1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. fatama.ruma007@gmail.com : Fatama Rahman Ruma : Fatama Rahman Ruma
  3. anikbd@germanbangla24.com : Editor : Editor
  4. rafid@germanbangla24.com : rafid :
  5. SaminRahman@germanbangla24.com : Samin Rahman : Samin Rahman

করোনা: আজ থেকে মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী

জার্মানবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২০
Check for details

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে সতর্কতা তৈরিতে আজ ২৪ মার্চ (মঙ্গলবার) থেকে মাঠে থাকবে বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণে তারা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে এ ক্ষেত্রে সহায়তা করবে। গতকাল ২৩ মার্চ (সোমবার) বিকালে করোনাভাইরাস নিয়ে সচিবালয়ে জরুরি ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

এদিকে করোনার বিস্তার রোধে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল এবং জরুরি সেবা চালু থাকবে। আর বাকি সবকিছু বন্ধ থাকবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ২৬ মার্চ সরকারি ছুটি, এর সঙ্গে ২৭-২৮ তারিখ সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে। এর সঙ্গে ২৯ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হচ্ছে। ৩-৪ এপ্রিল আবার সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে। তবে ওষুধের দোকান, কাঁচাবাজার সব খোলা থাকবে।

তিনি আরও জানান, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল এবং জরুরি সেবা চালু থাকবে। করোনাভাইরাসের বিস্তৃতি ঠেকাতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জনসাধারণকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে, তারা যেন এসময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হয়।

জরুরি কোনও কাজ থাকলে অফিস ও আদালত অনলাইনে করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণপরিবহন পরিচালনা ও ব্যাংকের কাজ সীমিত রাখতে হবে। নিম্ন আয়ের ব্যক্তিকে সহায়তা করবে সরকার। যদি তাদের কেউ আক্রান্ত হন, তাহলে ‘ঘরে ফেরো প্রকল্পে’ ব্যবস্থা নিতে পারবে।

২৬ মার্চ থেকে সব ট্রেন বন্ধ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ায় আগামী ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া আজ ২৪ মার্চ (বুধবার) থেকে বন্ধ হচ্ছে রেলওয়ের সব লোকাল ও মেইল ট্রেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ আলম।

তিনি জানান, ২৬ মার্চ থে‌কে সব ট্রেনের টি‌কিট বি‌ক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে লোকাল ও মেইল ট্রেন বন্ধ করা হয়েছে।

রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান বলেন, আগামী ২৬ মার্চ থেকে দেশে সব ধরনের ট্রেনের টিকিট বিক্রিও বন্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাস প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। আমরা ধীরে ধীরে সবগুলো ট্রেন বন্ধ করে দেবো। প্রাথমিকভাবে সব লোকাল মেইল বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ থেকে সব লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকবে। ভাইরাসটি যাতে সব অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়তে পারে সে কারণে আমরা ট্রেন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি।

সিলেটে মৃত্যৃ যাওয়া সেই নারী করোনায় ‘আক্রান্ত ছিলেন না’

সিলেট জেলার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে (সদর হাসপাতাল) আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় মারা যাওয়া লন্ডনফেরত নারী নভেল করোনাভাইরাসে ‘সংক্রমিত ছিলেন না’ বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট- আইইডিসিআর।

ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীরের বরাত দিয়ে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল আজ ২৪ মার্চ (মঙ্গলবার) সকালে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ওই নারীর নমুনার কোভিড-১৯ পরীক্ষায় ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।

নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে গত ৪ মার্চ লন্ডন থেকে দেশে ফেরা ওই নারী জ্বর, সর্দি, কাশির সঙ্গে শাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে ২০ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি হন। নভেল করোনাভাইরাসের মত উপসর্গ থাকায় তাকে রাখা হয় আইসোলেশনে।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোররাতে মারা যান ৬১ বছর বয়সী ওই নারী। পরে আইইডিসিআরের প্রতিনিধিরা গিয়ে তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় নিয়ে যান পরীক্ষার জন্য।

সংক্রমণের বিষয়ে তখন নিশ্চিত হওয়া না গেলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আইইডিসিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী সংক্রমণ রোগে মৃত্যুর সৎকার বিধি অনুযায়ী নগরীর মানিকপীর কবরস্থানে দাফন করা হয় ওই নারীকে।

লন্ডনফেরত ওই নারীর বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর এলাকায়। তার মৃত্যুর পর তার পরিবারের সবাইকে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠায় জেলা প্রশাসন।

‘কভিড-১৯’ সংক্রামক রোগের তালিকায় যুক্ত

উচ্চ আদালতের নির্দেশে নভেল করোনাভাইরাসের ফলে সৃষ্ট কভিড-১৯কে সংক্রামক ব্যাধির তালিকায় যুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ গত ১৯ মার্চ এই গেজেট জারি করে, যা ২৩ মার্চ প্রকাশ করা হয়েছে।

সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ এর ধারা ৪(ভ)-এ বর্ণিত ক্ষমতাবলে সরকার নভেল করোনাভাইরাসকে (কোভিড-১৯) সংক্রামক ব্যাধির তালিকাভুক্ত করেছে।

গেজেটে গত ৮ মার্চ থেকে বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের তারিখ ধরা হয়েছে।

কভিড-১৯কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মহামারী ঘোষণা করার পর বাংলাদেশে একে সংক্রামক ব্যাধি হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট জারি করতে গত ১৮ মার্চ নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট।

বাংলাদেশে সংক্রামক রোগের তালিকায় এখন রয়েছে- ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, ফাইলেরিয়াসিস, ডেঙ্গু, ইনফ্লুয়েঞ্জা, এভিয়ান ফ্লু, নিপাহ, অ্যানথ্রাক্স, মার্স-কভ, জলাতঙ্ক, জাপানিস এনকেফালাইটিস, ডায়রিয়া, যক্ষা, শ্বাসনালির সংক্রমণ, এইচআইভি, ভাইরাল হেপাটাইটিস, টাইফয়েড, খাদ্যে বিষক্রিয়া, মেনিনজাইটিস, ইবোলা, জিকা ও চিকুনগুণিয়া। এখন কভিড-১৯ রোগও এই তালিকায় যুক্ত হল।

জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা মোকাবেলা এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি হ্রাসকরণের লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ আইনটি ২০১৮ সালে প্রণীত হয়।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষে চীনের উহান শহরে নতুন করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে; পরে এই ভাইরাসের নামকরণ হয় নভেল করোনাভাইরাস, রোগটি নাম পায় কভিড-১৯।

বিশ্বে দেড় শতাধিক দেশে এই ভাইরাসে ইতোমধ্যে তিন লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে, মারা গেছে ১৫ হাজারের বেশি।

বাংলাদেশে এই পর্যন্ত ৩৩ জন কভিড-১৯ রোগী ধরা পড়েছেন, তার মধ্যে মৃত্যু ঘটেছে তিনজনের।

কভিড-১৯ সংক্রামক ব্যাধির তালিকায় যুক্ত হওয়ায় এই ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি নির্দেশনা কেউ উপেক্ষা করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করে এই আইনের অধীনে তাকে শাস্তি দেওয়া যাবে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ফেসবুকে জার্মানবাংলা২৪

বিজ্ঞাপন

Check for details