1. jashimsarkar@gmail.com : admin :
  2. adminmonir@germanbangla24.com : monir uzzaman : monir uzzaman
  3. fatama.ruma007@gmail.com : Fatama Rahman Ruma : Fatama Rahman
  4. anikbd@germanbangla24.com : SIDDIQUE ANIK : ANIK SIDDIQUE
  5. infi@germanbangla24.com : Hasan Imam Juwel : Hasan Imam Juwel
  6. rafid@germanbangla24.com : rafid :
  7. SaminRahman@germanbangla24.com : Samin Rahman : Samin Rahman
শিরোনাম :
জার্মানির মানহাইমে জমজমাট ঈদ পুনর্মিলনী ও গ্রিল পার্টি লেবাননে শাহ্জালাল প্রবাসী সংগঠনের দ্বশম বর্ষ পূর্তি উদযাপন ও সভাপতিকে বিদায়ী স্বংবর্ধনা করোনা টিকার প্রসঙ্গে ও করোনার তৃতীয় ঢেউ: মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া রাষ্ট্রদূত, জার্মানি বাংলাদেশ জার্মান জাতীয়তাবাদী কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের বনভোজন অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে সেপটি ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে গিয়ে নিহত ২ জামালপুরে ‘বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন’ এর মাক্স বিতরণ করোনা : সখীপুরে লকডাউন বিধিনিষেধ অমান্য করায় জরিমানা করোনা : সাতক্ষীরা পুলিশের মোটরসাইকেল র‌্যালি ও মাস্ক বিতরণ লেবানন বিএনপির সভাপতি বাবু, সম্পাদক আইমান, সাংগঠনিক হাবিব সখীপুরে ‘মুক্তিযুদ্ধের কবিতা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

আদালতে সন্তানের কান্নায় ফের ভালোবাসার জয়

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৫ জুন, ২০১৮
মায়ের সাথে দুই সন্তান
Check for details

জার্মানবাংলা টুয়েন্টিফোর ডটকম: বিবেকের আদালতের চেয়ে বড় আদালত আর কি হতে পারে। বিবেকের আদালতে সব যেন ফিকে হয়ে গেলো। সন্তানের চোখের জলে ভেসে গেলো সকল বিধান। ফের ভালোবাসার জয়। আবার সামাজিক বন্ধনের জয়।

এদিন আদালতে কেতাবি বিচার স্তব্ধ প্রায়। থমকে গেলো আদালত পাড়া। সন্তানের কান্নায় কাঁদলেন বাবা-মা। সে কান্নার রোল ছড়িয়ে গেলো আদালতের আনাচে-কানাচে। কাঁদলেন বিচারক। কাঁদলেন আইনজীবীরাও। আর সে কান্নাতে মিললো ডিভোর্স হয়ে যাওয়া বাবা-মা।

সোমবার (২৫ জুন) দুপুরের ঘটনা। চললো তিন ঘণ্টা। উচ্চ আদালতের ৯ নং এজলাস কক্ষে এমনই এক হৃদয়গ্রাহী ঘটনাপ্রবাহ জাগ্রত করলো বিবেক। যেন সিনেমাকেও হার মানালো।

প্রেম করে বিয়ে। সুখের সংসার। এরই মাঝে পারিবারিক কলহ। তারপর ১৩ বছরের সংসারে বেজে ওঠে বিচ্ছেদের সুর। স্বামী এবং স্ত্রী আলাদা হওয়ার পর থেকে সন্তানেরা ছিল বাবার কাছেই। যদিও মায়ের কাছেও থাকার বিধান আছে সন্তানের। কিন্তু সে বিধান আমলে নেয়নি বাবা। এমনকি মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎও করতে দেয়া হয়নি সন্তানদের।

কিন্তু আদালতের দারস্থ হয়ে সন্তানের মাধ্যমে (ডিভোর্স) বাতিল করে এক হতে চাই এই দম্পতি। বুকের নাড়ি ছেড়া ধন, নিজের ঔরসজাত দুই ছেলে সন্তানকে দেখতে এবং কাছে পেতে মরিয়া মায়ের জয় হলো আজ। দুই সন্তান মায়ের হাত ধরে হাসতে হাসতে মায়ের ঘরে ফিরে গেল।

আদালতে বিচারক ও আইনজীবীর সঙ্গে উপস্থিত বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজনসহ সবাই আবেগে আপ্লুত করে তুলেছিল দুই ছেলে। সবার চোখে ছিল ছল ছল পানি। আদালতের ভেতরে সেই ক্ষণের পরিবেশ ছিল ভারি হয়ে উঠে। সন্তানেরাও যে মা-বাবাকে এমন কড়া শাসন করতে পারে এই ঘটনা না দেখলে কারও বিশ্বাস হওয়ার কথা নয়।

মা-বাবার সঙ্গে পরিবার নিয়ে প্রথমে ঢাকায় বসবাস করলেও ২০১৭ সালের মে’তে বিবাহ বিচ্ছেদ (ডিভোর্স) হওয়ার পর বাবা দুই ছেলেকে ফুফুর কাছে পাঠিয়ে দেন।

এদিকে, বিচ্ছেদ হওয়ার পরে মা’য়ের বসবাস ঢাকার মোহাম্মদপুরে। অন্যদিকে, বাবার ব্যবসার দেখাশোনা করার সুবাদে বসবাস উত্তরায়। আর দুই ছেলেরা চলে যায় তার ফুফুর কাছে মাগুরায়। সেখানে লেখাপড়া করানোর জন্য তাদের দুই ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করা হয়।

হাইকোর্টের নির্দেশনাই আদালতে উপস্থিত হয়ে বাবা-মায়ের সংসার জোড়া লাগাতে ১২ বছরের শিশু ধ্রুব ও ৯ বছরের শিশু লুব্ধ অঝোরে কাঁদছে। তাদের কান্নায় সঙ্গী হন উপস্থিত সবাই। তাইতো তাদের কান্না দেখে এজলাস কক্ষে কাঁদলেন স্বয়ং বিচারপতি ও উপস্থিত শতাধিক আইনজীবী এবং সাংবাদিকরাও।

সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ দৃশ্যের অবতারণা হয়।

জানা গেছে, শিশু দু’টির মা কামরুন্নাহার মল্লিকা রাজশাহীর মেয়ে, বাবা মেহেদী হাসান মাগুরার ছেলে। মল্লিকা ঢাকায় গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে এবং মেহেদী ঢাকা কলেজে পড়েছেন। পড়ালেখা করা অবস্থায় দু’জনের পরিচয়। পরিচয় থেকে প্রেম, অতঃপর দুই পরিবারের সম্মতিতে ২০০২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে।

ঘর আলোকিত করে আসে দু’টি ফুটফুটে সন্তান। মল্লিকা ও মেহেদী দম্পতি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল। ভালোই চলছিল সংসার জীবন। একপর্যায়ে দু’জনের মধ্যে মনমালিন্য ঘটে। পরিণতিতে ২০১৭ সালের ১২ মে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। মেহেদী হাসান স্ত্রীকে তালাক দেয়ার এক সপ্তাহ আগে দুই সন্তানকে গ্রামের বাড়ি মাগুরাতে পাঠিয়ে দেন। শিশু দু’টিকে তাদের ফুফুর তত্ত্বাবধানে মাগুরার জেলা শহরের একটি স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয়া হয়। বাবা ঢাকার উত্তরা থাকলেও তার ব্যক্তিগত গাড়ি সন্তানদের ব্যবহারের জন্য দিয়ে দেন।

মাগুরাতে বড় হচ্ছিল শিশু দু’টি। এই এক বছর মা ও সন্তানের মধ্যে দেখা হয়নি।

মা কামরুন্নাহার মল্লিকার অভিযোগ, সব রকম চেষ্টা করেও শিশু দু’টির ফুফুর কারণে তাদের সঙ্গে দেখা করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত সন্তানদের নিজের হেফাজতে নেয়ার জন্য হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন তিনি।

কামরুন্নাহার মল্লিকা তার দুই সন্তানকে নিজ হেফাজতে নেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে গত ২৯ মে আদালত শিশু দু’টিকে হাইকোর্টে হাজির করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও শিশু দু’টির বাবাকে নির্দেশ দেন। ২৫ জুন তাদের হাজির করতে বলা হয়।

একই সঙ্গে সন্তানকে কেন মা’য়ের হেফাজতে দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। সেই নির্দেশ মোতাবেক শিশু দু’টিকে আজ আদালতে হাজির করে পুলিশ। এছাড়া শিশু দু’টির বাবা-মা, মামা, নানি ও ফুফুসহ আত্মীয়-স্বজনেরা আদালতে হাজির হন।

সকালে এ বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। শুনানির এক পর্যায়ে শিশু দুটির বক্তব্য শুনতে চান আদালত। দুই শিশুর মধ্যে বড়জন সালিম সাদমান ধ্রুব আদালতকে বলেন, আমরা আর কিছু চাই না, বাবা-মাকে একত্রে দেখতে চাই।

শিশু দু’টির বক্তব্য শুনে আদালত ফের আইনজীবীদের বক্তব্য শোনেন। এ সময় মা’য়ের পক্ষের আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতকে বলেন, একটা বছর ধরে মা তার সন্তানকে দেখতে পাচ্ছেন না। আজকে যখন কোর্টে হাজির করা হয়েছে তখনও শিশুর ফুফু মায়ের সঙ্গে কথা বলতে বাধা দিয়েছে। এ সময় তিনি সন্তানদের সঙ্গে মায়ের কথা বলার সুযোগ চান।

পরে আদালতের অনুমতি পেয়ে ছেলেদের কাছে এগিয়ে যেতেই মা দুই ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করেন। এ সময় ছেলেরাও দীর্ঘদিন পর মা’কে পেয়ে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকে। বড় ছেলে তখন হাত বাড়িয়ে বাবাকেও ডাকতে থাকে।

ছেলে বলতে থাকে, বাবা, তুমি এসো। তুমি আমার কাছে এসো। আম্মুকে সরি বলো। এ সময় বাবাও এগিয়ে এলে আদালতের ভেতর এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। বাবা-মা এবং তাদের সন্তানদের একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নার দৃশ্য দেখে বিচারক, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ সবার চোখে পানি চলে আসে। দীর্ঘ এক বছর পর বাবা-মা’কে একসঙ্গে পেয়ে ছেলেদের কান্না সবার বিবেককে নাড়া দেয়।

এ সময় আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারক আবার ওই শিশুদের ডেকে নেন। সঙ্গে মা’কেও কাছে ডাকেন। আদালত বলেন, এ দৃশ্য দেখেও কি আপনাদের মন গলে না? আপনারা কি সন্তানের জন্যও নিজেদের স্বার্থ ত্যাগ করতে পারবেন না? সামনে তাকিয়ে দেখেন, আপনাদের এ দৃশ্য দেখে সবার চোখেই পানি চলে আসছে।

এ সময় আদালতে উভয় পক্ষের আইনজীবীসহ শতাধিক আইনজীবী দাঁড়িয়ে সমস্বরে সন্তানদের বিষয়টি চিন্তা করে বাবা-মা’কে মেনে নেয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে সন্তানদের চাওয়া অনুযায়ী তাদের দাম্পত্য জীবন যাতে বজায় থাকে এ সেরকম একটি আদেশ দেয়ার দাবি জানান।

পরে আদালত দুই শিশু এবং তাদের বাবা-মা, নানি ও ফুফুকে আদালতের এজলাসের কাছে ডেকে নেন। এ সময় একে একে প্রত্যেকের বক্তব্য শোনেন। পরে বিস্তারিত জানতে চেম্বারে ডেকে নিয়ে বাবা ও মাকে।

আদালত আদেশে বলেন, আগামী ৪ জুলাই পর্যন্ত শিশু দু’টি মায়ের হেফাজতে থাকবে। তবে এই সময়ে পিতা শিশু দু’টির দেখাশোনা করার সুযোগ পাবেন। আগামী ৪ জুলাই পরবর্তী দিন ঠিক করে শিশু দু’টিকে হাজির করার নির্দেশ দিয়ে বিষয়টি মূলতবি করেন।

আদালতে শিশু দুটির বাবার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তাপস বল। মায়ের পক্ষে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। ও তার সঙ্গে ছিলেন এ কে এম রিয়াদ সলিমুল্লাহ।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ফেসবুকে জার্মানবাংলা২৪

বিজ্ঞাপন

Check for details