‘গরমে ঘরের বারান্দায় চটে বসে ক্লাস ও শীতের সময় মাঠ’

Check for details

এইচ এম আলমগীর কবির, সিরাজগঞ্জ:সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার খাষকাউলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকটে পরিত্যক্ত ভবনের বারান্দায় চটে বসে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাড়াশুনা করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অপরদিকে শিক্ষার্থীরা পড়াশুনায় পিছিয়ে পড়ছে। সমস্যা নিরসনে দ্রুত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীর শিক্ষার্থী ছালাম, জোসনা ও ইয়াকুব আলী বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শীতের সময় মাঠে ও গরমে ভাঙ্গা ঘরের বারান্দায় চটে বসে ক্লাস করতে হয়। অনেক সময় বৃষ্টি আসলে আর ক্লাস করা হয়না।

সরেজমিন জানা যায়, যমুনার ভাঙনে বিধ্বস্ত চৌহালীতে শিক্ষা বিস্তারের জন্য ১৯৪৫ সালে উত্তর খাষকাউলিয়া এলাকায় খাষকাউলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাড়তে থাকে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা। বর্তমানে ১০ জন শিক্ষক ২৭৫ জন শিক্ষার্থীকে নিয়মিত পাঠদান করাচ্ছেন। বিদ্যালয়ের একটি পাকা ভবনে ২টি শ্রেনী কক্ষ ও ওলালসেট ঘরে ৩টি শ্রেনী কক্ষে পাঠদান চলছে। এসব কক্ষে শিক্ষার্থীদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় পরিত্যক্ত একটি টিনের ঘরের বারান্দায় মেঝেতে চট পেড়ে অনেক কষ্টে ক্লাস নিতে দেখা গেছে। এসময় প্রচন্ড গরমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদিন জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়টির শ্রেণিকক্ষ ও অবকাঠামো সংকটের কারণে পাঠদান মারাক্তক ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টি অথবা তীব্র গরমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্টে গিঞ্চি পরিবেশে মাটিতে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে। দীর্ঘ দিনের এ সমস্যা সমাধানে ৩-৪ বছর আগে সংশ্লিষ্ট অফিসে জানানো হয়েছে। তারা এসে ভবন নির্মানের জন্য মাপঝোক করে নিয়ে গেলেও এখনও কোন নতুন ভবন নির্মান হয়নি। একারনে চরম দুর্ভোগে পড়ে পরিত্যক্ত একটি ঘরের ভাঙ্গা বারান্দায় পাঠদান অব্যাহত রাখতে হচ্ছে।

এছাড়া বিদ্যালয়টি রাস্তা সংলগ্ন হওয়ায় মাটি বাহি ট্রলি ও অটো ভ্যানের শব্দে ক্লাসে মনোযোগ আসে না। সমস্যাটি নিরসনে দ্রুত নতুন ভবনের দাবি জানায় শিশু শিক্ষার্থীরা।

এদিকে শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ক্লাস রুম সংকটের কারনে একদিকে যেমন পাঠদানে বিঘন্ন ঘটছে, অপরদিকে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো ক্লাস করতে না পারায় পিছিয়ে পড়ছে।

চৌহালী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান খান জানান, একটি টিনের ঘর পরিত্যক্ত থাকায় শ্রেনী কক্ষের সংকট দেখা দিয়েছে। অন্য শ্রেনী কক্ষ গুলোও সংস্কার করা প্রয়োজন। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মান হলে সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি জানান।

Facebook Comments