1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. fatama.ruma007@gmail.com : Fatama Rahman Ruma : Fatama Rahman Ruma
  3. anikbd@germanbangla24.com : Editor : Editor
  4. rafid@germanbangla24.com : rafid :
  5. SaminRahman@germanbangla24.com : Samin Rahman : Samin Rahman

‘পরকিয়া বা বহুগামীতা’ নিপাক যাক

ফাতেমা রহমান রুমা, জার্মানি :
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১০ মে, ২০২০
Check for details

আজ ১০ই মে, ইংরেজি এই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের প্রথম রবিবার, ‘বিশ্ব মা দিবস। আজকের দিনটিতে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় জীবন সংগ্রামে হার না মানা সকল মায়েদের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা। পাশাপাশি ধিক্কার রইল- ওই সব নারী-পুরুষের প্রতি যাদের কু-কর্ম আর পরকিয়া নামক বহুগামীতায় একটি সুখের সংসার ভেঙ্গে তছনছ হয়ে যায়। আজ বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে ‘পরকিয়া বা বহুগামীতা’র পরিণতি শিরোনামে লেখাটিতে ছদ্মনাম হিসেবে আনা হয়েছে- মিনাল, শায়লা, কুশাল ও রাহেলাকে। সমাজের কিছু মানুষের চরিত্রের সাথে মিল রেখে এই রূপক নামগুলোর ব্যবহার। যদিও কারো নামের সাথে এই নামগুলো মিলে যায় তার জন্য একজন লেখক হিসেবে দুঃখ প্রকাশ করে; আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কুঁড়ে খাওয়া বর্তমানে করোনার ন্যায় ভয়ঙ্কর ব্যাধী ‘পরকিয়া বা বহুগামীতা’ নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছা-
‘পরকিয়া বা বহুগামীতা’, পারিবারিক সংসার জীবনের সুখ-শান্তি সমূলে বিনষ্টের পাশাপাশি ধর্মীয় অনুশাসনেও রয়েছে এর জন্য ভয়ঙ্কর পরিণতি। যদিও এই সমাজের নানান শ্রেণি বিন্যাসে ‘পরকিয়া বা বহুগামীতা’র ভিন্ন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তবে বর্তমান সমাজের উচ্চবিত্তের মানুষগুলোর কাছে ‘পরকিয়া বা বহুগামীতা’ একটি ফ্যাশন বা ভিন্ন জীবনাগ্রহণের ক্ষেত্রে এক ধরনের ভিন্ন স্বাদ নেয়ার মতোই। এই শ্রেণির মানুষগুলো ‘পরকিয়া বা বহুগামীতা’র নামে কুৎসিত চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ করে কি ধরনের মারাত্মক ক্ষতি করছেন তা তারা নিজেরাও বোঝেন বলে অনেক মনোবিজ্ঞানীও বিশ্বাস করেন না। সম্পূর্ণ অন্ধকারে পা বাড়িয়ে মিথ্যা সুখের আশায় নিজের স্বর্গকে ধ্বংস করা ছাড়া আর কিছুই নয়। এক্ষেত্রে ‘পরকিয়া বা বহুগামীতা’য় আসক্ত নর-নারী ক্ষণিক আর বাহ্যিক রূপ-লাবণ্যের আদান-প্রদানের মাধ্যমে নিজেদের অজান্তেই তাদের প্রকৃত সুখ-শান্তি ভুলণ্ঠিত করে সুখের ঘরে নরকের জন্ম দিয়ে থাকেন। ভেঙ্গে যায় অনেক দিনে শখের সংসার। দুখিনীর মতো নির্বাসিত জীবনযাপনে বাধ্য হয় তাদের ঘরে জন্ম নেওয়া সন্তানেরা।
যা বলছিলাম- ‘পরকিয়া বা বহুগামীতা’য় উচ্চবিত্তের কথা। প্রথমেই আসি মিনাল ও শায়লার কথায়। মিনাল রাজধানী ঢাকার উত্তরায় বিশাল এক বিত্তশালীর একমাত্র ছেলে। বাবা-মায়ের খুবই আদরের সন্তান। বাবা-মায়ের একটাই আশা- তাদের একমাত্র সন্তান যেন মানুষের মতো মানুষ হয়। এই ধরনের ইচ্ছা সমাজের প্রত্যেকটি বাবা-মা’ই করে থাকেন। তবে মিনালের জন্য বিষয়টি যেন ভিন্নরকম। কারণ- এতো বিশাল সম্পত্তির অধিকারী বাবা-মায়ের উত্তরাধিকারীর হিসেবে মিনালকে একজন প্রকৃত ভালো মানুষ হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পেরিয়ে মিনাল পারিবারিক জীবনে বাবা-মায়ের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করেন। বাবা-মা স্বপ্ন দেখেন তাদের ছেলের ঘরে নতুন অতিথি আসবে এই সংসারটিকে আরও ছন্দময় ও সুন্দর ছায়াবৃতি দান করবে। কিন্তু বাবা-মার সব স্বপ্নই ভঙ্গ হয়ে যায় মিনালের বিয়ের কয়েক বছরের মাথায়। এক সমাজের নষ্টকিটের ন্যায় ভয়ঙ্কর চরিত্র ফুটে উঠে তাদের প্রিয় সন্তান মিনালের মাঝে। মিনাল তার স্ত্রীকে কোনোভাবেই সহ্য করতে পারতো না। মদ-জুয়া, বাজে নেশা, হোটেল, নাইটক্লাব আর পরনারী আসক্ত মিনাল নিজেও যেন এই সুখের সংসারে বেমানান। মিনালের এই অপকৃর্তি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর তার বাবা-মায়ের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার অবস্থা। কী করে অসম্ভব- তাদের সন্তান এমন হতে পারে। বিশ্বাস হচ্ছে না! অটেল অর্থ-সম্পদের অধিকারী মিনাল বিয়ের আগেই বিভিন্ন অভিজাত হোটেল ও নাইটক্লাবের সদস্য হয়ে যে তার জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে সেই খবর প্রকাশ পায় তার বিয়ের পর। ভেঙ্গে যায় মিনালের ছয় বছরের সংসার। স্ত্রী তাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে চান। কারণ- মিনালের স্ত্রী জানতে পারেন- মিনাল অন্য একজনের স্ত্রী পঞ্চায়োর্ধ শায়লা নামের এক নারীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে পরকিয়ায় আসক্ত। শায়লার রয়েছে দু’টি সন্তান। তার পরও অর্থলোভী শায়লা নিজের সংসারকে ঠকিয়ে মিনালের সাথে অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। রাতের আধাঁরে এক সাথে বিভিন্ন হোটেল ও নাইটক্লাবে রাতকাটায়। শায়লার বিষয়টি তার স্বামী জানতো তো কি না- তা জানা সম্ভব হয়নি; তবে মিনালের এই ধরনের পরকিয়ায় পাঁচ বছরের মেয়েকে রেখে যে তার স্ত্রী মিনালকে ডির্ভোস দিয়েছিলো- তা কিন্তু এই গল্পের কাল্পনিক চরিত্রের সত্য ঘটনা। মিনালের জীবনে ঘটে যাওয়া এমন ঘটনা নিয়ে কেটে যায় বেশকিছু কাল। মিনাল নিজেকে আত্মগোপনে নিয়ে যান। হঠাৎ ভোরের স্নিগ্ধ আলোর হাতছানিতে স্বাভাবিক জীবনে ফেরে আসার চেষ্টায় আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখেন মিনাল। পরিচয় হয় আরেক স্বপ্নভঙ্গ নারী রাহেলার সাথে। রাহেলা রাজশাহীর মেয়ে। রাজধানী ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজে পড়া অবস্থায় ভালোবেসে বিয়ে করেন কুশালকে। রাহেলার ভালোবাসায় কোনো খাদ ছিল না; নিজের জীবনের মতোই ভালোবেসে ছিলো কুশালকে। রাহেলা ও কুশালের সুখের দাম্পত্য জীবন টিকে ছিলো নয় বছর। কুশাল পেশায় ছিলেন একজন আইনজীবি। আর সেই পেশার অন্য এক নারীর সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়েন কুশাল। বিষয়টি হঠাৎ প্রকাশের পর রাহেলার কাছে আকাশ সমান বিশ্বাসের ঘরে আগুন ধরে। এক পর্যায়ে রাহেলা ও কুশালের নিজেদের মতের সিদ্ধান্তেই তারা আলাদা হয়ে যান। তবে তাদের ঘরে জন্ম নেওয়া একমাত্র সন্তান রাহেলার কাছেই থেকে যায়। রাহেলা মনের কষ্টে নিজের জীবনে উচ্চতর ডিগ্রী আর ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিদেশে পাড়ি জমান। রাহেলার ছেলে এখন অনেক বড়। মায়ের কষ্ট বোঝতে পারে। মাকে সাহস জোগায় আবারও নতুন জীবনের আশা দেখায়। একাকিত্ব জীবনের অবসান চায় রাহেলার ছেলে। এদিকে মিনালের মেয়েও অনেক বড় হয়েছে। মেয়েকে অন্যত্র পাত্রস্থ করার সময় হয়েছে। মেয়ে চলে যাবে অন্যত্র। এমন চিন্তা প্রায়ই মিনালকে ভাবায়। এমন নি অবস্থায়- ঘটনা চক্রে বিদেশে থাকা রাহেলা ও মিনালের মধ্যে এক ধরনের যোগাযোগ তৈরি হয়। প্রায়ই কথা হয়, জীবনের নানা গল্প শেয়ার করে নিয়ে দু’জনই জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা মুছে দিয়ে নতুন দিনের সুখের আশায় আবারও স্বপ্ন দেখেন। একে অপরকে কথা দেন। বিশ্বব্যাপী এই মহাদুর্যোগ করোনাকালের ইতিটানা শেষ হলে নতুন সূর্য যেভাবে পৃথিবীকে নতুন রূপে আলোকিত করবে ঠিক সেইভাবে রাহেলাও বিদেশ থেকে আশায় বুক বাঁধেন দেশে ফিরে মিনালকে বিয়ে করবে। মিনালও অন্তরে বিষ রেখে রাহেলাকে চূড়ান্ত কথা দেয়। কিন্তু মিনালের রক্তে তো পরকিয়া আসক্তির সেই কালো রক্ত- এমনভাবে বিষিয়ে দিয়েছে যাতে কোনো ঝরনা ধারার পানিতে পরিষ্কার সম্ভব নয়! মিনাল আবারও এক ব্যবসায়ীর স্ত্রীর সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়েন। ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রী রাহেলা ও মিনালের মধ্যেকার সুন্দর জীবনের মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়। রাহেলাকে শাসায়, হুমকি দেয়! রাহেলা উচ্চবিত্তের এই পরকিয়া খেলায় আবারও হেরে যায়। বিশ্বাস হারায় এই সমাজের নরকিট ‘পরকিয়া বা বহুগামীতা’ মানুষগুলোর প্রতি।

পরিশেষে বলতে চাই- আজকের বিশ্ব মা দিবসে শুদ্ধ সমাজ গঠনে একটি স্লোগান হোক-‘পরকিয়া বা বহুগামীতা’ নিপাক যাক, বিশ্বের প্রতিটি নারী শ্রেষ্ঠ মায়ের সম্মান ফিরে পাক।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ফেসবুকে জার্মানবাংলা২৪

বিজ্ঞাপন

Check for details