জার্মানির শিব শংকর পাল এর এভারেষ্ট ম্যারাথন

Check for details

শিব শংকর পাল এর এভারেস্ট ম্যারাথন :

ফাতেমা রহমান রুমা :
জার্মানির মিউনিক এ বসবাসরত শিব শংকর এর কথাপোকথন জার্মান বাংলা ২৪ কে জানান—-
প্রকৃতিকে ভালোবাসি আমি ছোটবেলা থেকেই। তবে পাহাড় আমাকে টানে হয়তো ইউরোপে আসার পর থেকে। কারন যেখানে আমার জন্ম সেখানে তো আর পাহাড় নাই। ইউরোপে এসে যখন পাহাড় দেখলাম তখন তার প্রতি একটা অন্যরকম টান অনুভব করলাম। তখন থেকেই শুরু আমার পাহাড়ে ভ্রমন।

আজ খুব সকালেই বের হয়েছি ট্রেনিং এর জন্য। প্রায় ৫০০০ মিটার উপরে আমি, বরফ না থাকলেও বেশ ঠান্ডা। মেঘ ঠেলে মাঝে মাঝে সুর্য দেখা দিলেও পরমুহুর্তেই আবার অন্ধকার হয়ে আসে। চলতে চলতে কোন এক সময় একজন নেপালী ব্যক্তির সাথে পরিচয় হয়। সে কাঠমুন্ডু থেকে এসেছে। যখন শে শুনল যে আমি কোন গ্রুপের সাথে না, একা এসেছি তখন জড়িয়ে ধরে বলল আমি তো কাঠমুন্ডু থেকেও সাহস পাইনি। সাথে ট্রেইনার আছে।

আজ পথ চলতে চলতে কোন এক সময় আমার মোবাইল টা হারিয়ে ফেলি। যখন আমার খেয়াল হয় মোবাইলটা আমার সাথে নাই তখন আমি প্রায় ৪ কিলোমিটার পথ সামনে এগিয়ে গেছি। তখন আমার এতো কষ্ট হচ্ছিল যেন
আমি আমার মহা মুল্যবান সম্পদ হারিয়ে ফেলেছি কারন এর মধ্যেই আমার সব ছবিগুলো। কিন্তু ঈশ্বরের কৃপায় আমি ফিরে এসে আমার মোবাইল টা পেয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলি। তারপর আমি অন্য একটা পাহাড়ের চুড়ায় যাই।
ওটা ছিল প্রায় ৫৮০০ মিটার উচ্চতায়। আমি যেখানে ছিলাম সেখান থেকে একপাশে ছিল একটু নিচু পাহাড় আর অপর পাশে দৈত্যের মত বিশাল আকৃতির পাহাড়। আমার ভাগ্যটা ভালো, ঐ মুহুর্তে ১০/১৫ মিনিটের জন্য রোদ ছিল। আমি মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করলাম প্রকৃতিকে।
আর উপলব্ধি করলাম ঈশ্বরকে।

সর্বমোট ৮ ঘন্টা ট্রেনিং এর পর ফিরে আসলাম আমার গন্তব্যে। কালকে আবার এগিয়ে যাব সামনের দিকে।
Base Camp ⛺️ আর বেশিদুর না। আস্তে আস্তে আমি আমার গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি..

Facebook Comments