1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. fatama.ruma007@gmail.com : Fatama Rahman Ruma : Fatama Rahman Ruma
  3. anikbd@germanbangla24.com : Editor : Editor
  4. rafid@germanbangla24.com : rafid :
  5. SaminRahman@germanbangla24.com : Samin Rahman : Samin Rahman

গাজীপুরে চাঞ্চল্যকর সাত বছরের শিশু গণধর্ষণ ও হত্যার রহস্য উদঘাটন

হাবিবুর রহমান, গাজীপুর (বাংলাদেশ)
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৮ মে, ২০২০
Check for details

গাজীপুরে চাঞ্চল্যকর সাত বছরের শিশু গণধর্ষণ ও হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে । হত্যাকান্ডে জড়িত কিশোরগন্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার বেলতলা গ্রামের ওমর ফারুকের ছেলে নিলয় (১৫)কে সোমবার (১৮ মে) আটক করেছে র‌্যাব সদস্যরা ।

শনিবার (১৬ মে) গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী রেল গেইট এলাকার একটি ময়লার স্তুপ থেকে মহানগরীর টঙ্গী বেলতলা এলাকার ভাড়াটিয়া মোঃ মামুন মিয়ার মেয়ে মাদ্রাসার ছাত্রী চাদনী(০৭) এর লাশ উদ্ধার করা হয়।

ভিকটিম চাদনী কে ধর্ষণের পর গলা টিপে এবং দুই পায়ে আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা যায়। মেয়েটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেনীতে লেখাপড়া করত। ঘটনার আগের দিন ১৫ মে দুপুের ভিকটিম চাদনী তার বাসা হতে ১০০ গজ দূরে রেল লাইনের পাশে খেলার মাঠে খেলাধুলা করতে যায়। পরবর্তীতে বাসায় না ফেরায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করেও পাইনি। ওই রাতে স্থানীয় মসজিদের মাইকে নিখোঁজের ঘোষণা দেওয়া হয়। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পরের দিন ১৬ মে সকাল ১০টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন মধুমিতা রেল গেইট এলাকায় সজীবের ইটের স্তুপের পাশে থেকে ভিকটিম চাদনীর মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহের গলায় ও দুই পায়ে আঘাতের চিহৃসহ ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা দায়ের করেন।

ওই নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব-১ এর একটি গোয়েন্দা দল অতি দ্রুততার সাথে ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।
গ্রেফতারকৃত আসামী’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, সে একটি সংঘবদ্ধ অস্ত্রধারী চুরি, ছিনতাইকারী দলের অন্যতম সক্রিয় সদস্য। সে আরও জানায় যে, দীর্ঘ দিন যাবৎ সে এবং তার সহযোগীরা মিলে টঙ্গী রেল স্টেশন এবং তার আশপাশ এলাকায় নিয়মিত চুরি ছিনতাই সংঘঠিত করে আসছিল। ধৃত আসামীর নিলয় এর পরিবার এবং ভিকটিম চাদনীর পরিবার একই ভবনে ভাড়া থাকত, সেই সুবাদে ধৃত আসামী নিলয় এবং ভিকটিম চাদনী পূর্ব পরিচিত।

ঘটনার দিন গত ১৫ মে বিকাল ৩ টা দিকে ভিকটিম চাদনী খেলার মাঠে খেলাধুলা করতে আসলে ধৃত আসামী নিলয়(১৫) এবং এই ঘটনার অন্যতম হোতা তার পলাতক সহযোগী মিলে ভিকটিম চাদনীকে চোখে চোখে রাখে এবং খেলাধুলা চলাকালীন নিলয় তাকে কৃষ্ণচূড়া গাছ থেকে ফুল পেড়ে দেয়। ভিকটিম চাদনী বাসায় ফিরার পথে বৃষ্টি হওয়ায় আশে পাশে লোক সমাগম কম থাকায় ধৃত আসামী নিলয় ও তার সহযোগী পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে লোক চক্ষুর আড়ালে নিহত চাদনীকে চকলেট কিনে দেওয়ার নাম করে মিথ্যা কথা বলে ফুসলিয়ে পার্শ্ববর্তী টঙ্গীস্থ মধুমিতা রেল গেইট এলাকায় সজীবের ইটের স্তুপের আড়ালে নিয়ে যায়। এর পর প্রথমে ধৃত আসামী নিলয় ভিকটিমের দুই হাত মুখ চেপে ধরে রাখে এবং তার সহযোগী শিশু চাদনীকে ধর্ষণ করে। এভাবে তারা দুই জনই ভিকটিমকে জোড়পূর্বক পালাক্রমে একাধিক বার গণধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ভিকটিম চাদনী কান্নাকাটি করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং ধর্ষণকারীরা ভাবে ভিকটিম বাড়ীতে গিয়ে সবাইকে সবকিছু বলে দিবে। এসময় পলাতক ধর্ষক, ভিকটিম চাদনীর গলা টিপে ধরে এবং নিলয় ভিকটিমের দুই পায়ে আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরবর্তীতে তারা ভিকটিম চাদনীর মরদেহ ময়লার স্তুপে ফেলে রেখে সেখান হতে দ্রুত পালিয়ে যায়। এই ধর্ষণ ও হত্যা মামলার পলাতক প্রধান আসামীকে আটক করতে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ফেসবুকে জার্মানবাংলা২৪

বিজ্ঞাপন

Check for details