1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. adminmonir@germanbangla24.com : monir uzzaman : monir uzzaman
  3. fatama.ruma007@gmail.com : Fatama Rahman Ruma : Fatama Rahman
  4. anikbd@germanbangla24.com : SIDDIQUE ANIK : ANIK SIDDIQUE
  5. infi@germanbangla24.com : Hasan Imam Juwel : Hasan Imam Juwel
  6. rafid@germanbangla24.com : rafid :
  7. SaminRahman@germanbangla24.com : Samin Rahman : Samin Rahman
শিরোনাম :
জার্মান বিএনপির হেছেন প্রাদেশিক কমিটির কর্মী সভা অনুষ্ঠিত জার্মানির মানহাইমে জমজমাট ঈদ পুনর্মিলনী ও গ্রিল পার্টি লেবাননে শাহ্জালাল প্রবাসী সংগঠনের দ্বশম বর্ষ পূর্তি উদযাপন ও সভাপতিকে বিদায়ী স্বংবর্ধনা করোনা টিকার প্রসঙ্গে ও করোনার তৃতীয় ঢেউ: মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া রাষ্ট্রদূত, জার্মানি বাংলাদেশ জার্মান জাতীয়তাবাদী কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের বনভোজন অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে সেপটি ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে গিয়ে নিহত ২ জামালপুরে ‘বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন’ এর মাক্স বিতরণ করোনা : সখীপুরে লকডাউন বিধিনিষেধ অমান্য করায় জরিমানা করোনা : সাতক্ষীরা পুলিশের মোটরসাইকেল র‌্যালি ও মাস্ক বিতরণ লেবানন বিএনপির সভাপতি বাবু, সম্পাদক আইমান, সাংগঠনিক হাবিব

কৃষকদের“পার্পল লীফ রাইস” চাষে আগ্রহ বাড়ছে

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৯
Check for details

হাবিবুর রহমান, গাজীপুর প্রতিনিধি :পার্পল লীফ রাইস বা বেগুনী রঙের পাতা বিশিষ্ট ধান গাছ । সাধারনত সবুজ রঙের ধান গাছ থেকে ভিন্ন রঙের এ ধান গাছ দেখে উৎসুক সাধারন মানুষ। মাঠজুড়ে সবুজ ধানক্ষেতের মাঝে দুইটি প্লটে শোভা পাচ্ছে বেগুনী রঙের ধানগাছ। ব্যাতিক্রমী রঙের এই ধান গাছ দেখতে প্রতিদিন ভীড় করছে এলাকার উৎসুক মানুষ। জানতে চাচ্ছেন এ ধানের নাম, গুনাগুন ও চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকার লাঘালিয়া গ্রামের ধানচাষী নির্মল চন্দ্রের বেগুনি রংয়ের ধানক্ষেত দেখে নতুন এই জাতের ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এলাকার অন্যান্য চাষীরাও। নতুন ধানের আবাদে খুশী চাষী নির্মলও । শুধু গাজীপুর নয়, সুদূর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও অন্যান্য জেলা থেকেও অনেকেই আসছেন এ ধান দেখতে। ধানের জাতটির প্রকৃত নাম না জানলেও বেগুনী পাতা রঙের ধান বা পার্পল লীফ রাইস নামেই এখন সবাই ডাকছে এ ধানকে।

পত্রিকায় এ ধানের ছবি দেখে লাগালিয়া গ্রামের কৃষক নির্মল চন্দ্র গাজীপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিসের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সানিয়া সুলতানার সাথে তার আগ্রহের বিষয়টি জানান। পরে তিনি এ কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে জানতে পারলেন, কুমিল্লা জেলার জনৈক ব্যক্তি বিদেশ থেকে এ ধানের জাত সংগ্রহ করেছেন। কৃষক নির্মল কৃষি কর্মকর্তা সানিয়ার মাধ্যমে উক্ত কুমিল্লার ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ১৫০ গ্রাম বীজ সংগ্রহ করেন। বীজ থেকে চারা তৈরী করে চাষী নির্মল চন্দ্র তার বাড়ির অদূরে ভাওয়াল রাজবাগানের নিকট আড়াই কাঠা জমিতে চাষ করেন এ ধান । প্রয়োজনীয় সেবা, সেচ ও সার প্রয়োগ করায় দিন দিন তর তর করে বেড়ে উঠে বেগুনী রঙের পাতা। ধান গাছের বেগুনি পাতার শোভায় শোভিত দৃশ্য দেখতে উৎসুক লোক ওই ক্ষেতের পাশে ভীড় করছে এখন প্রতিদিন।

কৃষক নির্মল জানান, ধানের চারা লাগানোর পর আমি জমিতে তেমন কোন সার প্রয়োগ করিনি। সামান্য পরিমান এমওপি ও টিএসপি সার দিয়ে এর সাথে জৈব সার দিয়েছি ধানক্ষেতে। তেমন কোন পরিচর্যাও করতে হয়নি। রোগ বালাই বলতে কোন কিছুর আক্রমন ছিল না, কীটনাশকও প্রয়োগ করতে হয়নি। এখন ধান প্রায় কাটার সময় হয়ে উঠেছে। ফলন বেশ ভাল হয়েছে । তিনি জানান, এ ধানের জীবনকাল খুব কম যা আমি আগে বুঝতে পারিনি। এটা আগে বুঝতে পারলে সেভাবে পরিচর্যা করা সম্ভব হতো এবং ফলন বর্তমানের চেয়ে আরো অনেক ভাল হতো । আমি আশা করছি ধান কাটার পর বিঘা হিসেবে ২৫ থেকে ৩০ মন ধান পাওয়া যাবে।

তিনি জানান, ধানের শীষ বের হবার সময় এবারের শিলা ও ঝড় বৃষ্টিতে ধানের রেনু ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল । এ কারনে ফলন কম হয়েছে। আশা করি পরিপূর্ণ যত্ন প্রদান করলে এবং কোন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ ধানের ফল অনেক বেশী হবে।
চাষী নির্মল চন্দ্র গাজীপুরের ধান চাষীদের মধ্যে একজন পরিচিত নাম। তিনি সরকারীভাবে ২০১২ সালে গাজীপুরসহ দেশের ৫টি জেলার ৬ জন কৃষকের সাথে চীন সফর করেছেন। সেখানে ধানের আধুনিক চাষাবাদ, বাংলাদেশ ও চীনের ধানের গড় উৎপাদনের পার্থক্য ও ধান উৎপাদনের নানা কলাকৌশল সম্পর্কে মাঠ পর্যায়ে নানা অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। সেসব অভিজ্ঞতাকে তিনি দেশে এসে তার কৃষি কাজে কাজে লাগাচ্ছেন।

চাষী নির্মল চন্দ্র জানান, ধানের চারাগুলি একটু বড় হবার পর বেগুনী রং ধারন করার পর থেকেই মানুষের আগ্রহ বেড়ে যায় এক চিলতে এ ক্ষেতকে ঘিরে। এর পর থেকে প্রতিদিন মানুষের ভীড় লেগেই থাকে আমার ক্ষেতের মধ্যে । তারা এসে ছবি তুলে, নানা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে। কোথায় পেয়েছি এ ধানের বীজ, কিভাবে চাষ করছি এসব নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে হচ্ছে আমাকে। এ ধান চাষে বিশাল আগ্রহ প্রকাশ করছে আমার এলাকার বহু কৃষক । এ পর্যন্ত আমার এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় শতাধিক কৃষক আগামীতে এ ধান চাষের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া সরকারী কৃষি কর্মকর্তারা এসেছেন। বিএডিসির লোকজনও আমাকে সবটুকু ক্ষেতের ধান বীজ হিসেবে সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছেন।

নির্মল চন্দ্র জানান, আমি প্রথমে কিছু ধান থেকে চাল সংগ্রহ করবো এবং ভাত খেয়ে এর স্বাদ দেখব। যদি ভাল মনে হয়, তাহলে আমি সবটুকু ধানই বীজ হিসেবে সংগ্রহ করবো এবং আগামীতে আরো ব্যাপকভাবে আবাদ করবো ।

এ ধান চাষে অন্যান্য কৃষকরা কেন আগ্রহ প্রকাশ করছেন – জানতে চাইলে নির্মল চন্দ্র বলেন, আমার ধারনা দেখতে সুন্দর বলেই মানুষের প্রথম আগ্রহ এ ধানের প্রতি। দ্বিতীয়ত, এটা চাষাবাদ করতে পরিচর্যা কম লাগে। রোগবালাই কম হয় বা একেবারেই নেই বলা যায় । আরো একটি কারন হচ্ছে এর জীবনকাল সংক্ষিপ্ত,তাই আগাম ফলষ পাওয়া যায় । এসব কারনেই মূলত কৃষকরা এ ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

গাজীপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিসের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সানিয়া সুলতানা জানান, গাজীপুরে এবারই প্রথম এ ধান চাষ হচ্ছে । তিনি জানান, সৌন্দর্য ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এ ধান । গাছের রং বেগুনী হলেও ধানের গায়ের রং সোনালী । উফশি জাতের এ ধান রোগমুক্ত ও পোকামুক্ত। ফলনও বেশী হয়। অন্যসব ধানের তুলনায় এ ধান মোটা, তবে পুষ্টিগুন অনেক বেশী ।
গাজীপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা সুলতানা বলেন, পার্পল লীফ রাইস দেশে প্রথম গাইবান্ধা জেলায় আবাদ হয় । ফলন প্রতি হেক্টরে ৭ টন । গাজীপুরে এ ধান চাষ বাড়াতে প্রচারণা চালাতে হবে। কৃষকরা যখন দেখবে এর ফলন ভাল, খেতে স্বাদ এবং পুষ্টিগুনে সমৃদ্ধ, তখন তারা নিজেরাই উদ্যোগ নিবে এ ধান চাষে। এ ধানের চাষাবাদের বিস্তৃতি বাড়াতে কৃষকদেরকে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে বলে জানান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মাহবুব আলম । এ ধান চাষে কৃষকদের বেশ আগ্রহ দেখা যায়।
তবে এ ধান সম্পর্কে জানতে চাইলে দেশের অন্যতম বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস জানান, এ রঙের ধান আমাদের দেশে বহু আগে থেকেই আছে। বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনস্টিটিউট অনেক আগেই এ রঙের ধান উদ্বাবন করেছে। বিজ্ঞানীরা এটাকে পারপেল চেক বলে।

তিনি বলেন, দুই ধরনের ক্লোরফিল রয়েছে – ক্লোরফিল “এ” এবং ক্লোরফিল “বি” । এই ক্লোরফিলের তারতম্যের কারনে বিভিন্ন ফল ও ফসলের রঙের পরিবর্তন হয়ে থাকে। ধানের বেগুনী রং হবার পেছনেও এ ক্লোরফিলের তারতম্য কাজ করেছে । আসলে এ ধানের মধ্যে নতুনত্ব বলতে কিছু নেই , পুষ্টিগুনও অন্যান্য ধানের মতই হবে। তবে তিনি বলেন, এ ধানের চাল যদি কালো রঙের হয় , তবে পুষ্টিগুনের দিক থেকে অন্যান্য চালের চেয়ে ভাল হবে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ফেসবুকে জার্মানবাংলা২৪

বিজ্ঞাপন

Check for details