‘আত্মমানবতার সেবায় কাজ করে চলছে সিদ্দিক ভাই’

Check for details

মো: আরিফ ঢালী,বাগেরহাট প্রতিনিধি: নাম সিদ্দিকুর রহমান। ডাক নাম সিদ্দিক। লোকে তাকে সিদ্দিক ভাই বলে ডাকে। বাগেরহাট সদর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে তার বাড়ি। সড়ক নিয়ন্ত্রনে আত্মমানবতায় নিয়োজিত তিনি। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার কাজ।

এলাকাবাসী জানান, খুলনা-মংলা মহাসড়ক সংলগ্ন চুলকাঠি বাজার। বাজারের বাস স্ট্যান্ড ও সৈয়দপুর বটতলা স্ট্যান্ডে প্রতিনিয়তই সড়ক দুর্ঘটনা হয়ে আসছে। চুলকাঠি তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ কয়েক বছর ধরে বাজারের স্ট্যান্ড দুইটিতে যানজটমুক্ত এবং ভ্যান-ইজিবাইকমুক্ত করতে কাজ করেছে। পুলিশের কড়াকড়িতে কয়েকদিন যানজটমুক্ত থাকলেও কয়েকদিন পর আবারও সেই পূর্বের অবস্থা। সর্বশেষ সৈয়দপুর বটতলা স্ট্যান্ডে সুগন্ধি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক গৌরাংগ বিহারী দাশ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর থেকে বাজার কমিটি, চুলকাঠি পুলিশ তদন্তকেন্দ্র ও সচেতন এলাকাবাসী স্ট্যান্ড দুইটিকে যানজটমুক্ত করার কথা ভাবলেও তাদের পরিকল্পনা বাস্তবে কোন কাজে আসেনি। বাজার কমিটির লোকজন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সহ সচেতন ব্যক্তিবর্গ ৬ হাজার টাকা মাসিক চুক্তিতে এই সিদ্দিক ভাইকে ভ্যান-ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়োগ দিলেও একমাস পর তাকে ৩ হাজার টাকা দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয় বাজার কমিটি থেকে তাকে বেতন দেওয়া সম্ভব হবে না।

বিষয়টি এলাকার বিশিষ্ট শিল্পপতি লিটন শিকদারের কাছে উত্থাপিত হলে তিনি বাজার কমিটি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রনে নিয়োগকৃত সিদ্দিক ভাইয়ের ধার্যকৃত টাকার অর্ধেক অর্থাৎ মাসিক ৩ হাজার টাকা দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন এবং বাকি ৩ হাজার টাকা বাজার কমিটিকে দেবার কথা বলেন। মাস শেষ হবার আগেই শিল্পপতি লিটন শিকদারের নির্ধারিত ৩ হাজার টাকা তিনি পেলেও তার ভাগ্যে মেলেনি বাজার কমিটি বা অন্য আর কোন টাকা।

কথা হয় সিদ্দিক ভাইয়ের সাথে। তিনি জানান, লিটন শিকদার এ কাজের জন্য তাকে দুই সেট ড্রেস এবং জুতা কিনে দিয়েছেন। তিনিই প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা তাকে পাঠিয়ে দেন। ৩ হাজার টাকায় তার পরিবার না চললেও তিনি সেবামুলক কাজটি করেই চলেছেন। তিনি এ কাজে নিয়োগ হবার পর বাজার সংলগ্ন মহাসড়কে আর কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও জানান, এ ধরনের সেবামুলক কাজ করে তিনি আনন্দ পাচ্ছেন। মানতবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করতে পারায় তিনি গর্ববোধ করেন। তবে বাজার কমিটি বা অন্য কোন উৎস্য থেকে আর কিছু টাকা পেলে তার জন্য ভাল হতো।

বাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক মো: মনিরুজ্জামান ফকির জানান, তাকে নিয়েগ দেওয়া বা বেতন দেওয়া কথাবার্তার সময় তিনি ছিলেন না। তবে তিনি বিষয়টি কমবেশি জানেন। তিনি জানান, বাজারের দোকানদাররা এখন ডিউটি দেন অর্থাৎ দোকানদারদের কাছ থেকে ডিউটির টাকা নেওয়া হয়না। তাই বাজারের টাকার কোন উৎস্য নেই। সিদ্দিক ভাইয়ের বিষয়টি বাজারের আগামী মিটিং এ আলোচনা করা হবে। এদিকে বাজারের কয়েকজন লোকজন বলছে, সিদ্দিক ভাই যে সেবা দিচ্ছে তা’ টাকায় মাপা যায় না। তাছাড়া তাকে নিয়োগ দেবার পর ষ্ট্যান্ডে এখন জানযট থাকছে না। যদি বাজারের দোকানদাররা তাকে মাসে ১০ টাকা করেও দেয়, তাহলে তার চলতে অসুবিধা হয়না। এ কাজে বাজার কমিটিকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। শিল্পপতি লিটন শিকদার জানান, এলাকার উন্নয়নমুলক কাজে সব সময় তার অংশগ্রহণ থাকবে।

Facebook Comments