জাতিসংঘে ৭৪তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর যোগদান সফল হোক

Check for details

বাঙালি জাতির স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, ১৮ কোটি জনগণের নেত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ৭৪তম অধিবেশনে যোগ দিতে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণকেন্দ্র নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন। তিনি অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটি আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও দুটি আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করবেন। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উজ্জ্বল কর্মময় স্বীকৃতিস্বরূপ অ্যাওয়ার্ডের সংখ্যা হবে ৩৭টি।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর এবারের অংশগ্রহণ নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, বৈঠক এবং আলোচনা করবেন। তার মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ইস্যুটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে প্রতি বছর এই সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘে গিয়ে থাকেন । প্রত্যেকবারই তিনি বাংলায় ভাষণ দেন। বিশ্বসভায় মাতৃভাষায় ভাষণ দান প্রথম শুরু করেন তাঁর পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ১৯৭৪ সালে। সেই ধারা তিনি অব্যাহত রেখেছেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি যাঁরা মাতৃভাষা বাংলার জন্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই-আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন, তাঁদের আত্মা নিশ্চয়ই খুশি হবে জাতিসংঘে বাংলার রাষ্ট্রনায়ক এবং সরকারপ্রধানদের বাংলায় ভাষণ দেয়ায়। এ জন্যেও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্রে সফর প্রতি বছরই বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নবদিগন্তের সূচনা করে। কেননা তিনি এখন দেশে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত। তিনি কেবল বাংলাদেশকেই একটি ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত করে উন্নত দেশে পরিণত করেননি, তিনি জাতিসংঘের এসডিজি (সাসটেনেইবল ডেভেলপমেন্ট গোলস) অর্জন করে বিশ্বের একজন অগ্রগণ্য রাষ্ট্রনায়কের সম্মান অর্জন করেছেন। যা বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের আসনকে অনেক উঁচুতে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সব কিছু ছাপিয়ে তাঁর জাতিসংঘ সফর নিউইয়র্কে আসা, নিউইয়র্কতো বটেই, সমগ্র উত্তর আমেরিকা, এমন কি ইউরোপে বসবাসরত অনেক বাঙালিকে উদ্দীপ্ত এবং উজ্জীবিত করে তোলে। তিনি শুধু স্বদেশের জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি মাদার অব হিউম্যানিটি হিসেবে বিশ্বজুড়ে নন্দিত। তিনি গণতন্ত্রের মানসকন্যা। তাঁর উপর দেশের ১৮ কোটি মানুষের আস্থা। তাঁর উপস্থিতিতে বিশ্বের রাজধানীখ্যাত নিউইয়র্ককে বাঙালি কমিউনিটি গর্বিত, উদ্বেলিত ও উজ্জীবিত হয়। একই সঙ্গে প্রবাসী প্রাণের বাঁধভাঙা আবেগ ও আকুতি প্রকাশের প্রেরণা সৃষ্টি করে।

প্রার্থনা করি, প্রধানমন্ত্রী, বিশ্বনেত্রী, উন্নয়নের রোল মডেল শেখ হাসিনার বিশ্বসভায় তাঁর ৭৪তম অংশগ্রহণ সফল হোক। তার অবস্থান সুখকর ও শান্তিময় হোক। কারণ- স্বদেশে-প্রবাসে আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা-স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য একমাত্র আপনিই আমাদের আশার বাতিঘর।

সম্পাদক ও প্রকাশক
জার্মানবাংলা২৪ ডটকম

Facebook Comments