নোয়াখালীতে হাসপাতালে ছাদের পলেস্তারা ধস: আহতদের পরিচয় মিলেছে

Check for details

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের ছাদের পলেস্তারা আহত চার শিশুসহ ৯ জনের পরিচয় জানা গেছে। বুধবার সকালের এ ঘটনার পর থেকে হাসপাতালে থাকা সবার মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত বছরের জুলাই মাসেও ওই ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে তিন নার্স আহত হয়েছিলেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, বুধবার ৭টার দিকে হাসপাতালের মূল ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত শিশু ওয়ার্ডের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে ঘুমিয়ে থাকা রোগী ও তাদের স্বজন মিলিয়ে ৯ জন আহত হন। তাদের মধ্যে চার শিশু। আহতরা হলো- কবিরহাট উপজেলার নলুয়া গ্রামের শিশু ইসমাইল হোসেন (৫), তার বাবা ইব্রাহিম খলিল (৫০), রোগী সুমাইয়া (৮), ইমাম উদ্দিন (৫ মাস), সুবর্ণচর উপজেলার চর জব্বার গ্রামের রাফি (২), মো. রাসেল (১৬), বাদশা (৩৫) ও রোজিনা আক্তার (২০) এবং সদর উপজেলার সোনাপুরের পারুল বেগম (৪৭)। তাদের মধ্যে ইসমাইলের অবস্থা গুরুতর। পলেস্তারার আঘাতে তার মাথা ও মুখমণ্ডল ফেটে গেছে। পলেস্তারা খসে পড়ার সময় বিকট শব্দে ওই ওয়ার্ডসহ আশপাশের ওয়ার্ডগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রোগী ও তাদের স্বজনরা এদিক-ওদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। অনেক রোগী ছাড়পত্র ছাড়াই হাসপাতাল ত্যাগ করেন। কেউ কেউ বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে অন্যান্য ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

নোয়াখালী জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস হাসপাতাল পরিদর্শন করে আহতদের চিকিৎসার খোঁজ নেন। ওই সময় তিনি মেডিসিন বিভাগের দুটি ওয়ার্ড ও শিশু বিভাগের দুটি ওয়ার্ড পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। সেখানকার রোগীদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন তিনি। নোয়াখালী হাসপাতালে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। গত বছরের ১১ জুলাই মেডিসিন ওয়ার্ডে কর্তব্যরত নার্সদের ওপর পলেস্তারা খসে পড়েছিল। এতে তিনজন আহত হন। ২০১৫ সালে হাসপতালের বারান্দার পলেস্তারা খসে পড়েছিল।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ নোয়াখালী জেলার সভাপতি ডা. ফজলে এলাহী খান, সাধারণ সম্পাদক ডা. মাহবুবুর রহমান ও হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সৈয়দ মহি উদ্দিন ফজলুল আজিম বলেন, হাসপাতাল ভবনটি যে কোনো সময় ধসে পড়ে আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ভবনটি ভেঙে দ্রুত কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি জানান তারা।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. খলিল উল্যা বলেন, জেলা প্রশাসককের নির্দেশে হাসপাতালের ঝুঁকিপূর্ণ শিশু বিভাগের দুটি ও মেডিসিন বিভাগের দুটি ওয়ার্ড পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তর ২০১৫ সালে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে। কিন্তু ভবন সংকটের কারণে অনিচ্ছা সত্বেও এখানেই রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান,পুরনো ভবন ভেঙে নতুন ভবনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে

Facebook Comments