1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. fatama.ruma007@gmail.com : Fatama Rahman Ruma : Fatama Rahman Ruma
  3. anikbd@germanbangla24.com : Editor : Editor
  4. rafid@germanbangla24.com : rafid :
  5. SaminRahman@germanbangla24.com : Samin Rahman : Samin Rahman

‘আরোপিত এই নগরে’ : জার্মানবাংলাকে বিনয় দত্তের সাক্ষাৎকার

শামস রহমান
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
Check for details

পাঠক নন্দিত ‘অমৃতায়ন’ উপন্যাসের তরুণ কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক বিনয় দত্তের সমকালীন প্রেক্ষাপটের ওপর আরেকটি নতুন বই ‘আরোপিত এই নগরে’ এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশ পাচ্ছে। বইটিতে রয়েছে সমসাময়িক ৯টি বিষয়ের ওপর ১৬টি প্রবন্ধের সংকলন। পুথিনিলয় প্রকাশনী বইটি প্রকাশ করছে। বইটি পাওয়া যাবে মেলা প্রাঙ্গণের দুই নম্বর প্যাভিলিয়নে। ‘আরোপিত এই নগরে’ সম্পর্কে জার্মানবাংলা২৪ডটকম-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে খোলামেলা কথা বলেছেন কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক বিনয় দত্ত। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন শামস রহমান।

প্রশ্ন: “আরোপিত এই নগরে” বইটি কী উদ্দেশ্যে লিখলেন। যদি জার্মানবাংলা২৪ডটকম এর পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলেন।

উত্তর : “আরোপিত এই নগরে” বইটি মূলত সমকালের বই। অর্থাৎ এই সময়ে যা চলছে সেই সময়টা ভালো, নাকি মন্দ, সময়ের সাথে আমি বা আপনি কি তাল মেলাতে পারছি, নাকি সময় আমাদের হারিয়ে দিচ্ছে এইরম নানা প্রশ্ন চলে আসে। সেইসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছি “আরোপিত এই নগরে” বইটিতে।
আমি তো মহাকাল দেখিনি, সমকাল দেখেছি। তাই সময়ের কাল বা ঘটনাকে ফ্রেমে বেঁধেছি “আরোপিত এই নগরে” এর মাধ্যমে। “আরোপিত এই নগরে” বইটি গল্প, উপন্যাস বা শক্তপোক্ত প্রবন্ধের বই নয়। এটিতে মূলত আমি গত এক-দেড় বছর সময়ের কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনাকে আয়েশী ঢঙে জানানোর চেষ্টা করেছি। বইটিকে সমকালীন কথনমালার গ্রন্থ বললে ভুল বলা হবে না।
বইটির প্রতিটি লেখায় আমি একটা নিরেট গল্প বলতে এবং বুনতে চেয়েছি। এই চাওয়াটা ইচ্ছেকৃত। ঘটনাগুলো খুবই গম্ভীর, গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর কিন্তু আমি সহজ সরলভাবে, গল্প বলার ছলে তুলে ধরেছি। যেহেতু আমি গল্পের মানুষ তাই গল্প বলাটাই ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য। গল্প বলতে বলতে আমি বাস্তবতার বর্ণনা দিয়েছি। গল্প যেহেতু নিজ গতিতে চলে, আমার লেখাগুলোও নিজ গতিতে বিস্তার লাভ করেছে।
ঘটনা জানানোর পাশাপাশি আরেকটি কাজ করেছি, তা হলো মনুষ্য বোধের দরজায় ধাক্কা দিয়েছি। কাজটি আমি সচেতনভাবেই করেছি। যাতে সু-বোধ জেগে উঠে।
বইটি মূলত সময়ের দলিল। আর সময়ের কথা সময়েই বলতে হয়। তাই আমি সময়ের মধ্যেই, প্রকাশিত লেখাগুলো পাঠকদের অনুরোধে বই প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছি।
আরেকটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ধরনের বই যারা প্রকাশ করেন তারা পত্রিকায় ছাপা হওয়ার লেখাটি যুক্ত করে বই প্রকাশ করে ফেলেন। আমি এই জায়গা থেকে একদমই আলাদা। আমার কাছে মনে হয়েছে, একজন পাঠক অর্থের বিনিময়ে আমার বইটি কিনছেন। বইটিতে নতুন কোনো বিষয় না থাকলে তিনি কেন কিনবেন? সেই নতুন বিষয় জানানোর জন্য আমি একটি কাজ করেছি। তা হল, প্রতিটি লেখা কি কারণে আমি লিখেছি বা লেখা পরবর্তী আমার মস্তিষ্কে কি ধরনের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চলছে তা আমি পাঠকদের জানিয়েছি। এতে করে একজন পাঠক যখন মূলভাবনাটা জেনে লেখাটি পড়বেন তখন তিনি আসল বিষয়টা উপলব্ধি করতে পারবেন। এই কাজটি কেউই করেনা। আমি করেছি। কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে, পাঠকদের প্রতি আরো বেশি মাত্রায় দায়িত্বশীল হওয়া উচিত, সেই ভাবনা থেকে আমি এই সংযোজনটি করেছি। আশা করি, পাঠক পড়ে আনন্দ পাবেন, ভাববেন, অন্যকে ভাবতে সহযোগিতা করবেন।

প্রশ্ন: আপনার বইটিতে শিক্ষা-ছাত্র রাজনীতি, নারীদের বিষয়, সমাজ-সংস্কৃতির নিয়ে নানা উৎকণ্ঠাসহ অর্থনীতির ওপরও আলোকপাত করেছেন। একজন সাহিত্যিক হিসেবে যদি এ বিষয়ে কিছু বলতেন।

উত্তর : একজন সাহিত্যিকের সবচেয়ে বড় কাজ হলো তার লেখনীর মাধ্যমে সমাজকে তুলে ধরা বা সমাজের চালচিত্র তুলে আনা। তা যেকোনো প্রক্রিয়ায় হতে পারে, ধরুন ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ বা ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ বা ধরুন ‘জলপুত্র’ এইসব উপন্যাসের মাধ্যমে আমরা জেলেদের জীবন ব্যবস্থাকে দেখতে পাই, তাদের সুখ, দুঃখ, আনন্দ, বেদনা ও যৌনতা সম্পর্কে জানতে পারি। এই উপন্যাসগুলো না লেখা হলে আমরা তাদের সংকটটা জানতে পারতাম না।
এখন এই সময়ে যে সমস্যাটা আমাদের খেয়ে ফেলছে সেই সমস্যা বা তার সমাধান নিয়ে যদি একজন সাহিত্যিক কথা না বলে তাহলে তিনি কি নিয়ে কথা বলবেন? আমি বলছি না, সবাইকে কথা বলতেই হবে।
একজন সাহিত্যিকের কলমে প্রেম যেমন আসবে তেমন বিদ্রুপ-বিদ্রোহও আসবে। তার সাহিত্যে সমাজের উচ্চবর্ণের চরিত্র যেমন আসবে তেমনি নিন্মশ্রেণিপেশার মুচি, মেথর, জেলে, বেশ্যা এইসবও আসবে। এদের সবাইকে নিয়েই তো আমাদের সমাজ। এই সমাজে একজন মেথরের প্রয়োজন যেমন আছে তেমনি একজন ক্যাপিটালিস্টের প্রয়োজনও আছে। কাউকে বাদ দিয়ে এই সমাজ একা চলতে পারবে না। সমাজ যখন চলবে তখন সমাজে সংকট তৈরি হবে। আর সংকট ও সমাধান নিয়ে কথা বলা আমাদের কাজ। এইসকল কারণে আমার মনে হয়েছে শিক্ষা-ছাত্র রাজনীতি, নারী-শিশু, সমাজ-সংস্কৃতির বিষয় আমি লিখেছি। এইসব বিষয়ে সংকট ও সমাধান নিয়ে কথা বলেছি।
সবচেয়ে বড় কথা হল, লেখকরা যত এই সব বিষয় নিয়ে লিখবেন তত সমাজটা ঋদ্ধ হবে। অশিক্ষা দূর হবে, সাম্প্রদায়িকতা মানুষের মনে আঘাত হানবে না। আমি তো মনে করি সবারই এইসব বিষয় নিয়ে সচেতন হওয়া জরুরী।

প্রশ্ন: আপনি একটি প্রশ্ন রেখেছেন ‘দুর্নীতি নাকি জিডিপি’, কে এগিয়ে? এ বিষয়ে কিছু বলুন?

উত্তর : প্রশ্নটা আসলে আমি রাখিনি। প্রশ্নটা রেখেছে সমাজ। সমাজের নিপীড়িত মানুষ, অবহেলিত জনগণ, দরিদ্র জনগোষ্ঠী। আমি শুধু তাদের কথাটা তুলে এনেছি।
একটি দেশে একদিকে জিডিপি বাড়ছে, আরেকদিকে সেই টাকা ঘরে আসতে না আসতেই তা দুর্নীতিবাজদের কবলে পড়ে যাচ্ছে। এইটা যদি এই একটি দেশের অর্থনীতির অবস্থা হয় তাহলে সেই দেশের অর্থনীতি টিকবে কিভাবে?
ধরুন, আপনি একটি গাছ রোপন করলেন। সেই গাছে আপনি সার দিবেন না, আলো-বাতাসের ব্যবস্থা করবেন না, সেই গাছ আপনাকে ফল দিবে? কখনোই না।
যে প্রশ্নটি আপনি করেছেন, সেই প্রশ্নের উত্তর আমি সেই লেখায় দিয়েছি। পাঠকরা পড়লেই তা বুঝতে পারবেন।

প্রশ্ন : আপনার “আরোপিত এই নগরে” বইয়ে দুঃখবোধ, অতৃপ্তি এবং গ্লানিকে ছাপিয়ে এক ধরনের পরিবর্তনের আকাঙ্খা প্রকাশ পেয়েছে। তবে এই পরিবর্তনের আকাঙ্খা কিভাবে বাস্তবায়ন হবে বলে আপনি মনে করেন?

উত্তর : পরিবর্তন আনা বা পরিবর্তন সাধন করে সহজ বিষয় নয়। আবার সহজ বটেও। যেমন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাট আন্দোলন নিয়ে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছিল। সরকার বুঝতে পেরেছে এবং ভ্যাট তুলে নিয়েছে। আবার নিরাপদ সড়ক আন্দোলন আমাদের কাছে একটি দারুণ শিক্ষণীয় আন্দোলন। এইযে আন্দোলনগুলো হলো, কেন হলো বলতে পারেন? আন্দোলন এই কারণেই হয়েছে, যেইখানে একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর চাহিদাকে অগ্রাহ্য করা হচ্ছে বা তাদের কথা মানা হচ্ছে না তখন আন্দোলন হয়।
আমি আমার লেখায় দুঃখবোধ, হতাশা, অতৃপ্তির কথা যেমন বলেছি, তেমনি বলেছি সমাধানের কথাও। কোনো সমস্যাই সমাধানের ঊর্ধ্বে নয়। এখন আপনি সমাধান চাইছেন কি না সেটা দেখবার বিষয়।
যেকোনো সংকট সমাধানের জন্য যৌক্তিক জায়গায় যাওয়া প্রয়োজন। যে পক্ষ বাস্তবায়ন করবে তাদের বুঝানো প্রয়োজন। এখন তাদের কে বুঝাবে? আমরা বুঝাবো। আমাদের অল্প স্বল্প কিছু লেখকের কথা যদি না শুনে তাহলে বৃহৎ জনগোষ্ঠী নিয়ে বোঝাতে হবে। এখন বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে বুঝাতে হবে লেখার মাধ্যমে। সেই কাজটিই আমি নিষ্ঠার সাথে করছি।
তো, আমি মনে করি সমাধান আমাদের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকে। সে নিজে নিজে আসে না। তাকে আহবান করতে হয়, সেই আহবান কখন, কিভাবে করছেন সেইটাই দেখবার বিষয়। লিখেছি।

প্রশ্ন : আপনি তো প্রকৌশল বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। কিন্তু বর্তমানে নিজেকে একজন কথাসাহিত্যিক হিসেবে প্রকাশ করতে গেলেন কেন?

উত্তর : একজন কথাসাহিত্যিক বা কবি বা প্রাবন্ধিক হওয়ার জন্য বিষয় সুনির্দিষ্ট বা সুনির্ধারিত কোনো পরিমাপ বা পরিমাপক যন্ত্র নেয়। যে কেউই এই মাধ্যমে আসতে পারবেন। সাহিত্য মাধ্যমে আসতে হলে সবচেয়ে বেশি যেটি জরুরী তা হল বোধ। বোধ না থাকলে লেখা সম্ভব না। আর তার পাশাপাশি শিক্ষাটা অবশ্যই জরুরী। সেই শিক্ষাটা একাডেমিক শিক্ষাও হতে পারে আবার সুশিক্ষাও হতে পারে।
আর এই সময়ের লেখকরা বেশ পরিশ্রমী। তারা পরিশ্রম করে, গবেষণা করে একটি লেখা লেখেন। আমি অন্তত তাই করি। এর বাইরে কিছু মৌসুমী লেখক আছেন, যারা সময়ের পালে হাওয়া দিয়ে বেড়ান। তারা থাকবে ক্ষণিক সময়ের জন্য কিন্তু টিকতে পারবে না।

প্রশ্ন : আপনি তো আপনার “অমৃতায়ন” উপন্যাসের জন্য ‘দিগন্তধারা সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮’পেয়েছেন। এবার নতুন প্রকাশিত বই “আরোপিত এই নগরে” বইটি নিয়ে কেমন প্রত্যাশা করছেন।

উত্তর : সাহিত্যের সবচেয়ে বড় পুরস্কার পাঠকের ভালোবাসা। পাঠক নমস্য। তারা পাঠ করছেন দেখে আমি লিখছি। তাদের ভালো লাগছে বলে আমি লেখার উৎসাহ পাচ্ছি। “অমৃতায়ন” উপন্যাসটি ‘দিগন্তধারা সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮’পেয়েছে এইটা আনন্দের। পুরস্কার সবার ভালো লাগে। আমারও ভালো লাগে। আমি পাঠকের ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। এই ভালোবাসা পেলেই আমার লেখক জীবন স্বার্থক মনে করব।

প্রশ্ন : জার্মানবাংলা২৪ডটকম এর পাঠকদের জন্য কিছু বলুন।

উত্তর : জার্মানবাংলা২৪ডটকম এর পাঠকদের প্রথমেই শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানায়। সাহিত্যের কোনো কাঁটাতার নেই। যদিও প্রতিটি দেশে সীমানা কাঁটাতার আছে। সেই কাঁটাতার ভেদ করে সাহিত্য লুফে নিচ্ছে জার্মানে থাকা বাংলা ভাষাভাষী পাঠক। আপনারা এখন বাংলা ভাষা চর্চা করছেন দেখে বাইরেও কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। তার বদৌলতে সাহিত্যের খবর আপনাদের কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে। তাই আপনাদের বলবো, আপনারা ভালো বই পড়ুন, ভালো সাহিত্যের সাথে থাকুন। ভালো সাহিত্যের সাথে থাকলে, ভালো সাহিত্যিক গড়ে উঠবে। আর ভালো সাহিত্যিক শুধু দেশের নয়, পুরো বিশ্বের সম্পদ। সেই সম্পদ টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের।
পরিশেষে আবারও সাধুবাদ জানায় জার্মানবাংলা২৪ডটকম এর পাঠকদের। বাংলা সাহিত্য পড়ুন, ছড়িয়ে দিন বাংলার ভাষার শক্তিকে।

জার্মানবাংলার পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনাকেও ধন্যবাদ।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ফেসবুকে জার্মানবাংলা২৪

বিজ্ঞাপন

Check for details