কুষ্টিয়ায় বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ

Check for details

এ.কে আজাদ সানি, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:কুষ্টিয়ায় বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ ৷ এক সপ্তাহের মধ্যে ৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ৷ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে ৷ আশে পাশের রোগী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে রয়েছে আতঙ্ক ৷

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় গত ১০ জুলাই বুধবার সদর উপজেলার বালিয়াপাড়া গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে ইসমাঈল হোসেন ডেঙ্গু রোগী হিসেবে প্রথম শনাক্ত হয়েছেন ৷ তারপর থেকে একেএকে আরও তিনজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৷

সরেজমিনে দেখা মেলে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী কুষ্টিয়া শাখার সাউথইষ্ট ব্যাংকের কর্মচারী আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩২) ৷ তিনি ঝিনাইদহ জেলার জিতোর গ্রামের পল্টু জোয়াদ্দারের ছেলে ৷ বেশ কিছুদিন আগে আব্দুল্লাহ আল মামুনের ছোট ভাই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলো ৷ তারপর গত চারদিন আগে মামুন শরীরে প্রচুর ব্যাথা ও জ্বর নিয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে ডেঙ্গু জ্বর বলে শনাক্ত করে চিকিৎসা দিচ্ছেন ৷

পাশেই মশারীর ভিতর শুয়ে আছেন ঢাকার প্রাইভৈট মাইক্রো গাড়ী চালক তবালিফুল (২৫) ৷ তিনি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মরিচা ইউনিয়নের মাঝদিয়াড় গ্রামের বাসিন্দা রুপছান আলীর ছেলে ৷ ঢাকা থেকে তবালিফুল এর জ্বর শুরু হলে সে বাড়ীতে এসে আরও বেশি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে গত ৫ দিন আগে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বর শনাক্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৷

পাশের মশারীর ভিতর বসা ডেঙ্গু আক্রান্ত আরেকজন রোগী সিএনজি চালক নিলয় (২৮) ৷ সে দৌলতপুর উপজেলার পাককুলা গ্রামের রাস্তুল মন্ডলের ছেলে ৷ নিলয়ের শরীরে প্রচন্ড জ্বর শুরু হলে গত বৃহস্পতিবার তার শ্বশুর হাসপাতালে নিয়ে আসেন ৷ ডাক্তারদের চিকিৎসায় সে বর্তমানে বেশ সুস্থ্য আছেন বলে নিলয় জানান ৷

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন আব্দুল মোমেন জানান ঢাকা বা বাইরের শহর থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়ায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগী এর আগেও পাওয়া গেছে ৷ কিন্তু কুষ্টিয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম জানা গেলো ৷ তবে চিকিৎসকদের ধারণা ডেঙ্গু রোগের জীবাণু বহনকারী এডিস মশা কুষ্টিয়াতেও আছে ৷

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা বর্তমানে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের পেয়িং ওয়ার্ডের ৮, ১৪ ও ১৬ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৷ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর আশে পাশের অন্যান্য রোগী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক ৷ পাশের বেডে থাকা এক রোগীর স্বজন এ প্রতিবেদককে বলেন আমাদের ভিতর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের রেখে চিকিৎসা দেওয়ায় আমরা বেশ শংকিত ৷ না জানি তাদের শরীরে কামড় দেওয়া মশা আমাদের কখন কামড়ে দেয় ৷

এ বিষয়ে হাসপাতালের এক বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে যে কোন মশা কামড় দেওয়ার পর সেই মশা কাউকে কামড় দিলে তারও ডেঙ্গু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ৷

Facebook Comments