জার্মানির শিব শংকর পাল এর এভারেষ্ট ম্যারাথন

Check for details

ফাতেমা রহমান রুমা

এভারেস্ট ম্যারাথন ২৯.০৫.২০১৯ শিব শংকর পাল আজ ফোন করে জার্মান বাংলা ২৪ এর পরিবারের কাছে অনুভুতির কথা প্রকাশ করলেন

আজকের ট্রেকিং শুরু হয়েছে Dingboche থেকে Lobuche পর্যন্ত। পথ খুব বেশি না , ৯ কিলোমিটারের মত কিন্তু অনেক কষ্ট হয়েছে। পথ বেশী ভালো ছিল না।এখন আমি প্রায় ৫৮০০ মিটার উপরে তাই একটু অক্সিজেনের সমস্যা হয় মাঝেমধ্যে। কাঠমুন্ডুর পর থেকে আমার খাওয়া দাওয়ারও একটু সমস্যা হচ্ছে।আমি নিরামিষ ভোজী আর নিরামিষ আইটেম খুবই কম এখানে। যারা নেপালে এসে থাকবে তারা নিশ্চয়ই জানবে এখানে “ডাল-ভাত” নামে একটা মেন্যু পাওয়া যায় রেস্টুরেন্টগুলোতে। এতে ভাতের সাথে ডাল আর আলুর তরকারী আর সামান্য কিছু থাকে। তা যাই হোক চলছে সবকিছু। কষ্ট হলেই গোপালের কথা মনে হয়। বেচারীকে সাথে রাখলেই ভালো হতো হয়তো।

যখন আমার ছেলে-মেয়েরা ছোট ছিল তখন ওদের কাঁধে বা পিঠে নিয়ে ট্রেকিং করতাম।এখন ওরা বড় হয়ে গেছে তাই আর অভ্যাসটাও নাই।এখন আমার ব্যাগটাকেই ভারী মনে হচ্ছে।এতো কষ্টের পরেও যখন আমি আমার গন্তব্যে পৌঁছতে পারি তখন আর কিছুই মনে থাকে না সব ভুলে প্রকৃতির সাথে মিলে মিশে একাকার হয়ে যাই।

প্রায় ৪ ঘন্টার মত লেগেছে আমার আজ। খুব ক্লান্ত ছিলাম। দুপুরে সামান্য কিছু lunch করে বিশ্রাম নিই আমার রুমে। তারপর পুরো ফিট হয়ে যাই। আবার বেরিয়ে যাই, কাছেই ছিল পিরামিড পাহাড়। খুব কম সময়েই পৌঁছে যাই সেখানে। খুব সুন্দর একটা জায়গা। ওখানে একটা গবেষনাগার আছে এবং পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু স্থানের একমাত্র গবেষনাগার। এখানেও প্রচুর টুরিস্ট আসে। প্রথমদিন থেকে এই পর্যন্ত প্রতিটা জায়গাতেই টুরিস্ট ছিল বিভিন্ন দেশের। চাইনিজ, ইন্ডিয়ান, জার্মানি, পোল্যান্ড,আমেরিকান…..।বাংলাদেশী এখনো চোখে পড়েনি।

এখন অনেক রাত এখানে। বাইরে অনেক ঠান্ডা -৬ ডিগ্রী। আকাশ অনেক স্বচ্ছ তাই নক্ষত্র গুলো অনেক বড় আর কাছে দেখা যাচ্ছে, ওরিয়ন, জুপিটার।মন চাচ্ছিল আরেকটু সময় দেখি তারাগুলো কিন্তু এতোবেশি ঠান্ডা যে থাকতে পারছিলাম না বাইরে,ঘরেও একই তাপমাত্রা। এতো ঠান্ডাতেও কিছু মানুষ বাইরে খোলা আকাশের নীচে তাঁবু টানিয়ে রাত্রি যাপন করে।

কাল সকালে আবার রওনা হব পরবর্তী গন্তব্যের দিকে Gorakshep.তারপরদিনই Base Camp ⛺️ আমার স্বপ্ন। আর মাত্র ১৩ কিলোমিটার ঈশ্বর আমার সহায় হোন।

 

Facebook Comments