1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. adminmonir@germanbangla24.com : monir uzzaman : monir uzzaman
  3. fatama.ruma007@gmail.com : Fatama Rahman Ruma : Fatama Rahman
  4. anikbd@germanbangla24.com : SIDDIQUE ANIK : ANIK SIDDIQUE
  5. infi@germanbangla24.com : Hasan Imam Juwel : Hasan Imam Juwel
  6. rafid@germanbangla24.com : rafid :
  7. SaminRahman@germanbangla24.com : Samin Rahman : Samin Rahman
শিরোনাম :
লেবাননে প্রবাসী অধিকার পরিষদের ইফতার মাহফিল বেগম জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেবে সরকার : অ্যাটর্নি জেনারেল করোনা : ভারতে শনাক্ত ২ কোটি ছাড়াল করোনা : বিধিনিষেধ আবারও বাড়ল, চলবে না দূরপাল্লার বাস অল ইউরোপ বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফয়সাল ও সম্পাদক ফারুক মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল জামালপুরে নতুন কমিটি গঠন জেলহাজতে শিশু বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী জার্মানবাংলা’র ‘মিউজিক্যাল লাইভ শো’র এবারের অতিথি কণ্ঠশিল্পী “আঁখি হালদার” আয়েবপিসি’র কার্যনির্বাহী পরিষদের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত জার্মানবাংলা’র ”প্রবাসির সাফল্য” শো’র এবারের অতিথি ”শিরীন আলম”

কোটা সংস্কার, মেধা পাচার ও আমাদের তরুণ্য

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২ অক্টোবর, ২০১৮
Check for details

বিনয় দত্ত
১.
কোটা সংস্কারের আন্দোলন থেমেও যেন থামছে না। আন্দোলনের ঘটনাচক্র ক্রমশ ঘুরছে এদিক থেকে ওদিকে। কোটার ভুক্তভোগীরা আগেও ছিল এখনো আছে। আমাদের আশেপাশেই ছিলেন তারা। এখন কোটা আন্দোলনের বদৌলতে ক্ষণে ক্ষণে তাদের বঞ্চিত হওয়ার চাপা কান্না বা চাপা ক্ষোভ শোনা যাচ্ছে।
১৯৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য উপহার হিসেবে কোটা চালু করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তখন সরকারি কর্মচারী নিয়োগে মেধা কোটা ছিল মাত্র ২০ শতাংশ। জেলা কোটা ছিল ৪০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ছিল ৩০ শতাংশ আর ১০ শতাংশ ছিল যুদ্ধাহত নারী কোটা।
পরবর্তীতে বিভিন্ন শাসক এবং সময়ের পরিবর্তনে বর্তমানে মেধা কোটা দাঁড়িয়েছে ৪৪ শতাংশে। সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সন্তান/নাতি-নাতনি কোটা হয়েছে ৩০ শতাংশ, জেলা কোটা হয়েছে ১০ শতাংশ, নারী কোটা হয়েছে ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটা হয়েছে ৫ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী কোটা হয়েছে ১ শতাংশ। মোট ৫৬ শতাংশের মধ্যে ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে ১ শতাংশ পদে প্রতিবন্ধী নিয়োগের বিধান রয়েছে।
সারা পৃথিবীতে সরকারি চাকরির প্রতি যখন তরুণদের অনিচ্ছা তৈরি হচ্ছে তখন আমাদের দেশে সরকারি চাকরির প্রতি তরুণদের আগ্রহ সর্বোচ্চে পরিণত হয়েছে। এর মূল কারণটা কি? মূল কারণ বেকারত্ব এবং কর্মসংস্থান সংকট।
একজন সরকারি চাকরিজীবী মূল বেতনের বাইরে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন। চাকরির স্থিরতা ও নিরাপত্তা, বেতনভাতা, স্বাস্থ্যভাতা, সল্প সুদে ঋণ, সরকারি ফ্ল্যাট ও প্লট কেনার সুযোগ সুবিধা থেকে শুরু করে সর্বোপরি অবসর ভাতা পর্যন্ত পেয়ে থাকেন। যা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা পান না। এরমধ্যে বড় সংকট হল কোনো কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বেতনই হয় দুই তিন মাস পর। আর অবসর ভাতার মতো অলীক বিষয় তো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা চোখেই দেখেন না। অল্প কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের চাকরিজীবীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা হয়তো দিয়েছে কিন্তু সেই সব প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এতো ক্ষীণ যা বলার অবস্থায় নেই। তারমধ্যে বেসরকারি চাকরিতে চাকরির স্থিরতা ও নিরাপত্তা কম, আয় তুলনামুলকভাবে কম, প্রতিনিয়ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্মুখে এসে দাঁড়ায়, চাকরির শুরু থেকে শেষদিন পর্যন্ত অনেক বাঁধা মোকাবিলা করতে হয়।
পুরো বিষয়টি আরো সহজ করে বললে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন চাকরিজীবী বেতনভাতা সহ যে পরিমাণ সুযোগ সুবিধা পান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী বলতে গেলে তার কিছুই পান না। তারমধ্যে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থান প্রক্রিয়াটি এমন যে, একজন মেধাবী তরুণ শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করার আগে থেকেই চাকরির স্বপ্নে বিভোর থাকেন, তাও সরকারি চাকরির। অর্থাৎ একজন মেধাবী ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে ওঠার আগেই আমাদের চাকরির স্বপ্নে খাবি খেতে হয়। শিক্ষাব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থান প্রক্রিয়ার কারণে সবাই সরকারি চাকরির স্বপ্ন দেখেন, তরুণ উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন না।

২.
আমাদের দেশে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী তাদের পড়াশোনা শেষ করে বের হচ্ছেন। এই বিশাল মেধাবী শিক্ষার্থীদের কর্মশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারলে আমাদের দেশ যে কোথায় এগিয়ে যাবে তা আমরা কল্পনাও করতে পারছি না। পরিতাপের বিষয় হল, দেশের অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী বা মেধাবী জনশক্তি বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। একটি ছোট উদাহরণ দিলেই তা পরিষ্কার হয়ে যাবে, পৃথিবীব্যাপী বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতি দীর্ঘদিনের। প্রতি বছর বুয়েট থেকে শত শত মেধাবী প্রকৌশলী বের হচ্ছেন। তাদের শতকরা ৮০ ভাগেরই চিন্তা থাকছে বিদেশে পাড়ি জমানোর। এরমধ্যে ৬০ ভাগ মেধাবী প্রকৌশলী বিদেশে পাড়ি জমাতে সফল হচ্ছেন। এর মূল কারণ সঠিক মেধাবী ব্যক্তির সঠিক কর্মসংস্থান না হওয়া এবং চাকরির পাওয়ার দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া (কোটা পদ্ধতিও এরমধ্যে অন্তর্ভুক্ত)। এই মেধাবীদের আমরা ধরে রাখতে পারছি না। এই ব্যর্থতা তাদের নয়, এই ব্যর্থতা রাষ্ট্রের।
সম্প্রতি প্রকাশিত শ্রমশক্তি জরিপ থেকে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছর শেষে সারা দেশে ২৬ লাখ ৭৭ হাজার জন বেকার আছেন। এদের মধ্যে ১০ লাখ ৪৩ হাজার তরুণ-তরুণী উচ্চমাধ্যমিক কিংবা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করেছেন, যাদের কেউই চাকরি পাচ্ছেন না। এই বিশাল অংকের বেকারদের মধ্যে ৩৯ শতাংশই শিক্ষিত বেকার।
রাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী এই সকল বেকারদের রাষ্ট্র কোনো না কোনোভাবে ব্যবহার করে কাজে লাগাতে পারতো কিন্তু তা হচ্ছে না। চাকরি না পাওয়ার হতাশায় বরং শিক্ষিত বেকারকদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে। একজন শিক্ষিত বেকার যদি মেধা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি না পায় তবে এই দায় কার?
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার প্রতিবেদন বলছে, ২০১৭ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৯ কোটি লোক বেকার ছিল। এরমধ্যে বাংলাদেশে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা ৪ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার। এই চার কোটি বেকার লোক যদি রাজপথে আন্দোলনে নামে তাহলেই তো দেশ অচল হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তা হয়নি, তারা ধৈর্য্য ধরে অধীর আগ্রহে চাকরির অপেক্ষা করছে।

৩.
প্রতিবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়লেও কর্মসংস্থান সেইভাবে তৈরি হচ্ছে না। প্রবৃদ্ধি, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও আয় এই চারটি সূচকের মধ্যে সমন্বয় না হলে দেশের উন্নতির ইতিবাচক ফল মানুষ পাবে না। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল পাওয়ার জন্য অবশ্যই নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়া জরুরী।
কোটা সংস্কার নিয়ে যে আন্দোলন বিকট রূপ নিয়েছে, এই সমস্যা একদিনের নয়। যদি সরকার শুরুতেই এর সমাধানের কথা ভাবতো, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যাপারে উদ্যোগী হত তবে তা এতো প্রকট হত না। কোটা সংস্কার নিয়ে প্রয়োজন দীর্ঘ মেয়াদী সমাধান। আন্দোলনকারীদের থামিয়ে দেয়া বা রাজনৈতিকভাবে এই আন্দোলনকে অন্যদিকে মোড় দিয়ে এর থেকে উত্তরণ পাওয়া সম্ভব নয়।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বিভিন্ন ভাবে কর্মসংস্থানের প্রক্রিয়াকে সহজতর করেছে। কোনো কোনো দেশে আবার চাকরির বয়সসীমা শিথিল করেছে। শ্রীলঙ্কায় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৪৫, ইন্দোনেশিয়ায় ৩৫, ইতালিতে ৩৫ এবং ফ্রান্সে ৪০ বছর করা হয়েছে। যদিও আমাদের দেশে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা রাখা হয়েছে ৩০।
দেশকে এগিয়ে নিতে হলে, সুসংগঠিত করতে হলে প্রয়োজন মেধাবী তরুণ প্রজন্মকে সঠিক দিক নির্দেশনা দেয়া। অবজ্ঞা নয়, ভালোবাসা দিয়ে এই তরুণ প্রজন্মকে সংঘবদ্ধভাবে করতে হবে। এই মেধাবী তরুণরাই পারে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে সর্বোচ্চ আসনে নিয়ে যেতে।

লেখক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক
E-mail: benoydutta.writer@gmail.com

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ফেসবুকে জার্মানবাংলা২৪

বিজ্ঞাপন

Check for details