‘জার্মানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের তৈরি ই-পাসপোর্ট ডিসেম্বরেই চালু’

Check for details

জার্মানবাংলা রিপোর্ট : জার্মানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের তৈরি বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট) চালুর ফের ঘোষণা দিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ২৫ সেপ্টেম্বর, বুধবার, সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বরেই চালু হচ্ছে ই-পাসপোর্ট সেবা। ফলে বিশ্বের ১১৯টি দেশের নাগরিকদের ই-পাসপোর্ট সেবা নেওয়ার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশেরও।

মন্ত্রী বলেন. ডিসেম্বরেই চালু হচ্ছে ই-পাসপোর্ট। এটি বাস্তবায়নে জার্মানির ভেরিডোস কোম্পানি কাজ করছে; তারা ডিসেম্বরের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারবে। এর পর তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

২০১৮ সালের ১৯ জুলাই ঢাকায় জার্মানির সরকারি প্রতিষ্ঠান ভেরিডোস জেএমবিএইচের সঙ্গে ডিআইপির ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ওই বছরের ডিসেম্বরেই অত্যাধুনিক এ পাসপোর্ট গ্রাহকের হাতে তুলে দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতার কারণ দেখিয়ে তার তারিখ কয়েকবার পেছানো হয়।

উল্লেখ্য, বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত ই-পাসপোর্ট চালু করা নিয়ে এক ধরনের জটিলতায় সরকারের পক্ষ থেকে গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে উদ্বোধনের কথা থাকলেও তা করা সম্ভব হয়নি। ই-পাসপোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে জার্মানির প্রতিষ্ঠান ভেরিডোসের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি নিয়ে সংকট, ই-গেট স্থাপনের কাজে মন্থরগতি, নীতিমালা এবং ফি নির্ধারণ চূড়ান্ত না হওয়ায় তখন ঝুলে যায় এ বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট প্রকল্পের কাজ।

ই-পাসপোর্টের সুবিধা কী?
ই-পাসপোর্টের সুবিধা সম্পর্কে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো যে, খুব দ্রুত ও সহজে ভ্রমণকারীরা যাতায়াত করতে পারবেন। ই-গেট ব্যবহার করে তারা যাতায়াত করবেন। ফলে বিভিন্ন বিমানবন্দরে তাদের ভিসা চেকিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না। এর মাধ্যমে দ্রুত তাদের ইমিগ্রেশন হয়ে যাবে।

তবে যখন একজন ভ্রমণকারী ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করে যাতায়াত করবেন, সঙ্গে সঙ্গে সেটি কেন্দ্রীয় তথ্যাগারের (পাবলিক কি ডাইরেক্টরি-পিকেডি) সঙ্গে যোগাযোগ করে তার সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবে।

ই-গেটের নির্দিষ্ট স্থানে পাসপোর্ট রেখে দাঁড়ালে ক্যামেরা ছবি তুলে নেবে। থাকবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের ব্যবস্থাও। সব ঠিক থাকলে তিনি ইমিগ্রেশন পেরিয়ে যেতে পারবেন।

তবে কোন গরমিল থাকলে লালবাতি জ্বলে উঠবে। তখন সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা হস্তক্ষেপ করবেন।

কারো বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকলে, সেটিও সঙ্গে সঙ্গে জানা যাবে।

ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও) এই পিকেডি পরিচালনা করে। ফলে ইন্টারপোলসহ বিমান ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য যাচাই করতে পারে।

এখানে ৩৮টি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকায় এ ধরণের পাসপোর্ট জাল করা সহজ নয় বলে তিনি জানান।

Facebook Comments