অবিরাম বর্ষনে প্লাবিত নেত্রকোনার নিন্মাঞ্চল

Check for details

সোহান আহম্মেদ,প্রতিনিধি নেত্রকোনা:টানা ৫ দিনের অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার নদনদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে নিন্মাঞ্চল।নদীর পানি উপচে নেত্রকোনার বিভিন্ন স্থানে ডুবে যাচ্ছে মাঠঘাটসহ মানুষের বসতবাড়ি। পানিতে ছেয়ে যাচ্ছে স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
বিশেষত জেলার কলমাকান্দা, দুর্গাপুর ও হাওরখ্যাত খালিয়াজুরী উপজেলায় পাহাড়ি ঢল আর বৃষ্টিতে পানির পরিমাণ বেড়েই চলছে। শান্ত নদী আর টলটলে জলের হাওরগুলো ধরেছে ভিন্ন রূপ, উথাল-পাতাল আর অথৈ-উচ্ছ্বাস।

এসব উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের প্রায় কয়েক শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার পরিবার। জীবন বাঁচাতে তারা নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে ইউনিয়ন পরিষদসহ উচু এলাকায় আশ্রয় নিচ্ছেন।

দুর্যোগ কবলিত মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে কাজ করছে জেলা-উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পৌঁছে দিচ্ছে সকলের হাতে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তার।

দুর্গাপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা খানম জানান, পাহাড়ি ঢল আর অবিরত বর্ষণে উপজেলার প্রধান নদী সোমেশ্বরীসহ অন্যান্য নদীগুলোর পানি বেড়ে যায়। এতে গাঁওকান্দিয়া, কুল্লগড়া, কাকৈরগড়া ও বিরিশিরি ইউনিয়নের অর্ধশত টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে যায়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েনকয়েক শতাধিক পরিবার। পরে তাদেরকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ বিভিন্ন উচু স্থানে আশ্রয় দেয়া হয়। বন্যা দুর্গত মানুষদের মাঝে ১০ মেট্রিক চাল ও ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরন করা হয়েছে। এদিকে খালিয়াজুরী উপজেলার বাসিন্দা অমিতাভ ও রাশেদুল জানান, হাওরে অল্পসময়ে প্রচুর পরিমাণে পানি বেড়েছে। অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকার বিভিন্ন গ্রামে পানি ঢুকতে শুর করেছে। বন্যা আতঙ্কে চরম দুশ্চিন্তায় সময় পার করছেন হাওরবাসী।

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির হোসেন জানান, উপজেলার সবকটি ইউনিয়নের সিংহভাগ বাড়িঘরসহ হাট-বাজার ও রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে, বন্যার্তদের শুকনো খাবার সরবরাহ, মেডিকেল টিম গঠন ও উপজেলায় কন্ট্রোল রুম স্থাপনসহ সবধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। বারহাট্টা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা ইয়াসমিন জানান, পানিতে উপজেলার রায়পুর, আসমা ও বাউসী ইউনিয়নে অর্ধশত গ্রাােমের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তাদের শুকনো খাবার দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপদে রাখার চেষ্টা চলছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম জানান, বন্যা কবলিত হওয়া কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলায় ২২ মেট্রিকটন চাল, ৬০০ প্যাকেট শুকনো খবার বিতরন করা হয়েছে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরীর কাজ চলছে। সবগুলো উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থে সংখ্যা বের করে সুবিধা-সহযোগিতার পরিমাণ বাড়ানো হবে। জেলার উল্লেখযোগ্য নদী সোমেশ্বরীর পানি কমে আসলেও কংস, ধনু ও উব্দাখালি নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

Facebook Comments