1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. adminmonir@germanbangla24.com : monir uzzaman : monir uzzaman
  3. fatama.ruma007@gmail.com : Fatama Rahman Ruma : Fatama Rahman
  4. anikbd@germanbangla24.com : SIDDIQUE ANIK : ANIK SIDDIQUE
  5. infi@germanbangla24.com : Hasan Imam Juwel : Hasan Imam Juwel
  6. rafid@germanbangla24.com : rafid :
  7. SaminRahman@germanbangla24.com : Samin Rahman : Samin Rahman
শিরোনাম :
জার্মান বিএনপির হেছেন প্রাদেশিক কমিটির কর্মী সভা অনুষ্ঠিত জার্মানির মানহাইমে জমজমাট ঈদ পুনর্মিলনী ও গ্রিল পার্টি লেবাননে শাহ্জালাল প্রবাসী সংগঠনের দ্বশম বর্ষ পূর্তি উদযাপন ও সভাপতিকে বিদায়ী স্বংবর্ধনা করোনা টিকার প্রসঙ্গে ও করোনার তৃতীয় ঢেউ: মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া রাষ্ট্রদূত, জার্মানি বাংলাদেশ জার্মান জাতীয়তাবাদী কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের বনভোজন অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে সেপটি ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে গিয়ে নিহত ২ জামালপুরে ‘বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন’ এর মাক্স বিতরণ করোনা : সখীপুরে লকডাউন বিধিনিষেধ অমান্য করায় জরিমানা করোনা : সাতক্ষীরা পুলিশের মোটরসাইকেল র‌্যালি ও মাস্ক বিতরণ লেবানন বিএনপির সভাপতি বাবু, সম্পাদক আইমান, সাংগঠনিক হাবিব

‘কোটা সংস্কারের কথা বলবি আর’ (ছবি)

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩০ জুন, ২০১৮
Check for details

কোটাব্যবস্থা সংস্কার নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা। এতে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূরসহ আহত হয়েছেন আন্দোলনের বেশকয়েকজন নেতাকর্মী। এসময় হামলাকারীদের বলতে শোনা যায়, ‘আর করবি কোটা সংস্কারের আন্দোলন’, ‘কোটা সংস্কারের কথা বলবি আর’।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাই এই হামলা চালিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের সেই হামলার ছবিগুলো তুলে ধরা হলো  পাঠকদের জন্য—

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগ দাবি করেছে, কোটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের অন্তর্কলহের জের ধরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সকাল ১১টার আগেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিচ্ছিলো। সংবাদ সম্মেলনের উদ্দেশ্যে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের একটি দল কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আসার পর ‘শিবির ধর’ ‘শিবির ধর’ বলে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। নূরকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয়। তার নাক-মুখ ফেটে রক্ত বের হতে দেখা যায়। পরে শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করে লাইব্রেরির ভেতরে নিয়ে যান। লাইব্রেরির সামনে আরও দুই জন ছাত্রকে মারধর করা হয়। এসময় তাদের মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ককে মারধরের পর তাকে প্রায় ৩০ মিনিট লাইব্রেরিতে রাখা হয়। পরে লাইব্রেরির পেছনের দরজা দিয়ে লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ নূরকে আহত অবস্থায় প্রক্টরিয়াল বডির গাড়িতে তুলে দেয়। তাকে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে আসার পরই বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূরের ওপর চড়াও হয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পরে আশপাশের সাধারণ ছাত্রদের ওপরও হামলা চালানো হয়।

এদিকে ঢাবির অর্থনীতি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র আমির আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমি লাইব্রেরিতে পড়তে আসছিলাম। বাইরে বের হতেই আমাকে নৃশংসভাবে পেটানো হয়েছে।’ বেলা ১২টার দিকে আবার ছাত্রদের ওপর হামলা চালানো হয়। ঢাবি’র বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. আরশকে মাটিতে ফেলা লাথি ও মারধর করতে দেখা যায়।

পৌনে ১টার দিকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।

নূরসহ আহত ছয় জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আহতরা হলেন নুরুল হক নুরু (২৫), আবদুল্লাহ (২৩), আতাউল্লাহ (২৪), মাহফুজ (২৫), শাহেদ (২৫), হায়দার (২৩)। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনের উদ্দেশ্যে সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে আমরা গ্রন্থাগারের সামনে আসি। আমরা দাঁড়ানোর কিছুক্ষণের মধ্যে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতে আমাদের অন্তত পাঁচ জন আহত হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। আহতদের মধ্যে যুগ্ম আহ্বায়ক নূরের অবস্থা গুরুতর।’

মারধরের এক পর্যায়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সমানে তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক ড. জাভেদ আহমেদের পা জড়িয়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করেন নূর। ড. জাভেদ আহমেদ বলেন, ‘আমি নিজেকে শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও তারা আমার ওপরও চড়াও হয়েছে। আমার হাতের তালু কেটে গেছে। মানুষ মানুষকে এভাবে মারতে পারে না। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও তোমরা সবাই ছাত্র। সহপাঠী সহপাঠীর ওপর এভাবে হামলা করতে পারে না।’

হামলার পরিকল্পনা ছিল আগে থেকেই: প্রধানমন্ত্রীর কোটা বাতিল ঘোষণার মাস পেরিয়ে গেলেও প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় গত কয়েকদিন ধরেই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের মধ্যে উত্তেজনা কাজ করছিল। আন্দোলনকারীরা তাদের ফেসবুক গ্রুপে বলছিলেন, আবারও নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে। অন্যদিকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাও এ আন্দোলনকে যেকোনও মূল্যে প্রতিহত করার ঘোষণা দিচ্ছিলেন তাদের ফেসবুক টাইমলাইনে। শনিবার সকাল ১১টায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। সংবাদ সম্মেলনের কিছুক্ষণ আগে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে হামলা চালায়। এতে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া কোটা সংস্কার আন্দোলনের কয়েকজন সক্রিয় নেতাকে তুলে নিয়ে জিম্মি করে রাখা হয়েছে বলেও আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন।ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। হামলার ভয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ঢাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে কয়েক দফা হামলায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুরসহ আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এদের মধ্যে নুরের অবস্থা গুরুত্বর।
কোটা সংস্কারের দাবিতে ডাকা সংবাদ সম্মেলন ও আন্দোলনকে যেকোনও মূল্যে প্রতিহত করার পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মী।

দুপুর দেড়টার দিকে শাহবাগে পাবলিক লাইব্রেরি’র ভেতর থেকে আন্দোলনের ‘স্লোগান মাস্টার’ খ্যাত জসিমসহ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে ধরে নিয়ে আসে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। তাদের লাইব্রেরির গেটেই মারধর করা হয়। লাইব্রেরিতে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পাবলিক লাইব্রেরির ভেতর থেকে ৫ জন ছাত্রকে ডেকে বাইরে নিয়ে মারধর করা হয়েছে।’ লাইব্রেরির সামনে মারধর শেষে জসিমকে দিয়ে কোটা আন্দোলনে সক্রিয় আরও কয়েকজন নেতাকর্মীকে ফোন করিয়ে ডেকে আনার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে জসিমকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করার পর পুলিশের গাড়িতে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হামলার নেতৃত্বে থাকা একজন ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করছে আন্দোলনকারীদের একাংশ। উনি নাকি প্রতারণা করেছেন। এসব কথা আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ লাইভে এসেও বলছে। এসব কথা শোনার পরই আমার সিদ্ধান্ত নিই,যেকোনও মূল্যে ওদের প্রতিহত করবো। সে অনুযায়ী আমরা সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে থেকেই ক্যাম্পাসে অবস্থান নিই।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করার জন্য কে বা কারা নির্দেশনা দিয়েছেন— এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তবে কেউ কেউ দাবি করেছেন, বর্তমানে ছাত্রলীগের কমিটি নেই। তাই সে অর্থে কমান্ড দেওয়ারও কেউ নেই। তারা নিজেরাই এ সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান নেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমানকে দুপুর ১টার দিকে তার হল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন পরিষদের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান।

এরপর দুপুর ২টার দিকে মশিউরের ফেসবুক টাইমলাইনে একটি ভিডিওবার্তা পাওয়া যায়। সেই ভিডিওতে মশিউরকে বলতে শোনা যায়, ‘জামায়াত-শিবির, বিএনপির কাছ থেকে টাকা খেয়ে আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চাইছে মামুন, রাশেদ, নুর, ফারুক।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, ‘মশিউর রহমানসহ বেশ কয়েকজনকে হল থেকে তুলে নিয়ে যায় ছাত্রলীগ। পরে মশিউরকে জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলিয়ে সেটার ভিডির ধারণ করতে বাধ্য করেছে। পরে সেটা মশিউরের ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মশিউর কোথায় আছে তা এখনও জানতে পারিনি।’

এদিকে ভিডিওবার্তার সত্যতা জানতে মশিউরের মোবাইলে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা অভিযোগ করেছেন,ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। কিন্তু সে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ কোনও হামলা চালায়নি। ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। আমরা শুনেছি আন্দোলনকারীদের দুই গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ছবি ও ভিডিও ফুটেজে যদি ছাত্রলীগের কর্মী কাউকে দেখাও যায় মারধর করতে, তবু ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তাদের বিষয়ে কোনও দায় নেই। কারণ, যেহেতু সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সেহেতু সে শিক্ষার্থী হিসেবে তার ব্যক্তিগত দায় নিয়েই সেটা করেছে। তাছাড়া এখন ছাত্রলীগের কোনও কমিটি নেই। ফলে দলের পক্ষ থেকে তাদের ব্যাপারে কিছু বলার নেই।’

এদিকে রাশেদ খান অভিযোগ করে বলেন,‘কয়েকদিন ধরে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী ফেসবুকে ও মোবাইলে ফোন করে হুমকি দিচ্ছিলেন।তারা বলেছেন, আমাদের যেখানেই পাবে মেরে ফেলবে। এছাড়া আমাদের জামায়াত-শিবির বলে অপ্রপ্রচার চালাচ্ছে। এসবের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনের আগেই আমাদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপর হামলার পরপরই আমার কাছে আমার বাবা ফোন করেন। আমাদের বাড়িতে নাকি কয়েকজন অচেনা লোক এসে হুমকি দিয়ে গেছে, গালিগালাজ করে গেছে। বলেছে, আমি যদি না থামি তাহলে আমার পরিবারের সবাইকে গুম করে দেবে। আমি এখন আমার পরিবার নিয়েও নিরাপত্তাহীনতায় আছি। জানি না কখন কী হয়।’
আহতদের সর্বশেষ পরিস্থিতি

হামলায় আহত হয়েছেন ৮ জন। তাদের সবাইকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ৫ জন চিকিৎসা শেষে চলে যান। বাকি ৩ জন— নুরুল হক নুর, আতাউল্লাহ, মামুনকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে আহত এই ৩ ছাত্রের সঙ্গে থাকা ফারুক বলেন, ‘নুরের অবস্থা খুবই খারাপ। তার সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। ডাক্তার বলছেন, তার অবস্থা গুরুত্বর। কী হবে কিছুই বুঝতে পারছি না।’

ঢাবি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: হামলার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানি বলেন,‘বিশ্ববিদ্যালয় এখন বন্ধ। ঈদের পর রোববার থেকেই খুলবে। ছুটির সময় হলেও লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করতে গিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। কিন্তু লাইব্রেরির সামনে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় লাইব্রেরিতে লেখাপড়ার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এরা কারা এবং এ ধরনের ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছে, আমরা এখনও তাদের চিহ্নিত করতে পারিনি। যেহেতু ক্যাম্পাস বন্ধ। তাই সেখানে ছাত্রদের বাইরে আর কোনও কুচক্রী মহল ছিল কিনা, তা এখনই বলতে পারবো না। তবে আমার প্রক্টোরিয়াল বডি আমাকে জানিয়েছেন, নুর নামে একটি ছেলেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তাকে সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে প্রক্টরিয়াল বডি এখনও উপস্থিত রয়েছে।’

আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় সাদা দলের নিন্দা: সরকারি চাকরিতে প্রচলিত কোটা প্রথা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের প্যানেল সাদ দল উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোঃ আখতার হোসেন খান সাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়,আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বিনা উস্কানিতে হামলার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরণের ন্যাক্কারজনক ও কাপুরুষোচিত হামলা এবং অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় আমরা তীব্র প্রতিবাদ এবং নিন্দা জানাচ্ছি। ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারিত খবরে নিষ্ঠুরতার চিত্র দেখে আমরা বাকরুদ্ধ। আমরা চাই এই হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

বিবৃতি ক্যাম্পাসে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। এতে হামলার শিকার আহত শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবিও জানিয়েছেন সাদা দলের শিক্ষকরা।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ফেসবুকে জার্মানবাংলা২৪

বিজ্ঞাপন

Check for details