমন কিছু আচরন করে যার ফলে কোট চত্বোরে হট্রোগোল সৃষ্টি হয় । এরপর আসামী পক্ষোর আইনজীবি এ্যাড: শাহাদুল আলম আসামীকে পাগল উন্মোদ অসুস্থ বলে জামিনে আবেদন করেন । গাইবান্ধা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারক শবনম মোস্তারী সরোজমিনে কোট জেল হাজতের এসে আসামীকে অচেতন অবস্থায় দেখে জামিন মঞ্জুর করে । জামিনে এসে পাগল ছদ্দবেশী আসামী আব্দুল হাকিম মামলার বাদী ও সাক্ষীদের মামলা তুলে নেয়ার চাপ দেয় তা না হলে প্রাণ নাশকের ভয় দেখিয়ে উল্টো মিথ্যা মামলা দেয়ার হুমকি দিচ্ছে ।

মামলার বাদী সিমা বেগম জানান, জামিনে এসে আসামী আব্দুল হাকিম মোবাইল ফোনে তাকে মামলা তোলার জন্য চাপ দেয় । মামলা না তুললে উল্টো মিথ্যা মামলা দেয়ার হুমকি দেয় এবং এই মামলার সাক্ষীদেও মারপিট ও নতুন মামলার আসামী করা হবে বলে ভয় দেখায়। ফলে তার পরিবার ও মামলার সাক্ষীগন নিরাপত্তাহীনতায় আছে বলে অভিযোগ করেন । আসামী আব্দুল হাকিম পাগল কি না এই তথ্য অনুসন্ধানে হাকিমের বাড়ী বাড়াই কান্দিতে গেলে তার দেখা পান নি । তার বড় ভাই জানান, হাকিম নদীতে গেছে মাছ ধরতে । আসামী আব্দুল হাকিম পাগল হলে কি ভাবে মাছ ধরতে যায় এই প্রশ্ন থেকে গেল । আসামীর বড় আব্দুল হান্নান আরো জানান, ঘটনার (জামিনের) দিন আসামী আব্দুল হাকিমকে ৫ টাকা দামের ইনজেকশন করা হয় এবং তার হাতে পায়ে লোহার শিকল পাড়ানো হয় । যাতে বিচারক কোন ভাবেই সন্দেহ না করে । মোবাইল ফোনে আসামী আব্দুল হাকিমের সাথে কথা বললে সে জানান, আমি পাগল ? কে বলেছে আমি পাগল । মামলাটা হালকা করতে পাগলের বেশ ধরেছিলাম । এবার পাগলের সার্টিফিকেট এনে বাদী ও সাক্ষীদের নামে মামলা দিবো । আসামী হাকিমের গ্রামের বাসিন্ধা সাবেক ভারপ্রাপ্ত কচুয়া ইউপি চেয়ারম্যান সোহাবাব হোসেন জানান, এই গ্রামে আব্দুল হাকিম নামের কোন পাগল নেই । কখনো শুনিনি যে হাকিম নামের কেউ পাগলামো করেছে ।

এ বিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবি এ্যাড: মিলা বেগম জানান ,গত ৪ জুলাই আইনজীবি হিসাবে তার গাইবান্ধা কোটের যা কাজকর্ম থাকে শেষ করে বাসায় ফেরে । সেদিন সন্ধ্যার দিকে আদালত থেকে ফোনে জানতে পারে কাস্টোর হওয়া আসামী আব্দুল হাকিম পাগল, উন্মাদ হয়ে কোট পুলিশকে মার-ধর করেছে । তাকে জামিন না দিলে যে কোন অঘটন ঘটাতে পারে । বিষয়টি শুনে তিনি অবাক হন । পরে তাকে এই মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবি হিসাবে আসামীকে জামিনে মুক্তিতে তার কোন বাধা নেই বলে স্লো-নামা দিতে বলে । কিন্তু তিনি তাতে অস্বীকার করে । পরে বিজ্ঞ বিচারক শবনম মোস্তারী কোট হাজতে উপস্থিত হয়ে অসুস্থতার বিভিন্ন কাগজ-পত্র দেখে তাকে জামিন দেন ।

আইনজীবি এ্যাড: মিলা বেগম আরো বলেন, তার জীবনে এই প্রথম কোন আসামী কোস্টোরীর কয়েক ঘন্টা পরে পাগলের অভিনয়ে জামিন পেয়েছে । এতে সাধরন মানুষ আইনের প্রতি আস্থা হারাবে । তাই মিডিয়ার ভাইদের এই বিষয়টি অনুসন্ধান করে সত্য ঘটনা তুলে ধরার অনুরোধ করেন তিনি ।

উলেখ্য: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের বড়াইকান্দি গ্রামের আব্দুল হাকিম । ২০১৪ সালে একই উপজেলার কামালের পাড়া ইউনিয়নের বাংগাবাড়ী গ্রামের সিমা আক্তারকে ইসলামী শরীয়া অনুয়াযী বিবাহ করেন । বিবাহের বছর খানেক পর তাদের সংসারে জন্ম নেয় পুত্র সন্তান । সুখের সংসারে চেপে বসে যৌতুকের লোভ তাই সংসারে নেমে আসে অশান্তি । সিমার বাবা সিদ্দিকুর রহমান একজন শারীরিক প্রতিবন্ধি । নেই তেমন অর্থ সম্পদ । বিবাহের সময় জমাজমি বিক্রি করে জামাইকে দেয়ার পরে এখন দেয়ার আর কিছু নেই । জামাইয়ের যৌতুকের চাহিদা মেটাতে না পাড়ায় বিভিন্ন সময় দ্বন্দ্ব-কলেহ বাধলে এই বিষয়টি স্থানীয় ভাবে মিমাংসার চেষ্টা হয় । কিন্তু সেই মিমাংসাতেও বেশী দিন সংসার টেকে না । বার বার স্ত্রী সিমার উপর নির্যাতন করে হাকিম । নির্যাতন সহ্য করতে না পেয়ে সিমা গাইবান্ধা আমলী আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের মামলা করে ( মামলা নং-৯১/১৯ )। মামলার পরে হাকিম নতুর কৌশল অবলম্বন শুরু করে এবং নিজেকে পাগল প্রমানিত করতে ভুয়া কাগজপত্র সংগ্রহ করে।

ভুক্তভোগী র্পরিবার
Facebook Comments