কালিয়াকৈরে পুলিশ-এলাকাবাসী সংঘর্ষ:আহত অর্ধশত

Check for details

হাবিবুর রহমান, গাজীপুর প্রতিনিধি:গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি অবৈধ এসিড কারখানা বন্ধের জন্য মঙ্গলবার দুপুরে একটি সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে কয়েকটি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। এ সময় পুলিশ ও শিক্ষার্থী-এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ, শিক্ষার্থী ও নারীসহ কমপক্ষে অর্ধশত আহত লোক হয়েছেন। এদিকে অবৈধ এসিড কারখানার পক্ষ নিয়ে থানার ওসি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে হুমকি দেয়া ও হামলা করায় তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বিক্ষুব্দ জনতা।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার ফকিরচালা এলাকায় গত ২০০৮ সাল থেকে অবৈধভাবে গুডউইল বেসিক কেমিক্যাল নামে একটি এসিড কারখানায় সালফিউরিক এসিড তৈরি করে আসছে। বিষাক্ত এসিডে আশপাশের ৬-৭টি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিষাক্ত এসিডে ওই এলাকার প্রায় প্রতিটি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা দুপুরের আগেই ছুটি দিতে হচ্ছে। এছাড়া গাছপালা, ধানক্ষেত্রসহ বিভিন্ন শস্যাদি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং মানুষ ও পশু-পাখিসহ বিভিন্ন প্রাণীর নানা প্রকার রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।এসব সমস্যা থেকে বাঁচতে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ও এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় বার বার মানববন্ধন বিক্ষোভ করেছে। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার হয়নি।

সর্বশেষ মঙ্গলবার দুপুরে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী ওই অবৈধ এসিড কারখানা বন্ধের দাবিতে সেখানে জড়ো হন। পরে তারা মৌচাক-ফুলবাড়িয়া সড়ক অবরোধ রেখে বিক্ষোভ করে। এতে সড়কের উভয়পাশে যানচলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে শিল্প-পুলিশ এবং কালিয়াকৈর থানা ও মৌচাক ফাঁড়ি পুলিশ সেখানে যান। উত্তেজিত জনতা ওই অবৈধ এসিড কারখানা বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে মুল ফটকের কাছে যায়। এসময় কালিয়াকৈর থানার ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদার ওই অবৈধ এসিড কারখানার পক্ষ নিয়ে উপস্থিত জনতাকে ধাওয়া দেয়। আরো উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ ও জনতার মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। থানার ওসি আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ নিরিহ জনতার উপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

এসময় আতঙ্কে দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ওসিসহ তার পুলিশ বাহিনী পাশের মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের বাউন্ডারীর ভিতরে ঢুকে শিক্ষার্থীদের উপর টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, নারী ও থানার ওসিসহ প্রায় অর্ধশত লোক আহত হন। আহতদের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। এসময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি নাছিম কবীর পুলিশের হাত থেকে গ্রামবাসীকে উদ্ধার করতে যান। এতে ওসি আলমগীর উত্তেজিত হয়ে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এছাড়া দুই দিনের মধ্যে ওই চেয়ারম্যানের হাতে হাতকরা পড়ানোরও হুমকি দেন ওই ওসি। এলাকাবাসী উপর হামলা ও চেয়ারম্যানকে হুমকি দেওয়ায় আগামী ২৪ ঘন্টার ওই ওসি আলমগীরের প্রত্যাহার দাবি করে বিভিন্ন শ্লোগান দেয় উত্তেজিত জনতা।

খবর পেয়ে বিকেলে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী হাফিজুল আমীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। পরে ওই এসিড কারখানা পরিদর্শন করে এলাকাবাসীকে ৭ দিনের মধ্যে কারখানাটি বন্ধের আশ্বাস দেন।
তবে ওই এসিড কারখানার প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর আট দিন আগে কারখানাটি আবার চালু করা হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি নাছিম কবীর জানান, ওসি আলমগীর নিজে লাঠিচার্জ চালিয়ে ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে শিক্ষার্থী, নারীসহ অর্ধশত লোক আহত করেছে। এসময় নিষেধ করলে ওই ওসি আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এছাড়া দুই দিনের মধ্যে আমাকে হাতকরা পড়ানোরও হুমকি দেন ওই ওসি।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন মজুমদার জানান, ওই কারখানাটি ভাংচুরের চেষ্টা করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। উত্তেজিত জনতা পুলিশের উপর আক্রমন করলে পুলিশ আত্মরক্ষার জন্য টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী হাফিজুল আমীন জানান, ওই কারখানা সাত দিনের মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ পর্যন্ত এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার অনুরোধ করেন তিনি।

Facebook Comments