1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. fatama.ruma007@gmail.com : Fatama Rahman Ruma : Fatama Rahman Ruma
  3. anikbd@germanbangla24.com : Editor : Editor
  4. rafid@germanbangla24.com : rafid :
  5. SaminRahman@germanbangla24.com : Samin Rahman : Samin Rahman

এক গর্বিত সন্তানের জননী রাজিয়া সুলতানা জলি

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২০
Check for details

রাজিয়া সুলতানা জলি সর্বদা হাস্যউজ্জ্বল, অতিথি পরায়ন,পরোপকারী ও সদালাপী। বন্ধু মহলে কেও কেও সুপার ওম্যান বলে সম্বোধন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে এমএসসি করে প্রথমে বিআইডিএস (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ) জয়েন করেন পারে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে চাকুরী শুরু করেন। ১৯৯৭ সনে অস্ট্রেলিয়ান ইমিগ্রেশন নিয়ে মেলবোর্নে পাড়ি জমান।আর আসার আগ্রহের বিষয়ে বড় ছেলে আশিকের আগ্রহ বেশি ছিল। তার বড় সন্তান আশিক আহমেদ অস্ট্রেলিয়ান ফাইনান্সিয়ার রিভিউতে ১০০ জন ধনী ব্যক্তির মধ্যে ২৫ তম ও বাঙালিদের মধ্যে এ পর্যম্ত তিনি প্রথম একজন সফল ব্যক্তি। ১৯৯৭ থেকে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী।

জার্মান বাংলা : আপনার গ্রামের বাড়ি এবং আপনার ছেলের আশিকের লেখাপড়া বেড়ে ওঠা সম্পর্কে যদি বলতেন।
রাজিয়া সুলতানা জলি : আমাদের গ্রামের বাড়ি রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ।কিন্তু আমাদের শৈশব ও লেখাপড়া শুরু হয়েছে ঢাকাতে।আমরা ছিলাম আর বোন। চার বোনের মধ্যে তিন জন ছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আর এক বোন সলিমুল্লাহ মেডিক্যালে। আমার বাবা ও মা অসম্ভব গুনি মানুষ ছিলেন। বিশেষকরে আমার বাবা ছিলেন বুদ্ধিমান। আমরা বোন গুলো ছিলাম চমৎকার চেহারার অধিকারী বিয়ের সম্বন্ধ আসতো কিন্তু আমার বাবা ছোট বেলায় বিয়ে না দিয়ে আমাদের উচ্চ শিক্ষিত করেছেন। আর আমার বড় ছেলে আশিকের আচরণ অনেকটা আমার বাবার মতন। আমার বাবার মধ্যে আশিকের একটা প্রতিচ্ছবি দেখতে পেতাম। আশিক জন্মগ্রহণের পর চার বছর পর্যন্ত সে তার নানী ও আমার বোনের কাছে বড় হতে থাকে। বাংলাদেশ ধান গবেষণায় চাকরি করার কারণে আমাকে কয়েকবার দেশের বাইরে যেতে হয়। তাই ছোট বেলায় আশিক জয়দেবপুর তার শৈশব ও লেখাপড়ার হাতেখড়ি শুরু করতে হয়।

জার্মান বাংলা : আপনার সন্তান আশিক আহমেদ অস্ট্রেলিয়ায় ১০০জন সম্পদশালীদের মধ্যে ২৫তম হয়েছে। কিভাবে সে এই সফলতা অর্জন করে ধনীদের কাতারে আসলো?

রাজিয়া সুলতানা জলি : ধনী হওয়া বা সম্পদশীল হওয়া আমার কাছে মুখ্য বিষয় নয় বরং আমার ছেলের মেধা ও মেধারবিকাশ কতটা করতে পেরেছে সেটাই মুখ্য বিষয়। তার এই সফলতা এনে দিয়েছে তার মেধা ও কর্ম মূলত সে একটা সফটওয়্যার তৈরি করে। একটু পিছনে যেতে হয় আমি ও আশিকের বাবা দু’জনে ধান গবেষণায় চাকরি শুরু করি। আশিকের বাবা বিভাগীয় প্রধান মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আর আমি ছিলাম সাপোর্ট সার্ভিসের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা।আশিকের জন্মের পরপর অফিসিয়াল কাজে দেশের বাইরে যাওয়ার কারণে ওর মধ্যে একটা অভিমান তৈরি হয়। দেশের বাইরে থেকে আসার পর বিভিন্ন অভিযোগ আর অভিমান করত, তখন আমি ছেলেকে বলতাম, বাবা তুমি ভালো লেখাপড়া করো তাহলে তুমিও দেশের বাইরে যেতে পারবে। মা হিসেবে আমি আশিককে স্বপ্ন দেখাতে ও আকাশটা ছুঁতে শিখিয়েছি এটা আশিক লালন করতে থাকে।

জার্মান বাংলা : আপনার ছেলের পুরো নাম ও তার শৈশবে কেমন ছিল?
রাজিয়া সুলতানা জলি : আমার বড় ছেলের পুরো নাম আশিক আহমেদ। ডাকনাম আদনান। চঞ্চল প্রকৃতির ছিল তবে কথা শুনত ও বুদ্ধিমান ছিল।

জার্মান বাংলা : আপনার অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার শুরুর প্রেক্ষাপট সম্পর্কে যদি বলতেন।
রাজিয়া সুলতানা জলি : ১৯৯৭ সালে আমরা অস্ট্রেলিয়াতে যায়। বাংলাদেশ ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে তখন বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা করার সুযোগ ছিল। আমাদের কিছু সহকর্মী তখন পিএইচডি করার জন্য অস্ট্রেলিয়াতে যায়। পিএইচডি শেষ হওয়ার পর দেশে এসে অনেকে পার্মানেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করে। যাইহোক ঐ সময় অস্ট্রেলিয়া সরকারের একটা গুরুত্বপূর্ণ সার্কুলার ছিল সারা বিশ্ব থেকে কৃষি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নিবে। আমি ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করে বাংলাদেশ ধান গবেষণায় সাপোর্ট সার্ভিসে কাজ শুরু করি। সে কারণে আমি অস্ট্রেলিয়াতে আবেদন করার সুযোগ পায়। একটা পর্যায়ে আমি ভিসা পায় এবং আমার ছেলে সে সময় মাধ্যমিক পরীক্ষা সমাপ্তের মাত্র তিনদিন পর ওকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াতে চলে যায়।

জার্মান বাংলা : অস্ট্রেলিয়াতে আপনার ছেলের লেখাপড়া, সফটওয়্যার তৈরি ও তার সফলতার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে যদি বলতেন।
রাজিয়া সুলতানা জলি : ১৯৯৭ সালে আমরা প্রথমে অস্ট্রেলিয়াতে যাওয়ার পর কঠিন একটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হই।তখন মনে মনে ভাবতাম আশিককে বলতাম জীবনে দাঁড়াতে হলে কষ্ট করতে হবে জীবনের শুরুতে যদি কেউ সংগ্রাম করে তাহলে সফলতা লাভ করা যায়।
আশিক মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করে কিন্তু অস্ট্রেলিয়া সরকারের কিছু নিয়মের কারণে তাকে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সুযোগ পেতে প্রথমে সমস্যা হয়। আশিক কে ছয় মাসের একটা ইংলিশ কোর্স করার পরামর্শ দেয়। অন্যদিকে আশিক অধ্যক্ষের কাছে ক্লাসের পিছনে বসে ক্লাস করার সুযোগ চাই। আশিক ধীরে ধীরে ক্লাসে ভালো রেজাল্ট করতে থাকে এবং এক পর্যায়ে সে ভর্তি হওয়ার জন্য অধ্যক্ষের অনুরোধ করে। অধ্যক্ষ আশিকের মেধায় সন্তুষ্ট হলেন এবং ভর্তি হওয়া ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দেন। আশিক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করে। আশিকের কলেজের সিরিমনিতে আমি ছিলাম ওই সময় অধ্যক্ষ ড.পল সকলের সামনে বলেছিলেন, একদিন তুমি অস্ট্রেলিয়ার ডিপুটি মিনিস্টার হবে। ঐ সময় আশিক অধ্যক্ষে বলেছিলেন, স্যার আপনি যদি প্রাইমিনিস্টার হন তাহলে আমি ডিপুটি মিনিস্টার হব। দিনটি এখনো আমার চোখের সামনে ভাসে।অস্ট্রেলিয়ার মাত্র দু’বছরে পড়ে মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটি তে ভর্তির সুযোগ পায় ও উচ্চ শিক্ষা সমাপ্ত করে।

জার্মান বাংলা : আপনার ছেলে সবসময় বলে আমার সফলতার পিছনে আমার মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি।

রাজিয়া সুলতানা জলি : আমার দুই ছেলে। ছোট ছেলে আসমীদ আহমেদ ইমরান আর বড় ছেলে আশিক আহমেদ আদনান। আশিক তার বন্ধু মহলে সব সময় আমার প্রশংসা করত।

আমার ছোট ছেলে সাধারণ একটা স্কুল থেকে লেখাপড়া করেছে কিন্তু ৯৭ শতাংশের উপরে নাম্বার নিয়ে সে মাধ্যমিক সম্পূর্ণ করে পরে বাণিজ্য অনুষদের ফাইনান্স থেকে মাস্টার্স শেষ করে। পরবর্তীতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম একটা ফার্মে কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করে।অবশ্য আমার ছোট ছেলের একটা চমৎকার সুযোগ আছে অস্ট্রেলিয়া সরকারের একটা টিম ইংল্যান্ডে কমনওয়েলথ গেমসে সিলেক্ট করে এবং এক বছরের জন্য ইংল্যান্ডের চলে যায়। বর্তমানে সে অস্ট্রেলিয়ার ডেভানডল কোম্পানিতে ফাইনান্সিয়াল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত রয়েছে। আর আমার বড় ছেলে সুন্দর করে কথা বলে, মানুষের সাথে মিশতে পারে, অমায়িক ভদ্র।

জার্মান বাংলা : আশিক আহমেদের এর এই সাফল্য পুরোটাই নাকি আপনার।
রাজিয়া সুলতানা জলি : আমি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি। আমি যেভাবে দুটি সন্তানকে মানুষ করতে চেয়েছি সেভাবে পেরেছি। আমি আশিকের মধ্যে সংগ্রামের একটা দিক লক্ষ্য করেছি। ছোটবেলা থেকেই আশিক চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করে। তার ভেতরে অদম্য চেষ্টা ছিল ফলে এই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। আজ পৃথিবীর এক লক্ষ চুরাশি হাজার প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নাসার মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠান আসিফের তৈরি সফটওয়্যার ব্যবহার করছে এটা বড় অবদান এখানে অর্থটা মুখ্য বিষয় নয়।

জার্মান বাংলা : একজন মা হিসাবে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও বাঙালি মায়েদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতেন।

রাজিয়া সুলতানা জলি : আজকাল দেখা যায় অধিকাংশ মায়েরা সন্তানদের জন্য নানামুখী কোচিংয়ে দেন কিন্তু আমি সেটা না করে আমি নিজে গাইডেন্স দিয়েছি। বলেছি তোমাকে পড়তে হবে আরও অনেক বেশি জানতে হবে। আসলে আশিকের মধ্যে আমি তৈরী করেছিলাম সৃষ্টিশীলতা এটাই তাকে বেশি কাজে দিয়েছে। বাচ্চাদেরকে নিজেদের মত চিন্তা করার সুযোগ দিতে হবে। অথচ বাচ্চাদেরকে একটা নয় বরং একাধিক টিউটর ও কোচিং দেওয়া হয় ফলে তাদের মধ্যে চিন্তার স্বাধীনতা ও প্রসারতা হ্রাস পাচ্ছে সুতরাং তাদের স্বাধীনতা একটা জায়গা দিতে হবে।
আশিকের শিক্ষা ও জ্ঞানের বিকাশ কিন্তু বাংলাদেশ। আসিফ সুযোগ পেয়েছে তাই অস্ট্রেলিয়াতে এসেছে। আমি বলব আশিক যেন দেশের জন্য কিছু করে, বাংলাদেশকে জানো না ভুলে যায়।

জার্মান বাংলা : বর্তমান বাংলাদেশের উন্নয়ন বিষয়টাকে কিভাবে দেখছেন?

রাজিয়া সুলতানা জলি : আমাদের সৎ হতে হবে। আমাদের দেশের মত এত সুন্দর দেশ নেই। একটা সম্ভাবনাময় দেশ। আমাদের প্রধানমন্ত্রী মাঝে মাঝে চমৎকার কথা বলেন আমরা উৎসাহিত হই।মাঝে মাঝে আমার মনে হয়, আমাদের দেশে যদি আইনের শাসন থাকতো, আমরা যদি আর একটু সততার সাথে কাজ করতে পারতাম, নিজেদের দায়িত্ব যদি একটু পালন করতে পারতাম, তাহলে আমাদেরকে কে খুঁজে পায়। আমরা আরো অনেক সমৃদ্ধ হতাম, চেষ্টা করলে আমরা সবই পারব। এটাই আমার প্রত্যাশা।

জার্মান বাংলা : আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ
রাজিয়া সুলতানা জলি : আপনাকেও ধন্যবাদ আমাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ফেসবুকে জার্মানবাংলা২৪

বিজ্ঞাপন

Check for details