1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. adminmonir@germanbangla24.com : monir uzzaman : monir uzzaman
  3. fatama.ruma007@gmail.com : Fatama Rahman Ruma : Fatama Rahman
  4. anikbd@germanbangla24.com : SIDDIQUE ANIK : ANIK SIDDIQUE
  5. infi@germanbangla24.com : Hasan Imam Juwel : Hasan Imam Juwel
  6. rafid@germanbangla24.com : rafid :
  7. SaminRahman@germanbangla24.com : Samin Rahman : Samin Rahman

গোধূলির ছায়া

মীর জেসমিন ওয়াহেদ।
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২১
মীর জেসমিন ওয়াহেদ।
Check for details

রিমির মন খারাপের কথা আকাশের মেঘগুলো কি করে জানে ঘন কালো অন্ধকারে ছেয়ে গেছে চারপাশ। হঠাত এত অন্ধকারে দূরের কাছের দূরত্ব গুছে গিয়ে সব কিছুর অবস্থান কি স্পষ্ট লাগছে। চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিয়ে রিমি ছাদে চলে গেল ঝড়ের নটনৃত্যের তান্ডব দেখতে। আসিফ রিমিকে ছেড়ে গেছে তিন বছর হল। ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে আসিফ রিমিকে একা করে রেখে গেছে প্রাণহীন বাড়িটার বিষাদের ছায়াতে। নিঃসন্তান রিমি সারাদিন কাটে ছবি এঁকে গান করে।

চারপাশে এত রঙের বাহার কিন্ত রিমির ছবির রঙগুলো ধূসর আর কালো নীলে ঘুরাঘুরি করে।
ঠান্ডা বাতাস ছুটেছে রিমির চুল উড়ছে ঝড়ের বীভৎস তান্ডবে। আকাশে বিদ্যুত চমকাছে।
প্রকৃতির তান্ডবে রিমির মনের ক্ষোভগুলো আছড়ে পড়ছে ।মনে পড়ছে ফেলে আসা দিনের সুখ দুঃখের স্মৃতিদের ।
এই বাড়িতে যেদিন রিমি প্রথম আসে তখন এই বাড়িটা ছিল হাট বাজার।
আজ বাড়িটার দেয়াল খিলান দরজা সব ঠিক আছে নাই শুধু সেদিনের মানুষরা।
মানুষগুলো চলে গেছে কিন্ত তাদের দেয়া কষ্টগুলো রিমি আজও ভুলেনি।
ঝড়ের বেগ বাড়ছে।বাড়ছে রিমির মন খারাপের পরিধি।

ছাদের বৃষ্টি বাতাসের তান্ডবে রিমি ছাদের চিলেকোঠার মধ্যেই দাড়িয়ে থেকে দেখছে ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঝড় বৃষ্টির মান অভিমান। বৃষ্টির প্রকোপ কমতেই আকাশের রঙ চাল ধোয়া অনুজ্জ্বল রঙের মতো ফিকে হতে লাগলো অন্ধকার। চারপাশের ভেজা গাছপালা র পচা পাতার কটু গন্ধে রিমির মাথাটা ঘুরতে লাগল।

চিলেকোঠা থেকে রিমি নেমে এসে আধভেজা শাড়িটা বদলে নিল। আজ রিমি পরলো নীল সবুজের জমিনে একটা শাড়ি।হাতের চুড়িগুলো রিনিক ঝিনিক করছে চুলের বিনুনিতে হাত দিতেই।

আস্তে আস্তে জানালার বাইরের আকাশের রঙ পাল্টে নীল আকাশের জমিনে পেঁজা পেঁজা মেঘ উড়ছে পূর্ণ স্বাধীনতায়।
দরজা ভিজিয়ে সিঁড়িতে দেখা ভারী ফ্রেমের চশমার আড়ালে খুব চেনা অচেনা একজন।
কাছে যেতেই রিমি বলে নতুন আসছেন আগে তো দেখিনি।

শীতে জমে থাকা অবয়বের মতো ছেলেটি এক দৃষ্টিতে রিমির মুখের দিকে তাকিয়ে বলে আমাকে চিনতে পারছো না আমি রুশো।

তোমার সহপাঠী । কতোদিন পর দেখা বল তো।
প্রায় দুই যুগের ও বেশি।শেষবার যখন দেখা হয় তখন তুমি খুব ব্যস্ত পরীক্ষা চাকরি নতুন জীবনের প্রবেশের তাগাদা নিয়ে।
আমরা একসাথে পড়েছি । ক্যাম্পাস এ দুজন কতো পাশাপাশি হেঁটেছি গল্প করেছি গলা ছেড়ে গান কবিতা করেছি। এখন চিনেছো আমি রুশো। তোমার সাথে যার সারাক্ষণ খুনসুটি ছিল গান কবিতা নিয়ে। তুমি কিন্ত ভাল আবৃত্তি করতে।
তোমার সেই” পরের জন্মে ষোলই সঠিক ”
কবিতাটি এখনও কানে বাজে।

যখন তুমি আবৃত্তি করতে আমি মুগ্ধ চোখে তোমার ঐ মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতাম।
রিমি অবাক চোখে তাকিয়ে বলে রুশো তোমাকে চেনাই যাচ্ছে না কোথায় থাকো এরকম নানা প্রশ্ন করতে থাকলো হঠাত দেখা তার প্রিয় বন্ধু রুশোর সাথে।রুশো রিমির মুখের দিকে তাকিয়ে বলে তুমি একটুও পাল্টাও নাই। এখনও অস্থিরতাকে সাথে নিয়ে প্রশ্ন করো।রিমি লজ্জা পেয়ে বলল আসলে অনেক দিন পর প্রিয় বন্ধুর দেখা পাওয়াতে এত কথা বললাম। কিছু মনে করো না।
হঠাত রিমি পা বাড়ালো খোলা আকাশের নীচে রাস্তার দিকে।
চোখে অঝোর কান্না। প্রকৃতির কান্নার বাকিটুকু রিমির চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে।
রুশো রিমির কাছে গিয়ে বলল আসিফ কেমন আছে? আসিফ রুশো রিমি এক বিভাগে পড়তো। রুশো আর আসিফ খুব ভাল বন্ধু ছিল। দুজনেই রিমিকে পছন্দ করতো। কিন্ত রিমি আসিফ কে বিয়ে করলো। রুশোর ভাল লাগার কথা রিমি কখনোই জানত না।

রুশো রিমির কাঁধে হাত রাখলো শান্ত গলায় বললো মৃত্যুর উপর কারো হাত নেই। আসিফ চলে গেছে কিন্ত আসিফের রেখে যাওয়া কাজ চল আমরা দুবন্ধু মিলে শেষ করব।

রিমি দেখে তার ঘরের জানালা ঘেঁষে সমস্ত আকাশের নীলের মধ্যেই হালকা মেঘেরা জড়ো হচ্ছে।
রুশো বলে রিমি দেখো মেঘেরা ভেসে ভেসে যাচ্ছে জলমেঘদের উড়িয়ে দিয়ে।
তোমার কষ্টরা এমনি মিলিয়ে যাবে আসিফের অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার মধ্যে দিয়ে।
রুশো রিমি থেকে বিদায় নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে অন্যমনস্কভাবে পিছনে তাকিয়ে রিমিকে হাত নেড়ে বিদায় দিতে দিতে।
রিমি জানালার গ্রিল ধরে ছেঁড়া মেঘদের দিকে তাকিয়ে বিড় বিড় করতে থাকে “রাতের সব তারারা থাকে দিনের আলোর গভীরে”
আসিফ তাকে ছেড়ে গেছে

আর রুশো এসেছে এ বেলায় আসিফের বন্ধু হয়ে তার অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার জন্য।
রুশো এই বেলায় রিমির জীবনে এসেছে বিশ্বাস আর ভরসার ছায়ার মায়া হয়ে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ফেসবুকে জার্মানবাংলা২৪

বিজ্ঞাপন

Check for details