কলারোয়ায় র‌্যাবের অভিযান:প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের পাঁচ হোতা আটক

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের আটক ৫ মূলহোতা
Check for details

মোস্তাক আহমেদ, কলারোয়া : র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এন.এস.আই) সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে কলারোয়া উপজেলা পৌরসদর থেকে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৫ হোতাসহ ২১ সদস্যকে আটক করেছে। পরে তাদের ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হলে আদলতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আমিনুর রহমান প্রত্যেককে ২ বছরের সাজা প্রদান করেন। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ৫ জন মূল হোতা ও বাকী ১৭ জন পরিক্ষার্থী ছিলেন।

শুক্রবার (২৪ মে) সকালে কলারোয়া থানা সংলগ্ন সোনালী সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ‘কিডস ক্লাব’ কোচিং সেন্টারের ব্লাক বোর্ডে ফাঁসকৃত প্রশ্ন পত্রের উত্তর লিখে দেয়ার সময় ওই চক্রকে আটক করা হয়।

আটক ৫ হোতারা হলেন, কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা থানার পরানখালি গ্রামের মৃত, আহসান আলীর ছেলে ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম, সাতক্ষীরার কলারোয়ার ঝাপাঘাটা গ্রমের আব্দুল আজিজের ছেলে কিডস ক্লাব কোচিং সেন্টারের পরিচালক জনতা ব্যাংক সেনেরগাতি (পাটকেলঘাটা) শাখার ম্যানেজার আফতাব আহম্মেদ, কলারোয়া উপজেলার ঝাপাঘাটা গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে শিক্ষক আমিরুল ইসলাম, আশাশুনি উপজেলার চেউটিয়া গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে কৃষি ব্যাংক ম্যানেজার মনিরুল ইসলাম, আশশুনি উপজেলার কাকবাশিয়া গ্রামের রইছ উদ্দীনের ছেলে শিক্ষক তরিকুল ইসলাম।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৫ হোতাসহ ২১ জন আটক

র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল সৈয়দ নুর সালেহীন প্রেসব্রিফিং এ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলারোয়া থানার পার্শ্ববর্তী সোনালী সুপার মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭ নারীসহ ২৮ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তালা উপজেলার ধানদিয়া এলাকা থেকে আব্দুল হালিম নামের এই চক্রের আরো এক হোতাকে আটক করা হয়। এনিয়ে মোট ২৯ জনকে আটক করে র‌্যাব। এর মধ্যে ২১ জনকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ২ বছরের সাজা প্রদান করা হয়। বাকী ৮জনের (অভিভাবক) বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না পাওয়ায় তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।

তিনি আরো জানান, আমরা জানতে পেরেছি ঢাকায় বসে একটি প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্র ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে তাদের কাছে মোবাইল ফোনে প্রশ্ন ও তার উত্তর বলে দেবে। এসব প্রশ্ন ও উত্তর ব্লাকবোর্ডে লিখে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার সময় তাদের আটক করা হয়। এজন্য সিন্ডিকেটের হাতে অগ্রিম পাঁচ লাখ টাকা দিতে হয়েছে পরীক্ষার্থীদের। বাকি টাকা পরীক্ষা শেষে দেওয়ার কথা ছিলো। তিনি বলেন, প্রতারক চক্রটির কাছ থেকে যে প্রশ্নপত্র উদ্ধার করা হয়েছে তার সাথে মূল প্রশ্নে হুবহু মিল পাওয়া গেছে।

Facebook Comments